চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ঈদগাহে তিন ধাপে তল্লাশি: ডিএমপি

বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় সতর্ক থাকবে পুলিশ

আসন্ন ঈদুল ফিতরে সুস্পষ্ট কোন নিরাপত্তার হুমকি নেই জানিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেছেন: জাতীয় ঈদগাহে নামাজ আদায় করতে আসা প্রত্যেককে তিন ধাপে তল্লাশি শেষে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে।

সোমবার রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

ডিএমপি কমিশনার বলেন: ঈদে কিংবা ঈদ জামাতে সুস্পষ্ট কোন নিরাপত্তার হুমকি নেই। তবে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় যথেষ্ট সতর্ক থাকার কারণ রয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছি। ঈদকে ঘিরে নিরবচ্ছিন্ন নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তাই কারো ভীত হওয়ার কারণ নেই।

তিন ধাপে তল্লাশি করে ঈদগাহে আগতদের প্রবেশ করতে দেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন: শিক্ষাভবন, মৎস্যভবন ও প্রেসক্লাবের সামনে আর্চওয়ে, মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে সবাইকে তল্লাশির মাধ্যমে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে। এ এলাকায় কেউ গাড়ি নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না। এর পরের ধাপে মূল গেইটে এবং ঈদগাহের ভিআইপি জোনের আগে আরো দুই দফা আর্চওয়ের মাধ্যমে তল্লাশি করা হবে।

ঈদ জামাতে অংশগ্রহনের জন্য আগত মুসল্লিদের জায়নামাজ এবং প্রয়োজনে ছাতা ছাড়া অন্যকিছু না আনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন: সবাইকে তল্লাশি করা হবে, এজন্য যদি গেইটে দীর্ঘ লাইন সৃষ্টি হলেও সবাইকে ধৈর্য্য সহকারে পুলিশকে সহযোগিত করার আহ্বান রইলো। প্রয়োজনে মুসল্লিদের সঙ্গে আনা জায়নামাজ কিংবা ছাতা খুলেও পুলিশ সদস্যরা তল্লাশি করবেন।

পুলিশের পোশাকধারী ও সাদা পোশাকের সদস্যদের সমন্বয়ে ঈদগাহের চতুর্পাশে বহিবেষ্টনী গড়ে তোলার কথা জানিয়ে তিনি বলেন: ঈদ উপলক্ষে পুরো ঢাকা জুড়েই চেকপোস্ট জোরদার রয়েছে। পোশাক এবং সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্যরা কাজ করে যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

ডিএমপি’র ডগ স্কোয়াডের মাধ্যমে ঈদগাহ মাঠ সুইপিং করা হবে। পুরো এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় থাকবে। জাতীয় ঈদগাহ এবং বায়তুল মোকাররমে স্থাপিত অস্থায়ী কন্ট্রোল রুম থেকে সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো রিয়েল টাইম মনিটরিং করা হবে।

জাতীয় ঈদগাহ, বায়তুল মোকাররম ছাড়াও নগরজুড়ে সকল ঈদের জামাতে সাধ্যমতো নিরাপত্তা দেওয়া হবে। সকল বড় ঈদ জামাতে আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে তল্লাশি করা হবে। বাকি সকল জামাতে ফিজিক্যালি তল্লাশি করা হবে।

তিনি বলেন: ঈদকে সামনে রেখে ঢাকাজুড়ে যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাজানো হয়েছিলো, রমজানে প্রথম পর্ব শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হয়েছে। রমজানে এখনো বলার মতো রাজধানীতে কোন অপরাধ সংগঠিত হয়নি। আশা করছি ঈদের নামাজও হবে শান্তিপূর্ণ এবং উৎসবমুখর। ঈদের পরের  সময়েও ফাঁকা ঢাকার নিরাপত্তায় পুলিশের বিশেষ প্রস্তুতি রয়েছে।

নাগরিকদের সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন: যে কোন সমস্যা-প্রয়োজনে পুলিশকে জানাবেন। সন্দেহজনক কিছু দেখলে ঈদগাহে স্থাপিত পুলিশ কন্ট্রোল রুম এবং ৯৯৯ এ জানানোর অনুরোধ রইলো।

ঈদে অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কয়েক স্তরে সুদৃঢ় ও সমন্বিত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথাও জানান তিনি।

গুলিস্তান ও মালিবাগে পুলিশের উপর হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপি কমিশনার বলেন: এটি এখনো তদন্তাধীন, তাই এ বিষয়ে এখনই মন্তব্য করার সুযোগ নেই। আমরা ঘটনাস্থল থেকে ফিজিক্যালি তথ্য প্রমাণ সংগ্রহ করেছি এবং সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। আশা করছি শীঘ্রই হামলার কারণ এবং কারা হামলা চালিয়েছে বের হয়ে আসবে।

এর আগে কমিশনার পুরো ঈদগাহ ময়দান ঘুরে দেখেন এবং ডিএমপির ডগ স্কোয়াড আয়োজিত বিশেষ মহড়া পরিদর্শন করেন।