চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

উপকূলবর্তী এলাকায় প্রিম্যাচিউর শিশু: দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে

এতদিন আমরা জেনেছি, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকার পরিবেশে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়ে ঝুঁকির মুখে পড়েছে। কিন্তু চ্যানেল আইয়ে প্রচারিত একটি প্রতিবেদনে জানা গেলো, এর পাশাপাশি ওই এলাকার গর্ভবতী মায়েরা অপুষ্টির শিকার হচ্ছেন। এতে সেখানে প্রিটার্ম ও প্রিম্যাচিউর শিশুর জন্মহার ক্রমেই বেড়ে যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

এরই মধ্যে সিডর বা আইলার মত বড় ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের শিকার হয়েছে এই অঞ্চল। ভয়াবহ সেই বিপর্যয়ের কারণে গাছপালাও স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠতে পাড়ছে না। এরই মধ্যে সেখানে পুষ্টিকর খাবারের সংকটের সাথে আছে সুপেয় পানিরও অভাব।

বিজ্ঞাপন

এত এত সব সমস্যার প্রভাব পড়ছে গর্ভবতী মা এবং গর্ভজাত শিশুর ওপর। আর এতেই বাড়ছে প্রিটার্ম ও প্রিম্যাচিউর শিশুর সংখ্যা। গত দুই বছরে এই অঞ্চলে প্রায় ছয় হাজার প্রিটার্ম ও প্রিম্যাচিউর শিশু জন্ম নিয়েছে, যা আগের চেয়ে অনেক বেশি। চিকিৎসকরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনে সৃষ্ট লবণাক্ততার কারণে এই অঞ্চলে সবজি উৎপাদনও কমে গেছে। ফলে সংকটটা আস্তে আস্তে বড় আকার ধারণ করছে।

সুনির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান না থাকলেও নিশ্চিত করে বলা যায়, সারাদেশেই প্রিম্যাচিউর শিশুর জন্মহার বাড়ছে। জলবায়ূ পরিবর্তনের প্রভাব আসলে এখন যে শুধু উপকূলীয় অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ, তা নয়। সারাদেশই এর শিকার। তবে উপকূলীয় এলাকায় প্রভাবটা সরাসরি। তাই সেখানে ফলাফলটাও চোখে পড়ছে।

যাইহোক না কেন, প্রিম্যাচিউর শিশুর জন্মহারের সুনির্দিষ্ট কারণ খুঁজে বের করার উদ্যোগ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্যখাত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠানকে নিতে হবে। স্পষ্ট করে জানাতে হবে কিভাবে আর কেন এসব হচ্ছে? এই সমস্যা থেকে বের হয়ে আসতে হবে।

আমরা জানি, একটি শিশু প্রিম্যাচিউর অবস্থায় জন্ম নিলে নানা সংকটে তাকেও যেমন পড়তে হয়, তার পরিবারকে নানা সমস্যার মধ্যে যেতে হয়। যা কাটিয়ে উঠা অনেকের পক্ষেই সম্ভব হয়ে উঠে না। আমরা মনে করি, এখনই এ নিয়ে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি অন্যান্য পদক্ষেপ নিতে হবে। তবেই প্রিম্যাচিউর শিশুর জন্মহার নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।