চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

উনি বিএনপির চেয়েও বেশি বলেছেন: অ্যাটর্নি জেনারেল

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে গ্রেপ্তার আলোকচিত্রী ও দৃক গ্যালারির প্রতিষ্ঠাতা শহিদুল আলমের জামিন শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম  বলেছেন: বিএনপি তো দেশের একটা পলিটিক্যাল পার্টি। কিন্তু গত দশ বছরে বিএনপি যা না বলেছে উনি (শহিদুল আলম ) তার চেয়েও বেশি বলেছেন।

বিজ্ঞাপন

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন: যে কেউ তার অভিমত প্রকাশ করতে পারেন, তাতে তো কোনো বাধা নেই। বাক স্বাধীনতা সবার রয়েছে। কিন্তু উস্কানি কিংবা মিথ্যা বলে কেউ দেশের আইন শৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে পারেন না। দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে পারেন না।

‘নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে উনি (শহিদুল আলম ) নিজের ফেসবুকে উস্কানিমূলক ও মিথ্যা প্রচার করেছেন। আবার বিদেশি চ্যানেলে (আল জাজিরা) সাক্ষাৎকার দিয়ে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছেন।

সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের  আন্দোলনের ওই সময় নারীদেরকে অপহরণ করা হচ্ছে বলে উনি ফেসবুকে বলেছেন। এই সরকারের সময় ব্যাংক লুট হচ্ছে এরকম মিথ্যা তথ্য ছড়িয়েছেন। এছাড়া, কোটা নিয়েও বিভিন্ন মিথ্যা কথা উনি প্রচার করেছেন।

বিজ্ঞাপন

যেই আল জাজিরা আমাদের দেশের কোনো ঘটনা কয়েক সেকেন্ডের বেশি দেখায় না সেই আল জাজিরা কিন্তু উনাকে নিয়ে কয়েক মিনিটের প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।’

জামিন শুনানিতে নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রসঙ্গ এনে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন: বাংলাদেশকে নাকি স্বর্গে নিয়ে গেছেন ড. ইউনুস। যেই ড. ইউনুস এত ফেমাস সে তো আমাদের দেশের কোনো ইস্যুতে কথা বলেন না। এদেশের উন্নয়নের কথা বাইরে বলেন না। সরকারকে দিয়ে আইন পাস করিয়ে ব্যাংক করে উনি লিজেন্ড হয়েছেন।

এই জামিন শুনানিতে হাইকোর্ট বেঞ্চের একজন বিচারপতি বলেন: অনেকেই তো দেখি টকশো এবং বিভিন্ন সভা-সেমিনারে বলে থাকেন দেশে আইনের শাসন নেই। আদালতে বিচার নেই। আবার তাদেরকেই দেখি আদালতের বারান্দায় বিচারের জন্য আসতে। আইনজীবীদের পিছু পিছু এসে জামিন চাইতে। তাহলে কেন তারা বলে বেড়ান যে, দেশে বিচার নেই? আইনের শাসন নেই।

রোববার জামিন আবেদনের শুনানির পর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে গ্রেপ্তার আলোকচিত্রী ও দৃক গ্যালারির প্রতিষ্ঠাতা শহিদুল আলমকে কেন জামিন দেয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে  রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি এস এম মজিবুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ জামিন আবেদনের শুনানি নিয়ে এই রুল জারি করেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। আর শহিদুল আলমের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার সারা হোসেন।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে ‘উস্কানিমূলক ও মিথ্যা’ প্রচারের অভিযোগে শহিদুল আলমকে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে করা মামলায় গত ৬ আগস্ট গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তবে তার পরিবারের দাবি, আগের দিন ৫ আগস্ট রাতে শহিদুল আলমকে তার বাসা থেকে গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে শহিদুল আলম কারাগারে রয়েছেন।