চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘উদাসীন বিশ্বের কোনো মাথাব্যাথা নেই আমাদের নিয়ে’

বগ্লার অভিজিৎ রায়ের স্ত্রী বন্যা আহমেদ তার ফেসবুক একটি স্ট্যাটাস পোস্ট করেছেন। যেখানে তিনি প্রকৃতির অন্তহীন বিশালতার কথা লিখেছেন।

বন্যা লিখেছেন, প্রকৃতির অন্তহীন বিশালতা আমাকে আকুল করে সেই ছোট্টবেলা থেকে। এত ঘুরেছি এত দেখেছি তারপরও অনেক উঁচু কোন পাহাড়ে হাজার বছর ধরে জমে থাকা গ্লেসিয়ারের পাশে ছোট্ট কোন বনফুল দেখে অস্থির হয়ে উঠি, নিজের ক্ষুদ্র অস্তিত্বের সাথে ওর ক্ষণিকের অস্তিত্বও মিলে মিশে একাকার হয়ে যায়। এই র‍্যান্ডম, উদাসীন জড় বিশ্বের কোনো মাথাব্যাথা নেই আমাদের অস্তিত্ব নিয়ে।

কিন্তু তারই ধারায় আবার উৎপত্তি ঘটেছে আমাদের, আমাদের অদ্ভুত এই চেতনার। এই চেতনাই আমাদের ভাল লাগায়, ভালোবাসায়, রাগে, দুঃখে, শোকে, হারানোর ব্যাথায় কাতর করে। এটাই কি সেই রূপ রস – ফর্ম, ইমোশান?

তবে এ প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দয্যের মাঝে যে চারদিক জ্বলে পুরে শেষ হয়ে যাচ্ছে সে সম্পর্কে বলতে গিয়ে প্রবাসী বাঙালি বন্যা লিখেন, চারদিকে কত কিছু জ্বলছে, বাগদাদ জ্বলছে, সিরিয়া জ্বলছে, প্যালেস্টাইন, ইয়েমেন, কাশ্মির জ্বলছে, ঢাকা, নিস, ডালাস, ব্রাসেলসও জ্বলছে, কিন্তু তারপরও ফুল ফোটে, গ্লেসিয়ারের বরফ গলা সাদা জল তিরতির করে গড়িয়ে পড়তে পড়তে বিশাল কোন নদী বানায়, নদীর জল সমুদ্রে মেশে, সমুদ্রের ঢেউয়ে সাদা ফেনারা মেলা বসায়, তাতে আবার রংধনু খেলে যায় ক্ষণিকের তরে…

আছে দুঃখ, আছে মৃত্যু, বিরহদহন লাগে। তবুও শান্তি, তবু আনন্দ, তবু অনন্ত জাগে ॥ তবু প্রাণ নিত্যধারা, হাসে সূর্য চন্দ্র তারা, বসন্ত নিকুঞ্জে আসে বিচিত্র রাগে ॥ তরঙ্গ মিলায়ে যায় তরঙ্গ উঠে, কুসুম ঝরিয়া পড়ে কুসুম ফুটে। নাহি ক্ষয়, নাহি শেষ, নাহি নাহি দৈন্যলেশ– সেই পূর্ণতার পায়ে মন স্থান মাগে ॥