চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

উন্নয়নের মহাসড়কে চলতে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ জরুরি

বিজ্ঞাপন

‘উন্নয়নের মহাসড়কে বাংলাদেশ: সময় এখন আমাদের’ শিরোনামে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকার বাজেট পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। প্রস্তাবিত বাজেট পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, আগামী অর্থবছরে খরচের চেয়ে অর্থ সংগ্রহের দিকেই বেশি জোর দেয়া হয়েছে। অর্থ সংগ্রহের জন্য রাজস্ব আদায়ে বড় লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে করের আওতা সম্প্রসারিত করার পাশাপাশি অনেক পণ্যে কর বাড়ানোর প্রস্তাবের প্রভাব সবশেষে সাধারণ মানুষের ওপর পড়বে বলে আমরা মনে করি। কেননা বিভিন্ন মশলা, সোন্দর্য প্রসাধন সামগ্রী ও ফাস্ট ফুডসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় কিছু জিনিসপত্রের দাম বাড়ার বিষয়টি সাধারণ মানুষের জন্য কষ্টের কারণ হবে। তবে চাল, ডাল, মুড়ি, চিড়া, চিনি ও আখের গুড়, মাছ, মাংস, শাক সব্জি, তরল দুধ, লবণের দাম স্থিতিশীল থাকা ও ৯৩ ধরনের জীবন রক্ষাকারী ওষুধকে ভ্যাট অব্যাহতি দেয়ার বিষয়টি ইতিবাচক। বিড়ি, সিগারেটের দাম বৃদ্ধির ঘটনা ইতিবাচক হলেও এনবিআর খাতে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কারণ হতে পারে। এবারের বাজেটে সার্বিকভাবে ঘাটতি ১ লাখ ১২ হাজার ২শ’ ৭৫ কোটি টাকা। বিশাল অংকের এই ঘাটতি বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ হলেও বাজেট বাস্তবায়নে আমরা আশাবাদী হতে চাই। এবারের বাজেটে কৃষক থেকে শুরু করে সব ধরনের মানুষের মতামতের প্রতিফলন হওয়া, বিশেষ করে প্রথমবারের মতো শিশুদের মতামত নেয়ার বিষয়টি প্রশংসাযোগ্য। তাদের মতামতের প্রতিফলনের মধ্য দিয়ে বাজেটে প্রকৃত কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিষয়টি প্রাধান্য পাবে বলেই আমাদের বিশ্বাস। এছাড়া টাকার অংকে শিক্ষায় এবার বরাদ্দ বাড়ার বিষয়টিও ইতিবাচক। চ্যানেল আই আয়োজিত ‘শিক্ষা বাজেট’ আলোচনায় শিক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তৃণমূল থেকেও অবশ্য এ বিষয়ে মতামত এসেছিল। চ্যানেল আই’র ‘কৃষি বাজেট, কৃষকের বাজেট’ যার একটিতে অর্থমন্ত্রী নিজে যোগ দিয়েছিলেন এবং বাজেট বক্তৃতায় সেটা উল্লেখ করেছেন, তাও তৃণমূলের মতামত তুলে ধরার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে। এ সুযোগে আমরা চ্যানেল আই’র পক্ষ থেকে অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। তিনি উন্নয়নের মেগা প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের কথা বলেছেন। আমরা মনে করি, এর সঙ্গে মূল বাজেট মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে সহায়ক এবং ব্যবসাবান্ধব হওয়া বেশি জরুরি। এছাড়া দুর্নীতিকে বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান অন্তরায় বলে স্বীকার করতে হবে। তাই শুধু বরাদ্দ নয় বরং তা বাস্তবায়নে বরাদ্দকৃত অর্থের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে দেশ প্রকৃত অর্থে উন্নয়নের মহাসড়কে উঠতে পারে বলে আমরা মনে করি। ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ হওয়াই নয়, উন্নয়নের ক্ষেত্রে স্বপ্নের দিগন্ত আরো প্রসারিত হোক, আমরা এমনটাই কামনা করি।