চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘উনি যেন আমার বড় ভাই, পয়লা হাসিতেই বাজিমাত’

জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প, হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস, ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে, আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি-সহ এরকম আরো অসংখ্য জনপ্রিয় বাংলা গানের কণ্ঠদাতা এন্ড্রু কিশোর। প্লেব্যাকের জগতে তাকে ‘সম্রাট’ বলেও মনে করেন অনেকে। আশি, নব্বই দশকের বাংলা চলচ্চিত্রের গান মানেই এন্ড্রু কিশোর। তার ভরাট কণ্ঠে মানুষ আপ্লুত হয়নি এমনটা খুঁজে পাওয়া দুস্কর। সংগীত জগতের এই গুণী মানুষটির জন্মদিন ৪ নভেম্বর। ১৯৫৫ সালের এই দিনে জন্মেছিলেন তিনি। জন্মদিনে গুণী এই মানুষটিকে স্মরণ করেছেন প্লেব্যাক জগতের আরেক সম্রাজ্ঞী কনক চাপা। এনড্রু কিশোরের জন্মদিনে নিজের ফেসবুকে একটি আবেগাপ্লুত স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি। স্ট্যাটাসটি হুবুহু তুলে ধরা হল-

বিজ্ঞাপন

‘‘এন্ড্রু কিশোর! একটি বিস্ময়কর দমের নাম, যে দম থেকে সুর বেরিয়ে ছড়িয়ে পড়ে আকাশে বাতাসে নদীতে সাগরে এবং যেখানে যেখানে ছড়ায় তাদের সবাইকেই জড়ায় সুরের আরামদায়ক উষ্ণতায়।

তাঁর কন্ঠে কি আছে আমি কি করে বলি! গান শুনে খালি মনে হয় কোন দিক থেকে তরল সোনা গলে গলে পড়ছে। তাতে প্রেম অভিমান কান্না কটাক্ষ চিৎকার রাগ সব অলংকরণের কাজ করছে। রেকর্ডিং এর মেশিনের কাটা জানে এন্ড্রু কিশোরের ভার ও ধার কি। ভয়ঙ্কর! যেন আস্ত নায়াগ্রা জলপ্রপাত একই সাথে ভয়ঙ্কর ও সুন্দর!

কিশোর দার সাথে পয়লা দেখা প্লেব্যাকেই। এছাড়া আর তাকে দেখার উপায়ই কি! সুরকার মইনুল ইসলাম খানের সুর ও সংগীতায়োজনে ‘নাফরমান’ ছবির মহরতের গান শ্রুতি ষ্টুডিওতে ছিয়াশি সালের জানুয়ারীতে। আমি নিতান্তই ছোট মানুষ। ভয় পাচ্ছিলাম, এতো বড় শিল্পী! গাইতে গিয়ে দেখি ইয়াল্লা, উনি যেন আমার বড় ভাই, পয়লা হাসিতেই বাজিমাত।

এন্ড্রু কিশোরের জন্মদিনে কনক চাপার স্মৃতিচারণ…

এরপর তাঁর সাথে কত গান গাইলাম, কত মঞ্চ কাঁপলো (আমার গানে মঞ্চ কাঁপে না কিন্তু কিশোর দার গানে আমি, আমরা, ও মঞ্চ নিয়মিতই কাঁপে) কত বিদেশে গেলাম! আপন বড়ভাইয়ের মত হয়েও তিনি এখনো আমার কাছে বিস্ময়। আপাতদৃষ্টিতে রাগী রাগী মানুষটা আসলে খুবই ফুর্তিবাজ। সবার বিপদে আপদে সময়মত দাঁড়িয়ে যান সবার আগে। পারি না বলে কোন কথা তাঁর অভিধানে নেই।

তাঁর সাথে হাজার হাজার গান গেয়েছি এই ভাবনা দূরে থাক তাঁকে চোখে দেখেছি বা তিনি আমাকে চেনেন এই ভাবনাতেই আমি আপ্লুত হই এখনো, কিশোর দা হয়তো তা জানেনই না। আমি ধন্য তিনি আমাকে অত্যাধিক স্নেহ করেন। এ জীবনে কতই না পেলাম!

আজ এই বিস্ময়কর কন্ঠরাজের জন্মদিন। শুভকামনা এই সম্পদের জন্য। দীর্ঘদিন সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে বেঁচে থাকুন বাংলাদেশের সুরের রাজা।’’