‘উপজেলায় সকল দপ্তর প্রধানদের মতামত নিলেই সঠিক চিত্র বোঝা যেত’

‘ইউএনওদের পাত্তা দেন না ওসিরা’ শিরোনামে যে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে তাতে সংবাদটিতে উপজেলা প্রশাসনের সঠিক চিত্র ফুটে উঠেনি মনে করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) জাহাঙ্গীর আলম।

তিনি বলেন, উপজেলায় সকল দপ্তর প্রধানদের মতামত নিলেই উপজেলার সঠিক চিত্র বোঝা যেত। শুধু পুলিশকে উদ্দেশ্য করে লেখা অত্যন্ত আপত্তিকর বিষয়।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (কোয়ার্টার মাস্টার – পিওএম) তার ফেসবুক পোস্টে লিখেন, একজন পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে আমার মনে হয়েছে, ‘ইউএনওদের পাওা দেন না ওসিরা’ শিরোনামে যে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে এবং পুরো সংবাদে পুলিশকে একটি ভিন্ন চোখে দেখে যে বিষয়গুলো উপস্থাপন করা হয়েছে তাতে সংবাদটিতে উপজেলা প্রশাসনের সঠিক চিত্র ফুটে উঠেনি।

উপজেলায় বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডার ছাড়াও বিসিএস (কৃষি), বিসিএস (মৎস্য), বিসিএস (প্রাণিসম্পদ), বিসিএস (স্বাস্থ্য) ও বিসিএস (শিক্ষা) সহ আরো অনেক সরকারি দপ্তর রয়েছে। উপজেলায় সকল দপ্তর প্রধানদের মতামত নিলেই উপজেলার সঠিক চিত্র বোঝা যেত। শুধু পুলিশকে উদ্দেশ্য করে লেখা অত্যন্ত আপত্তিকর বিষয়।

অথচ দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে বলেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল বাংলাদেশ অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলছে। বাংলাদেশ পুলিশের একজন গর্বিত সদস্য হিসেবে বলতে চাই, মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ পুলিশের সাহসী ভূমিকা এবং দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে করোনা মহামারী মোকাবেলায় সম্মুখ যোদ্ধা হিসেবে অকুতোভয় পুলিশ সদস্যদের এবারের যুদ্ধেও আবারো মানবিক ও অভাবনীয় পেশাদারি দায়িত্ব জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেছে ও সাহস যোগিয়েছে।

সংবিধানের নবম ভাগে বাংলাদেশের কর্মবিভাগ এর অনুচ্ছেদ-১৩৩ হতে অনুচ্ছেদ-১৪১ পর্যন্ত নিয়োগ ও কর্মের শর্তাবলীসহ নানা বিষয় উল্লেখপূর্বক প্রজাতন্ত্রের কর্মের শৃঙ্খলামূলক বিষয়াদি বলা হয়েছে। এছাড়াও চাকরির বিধানাবলীতেও সময়ে সময়ে সংযোজন ও বিয়োজনের মাধ্যমে সংশোধিত বিধানাবলীতে সরকারী কর্মচারীদের বিষয়ে বলা হয়েছে।

সুতরাং সরকারি চাকুরীতে ক্যাডার বৈষম্য, শ্রেষ্ঠত্ব দেখানো, বিশেষ সরকারি সুযোগ- সুবিধা গ্রহণ, পরস্পরের প্রতি সম্মানবোধের জায়গায় প্রশ্নবিদ্ধ আচরণ এবং খবরদারির কোন সুযোগ নেই। এই সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, ইউএনও অনেক জুনিয়র, উপজেলার অন্যান্য অনেক বিসিএস কর্মকর্তাদের চেয়ে।

অথচ তারা জুনিয়র হয়েও সমন্বয় ও প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন পাশাপাশি কখনো ‘সাহেব’ বলে সিনিয়র কর্মকর্তাদের সম্বোধন, কখনো ভাববাচ্যে, আবার কখনো সিনিয়র কর্মকর্তাদের সাথে ক্ষমতা ও শ্রেষ্ঠত্ব দেখানোর মাধ্যমে বিব্রত করছেন।

অথচ শুধু পুলিশকে উদ্দেশ্য করে এই সংবাদ প্রকাশ কতটুকু বিশ্লেষণধর্মী তা নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন থাকে? ইউএনও উপজেলার অন্যান্য অনেক বিসিএস কর্মকর্তাগণের চেয়ে অনেক জুনিয়র বিসিএস কর্মকর্তা হয়েও উপজেলায় নির্ধারিত বাংলোতে থাকছেন, নির্ধারিত গাড়িতে চড়ছেন এখন আবার সশস্ত্র আনসার পেয়েছেন তাহলে অন্যান্য বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তাগণের সাথে কেন বৈষম্য হবে?

সে অনুযায়ী উপজেলায় সকল বিসিএস কর্মকর্তাগণের বাংলো থাকবে, গাড়ি থাকবে, সাথে সশস্ত্র আনসার থাকবে, সবার সাথে সবার পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সম্মানবোধ থাকবে। সবাই সরকারি কর্মচারী, আইন অনুযায়ী সবাই সবার দায়িত্ব পালন করবেন, কেউ কোন বিশেষ সুযোগ সুবিধা, বিশেষ ক্ষমতা ও শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে খবরদারি করবেন না।

আমি মনে করি, মুজিববর্ষে সকল ক্যাডারদের মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য দূর হবে, সবাই সবার দায়িত্ব সম্মান নিয়ে পালন করবেন। কাউকে উদ্দেশ্য করে কিছু না বলে, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও দায়িত্ববোধ থেকে সরকারি কর্মচারী হিসেবে দেশসেবায় অদম্য গতিতে আমরা সবাই এগিয়ে যাবো।

সরকারের সকল অঙ্গই গুরুত্বপূর্ণ। তাই সকলের কাজের ধরন ও সম্মানবোধের বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সমান সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি এবং সকলের কর্মস্পৃহা বৃদ্ধিই সামগ্রিকভাবে দেশের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে।

‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলুক বাংলাদেশ’- এই হোক সকলের প্রত্যয়।

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়, কিন্তু ট্র্যাকব্যাক এবং পিংব্যাক খোলা.