চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

উপাচার্যের চা-চক্র পণ্ড, ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলার অভিযোগে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন

ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে শিক্ষার্থীদের ৬ দফা দাবিতে আন্দোলন

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজন করা বৈকালিক চা-চক্র ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শিক্ষার্থীদের বাধার মুখে পণ্ড হয়ে গেছে। অনুষ্ঠান করতে না পেরে উপাচার্য তাদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলে গালি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করে শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে ৬ দফা দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন।

বিজ্ঞাপন

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও তাদের পরিবার এবং বরিশাল নগরীর বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ২৬ মার্চ বিকালে বৈকালিক চা-চক্র ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানায়। সেখানে শিক্ষার্থীদের আমন্ত্রণ না করার প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয় গেটে অবস্থান নেন তারা। এতে অতিথিরা ফিরে যান।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অনুষ্ঠান করতে না পেরে উপাচার্য তাদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলে গালি দিয়েছেন। এখন উপাচার্যকে তার কথা প্রত্যাহার করে তাদের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে বলে দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনকারীরা ছাত্রসংসদ নির্বাচনসহ মোট ৬ দফা দাবি জানিয়ে একাডেমিক ভবনে তালা মেরে আন্দোলন করছেন।উপাচার্য-স্বাধীনতা দিবস

বিজ্ঞাপন

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এস এম ইমামুল হক শিক্ষার্থীদের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, স্বাধীনতা দিবসসহ সব জাতীয় দিবসে প্রত্যেকটি শিক্ষার্থী হলে বিশেষ খাবারের আয়োজন করা হয়। এবারও হয়েছিল।

‘আর আমি যে অনুষ্ঠানটা করেছিলাম সেটা মূলত শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের পরিবারসহ একটি বৈকালিক চা-চক্রের আয়োজন করেছিলাম। সেখানে ডিনার বা বুফে কিছুই ছিল না। এটা সম্পূর্ণ অসত্য। একজন উপাচার্য হিসেবে আমি মনে করি, জাতীয় দিবসে এ ধরনেরেআয়োজন করা যায় এবং আমি করে আসছি গত কয়েক বছর ধরে,’ বলেন তিনি।

উপাচার্য-স্বাধীনতা দিবস
ড. এস এম ইমামুল হক

‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে উপাচার্য বলেন, ‘যারা স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান পণ্ড করে, তাদের উদ্দেশ্যে বলেছি যে, তারা স্বাধীনতার পক্ষের লোক না রাজাকারের পক্ষের লোক। আমি আমার শিক্ষার্থীদের ঢালাওভাবে রাজাকারের বাচ্চা বলিনি। কারণ আমি বলতে পারি না কথাটি। এখানে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান আছে, স্বাধীনতার পক্ষের সন্তানরা আছে, বিভিন্ন সংগঠনের ছেলেমেয়েরা আছে যারা স্বাধীনতার পক্ষের।’

আন্দোলনের নামে একটি মহল বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ অস্থিতিশীল করার অভিযোগ আনেন উপাচার্য।