চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ইয়াবা-হেরোইন-ফেন্সিডিলসহ সব মাদকের মোহনা ঢাকা

মাদকের বিস্তৃতি নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন-৪

আন্তর্জাতিক দু’টি মাদকপাচার রুটের কেন্দ্রে অবস্থান করা বাংলাদেশের মাদক বাজারের প্রধান কেন্দ্র এখন রাজধানী ঢাকা। রাজশাহী অঞ্চল দিয়ে ঢোকা হেরোইন ও ফেন্সিডিল, কুমিল্লা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া অঞ্চল দিয়ে ঢোকা গাঁজা এবং চট্টগ্রাম অঞ্চল দিয়ে ঢোকা ইয়াবার মোহনা হয়ে উঠেছে প্রায় দুই কোটি জনসংখ্যার এই মেগাসিটি।

বিজ্ঞাপন

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনের পরিসংখ্যান বলছে, সব মাদকের বড় বাজার ঢাকা। রাজধানী কেন্দ্রিক জনস্রোত, অর্থের স্রোত এবং যাতায়াত ব্যবস্থা সুবিধাজনক হওয়ায় ঢাকা এবং আশেপাশে নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, সাভার, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহের মতো এলাকাগুলোতে বাড়ছে মাদকের প্রকোপ।

ঢাকা মাদকের কেন্দ্র হয়ে ওঠার কারণ তুলে ধরে ডিএনসি’র মহাপরিচালক মোহাম্মদ জামাল উদ্দীন আহমেদ চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: মাদক বাণিজ্যের প্রধান টার্গেট আমাদের যুব সমাজ। এই যুব সমাজের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পড়ালেখা-চাকরির জন্য পরিবারের বাইরে একাই ঢাকায় থাকছে। সব মিলিয়ে ঢাকায় এখন প্রায় দুই কোটি মানুষের বসবাস। নগরায়নের আধুনিকতা-যান্ত্রিকতা, প্রত্যাশার চাপ এবং প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ার হতাশায় ঢাকা মহানগরীতে মাদকাসক্তি বেড়ে চলেছে। যেহেতু দেশে সব কিছুই ঢাকামুখী এবং ঢাকাতে মানুষের বসবাস বেশি তাই ঢাকায় মাদকের প্রকোপও বেশি।

রাজধানী মাদক বাজারের কেন্দ্রে পরিণত হওয়ার পেছনে আরও কয়েকটি কারণ তুলে ধরেছেন ডিএনসি’র অপারেশন্স এবং গোয়েন্দা শাখার পরিচালক সৈয়দ তৌফিক উদ্দিন আহমেদ।

বিজ্ঞাপন

তিনি চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: ঢাকায় আড়াইশ’র বেশি স্পটে প্রায় সব রকম মাদক বিক্রি হচ্ছে। এখানে অপেক্ষাকৃত স্বচ্ছল মানুষ যেমন বেশি তেমনি দিনমজুর ভাসমান মানুষের সংখ্যাও বেশি। তাই দামি মাদক ইয়াবা, ফেন্সিডিল যেমন এখানে ব্যাপক বিক্রি হয় তেমনি বিক্রি হয় গাঁজা, অ্যাম্পুল। নগরবাসীর একটি বড় অংশই দেশের নানা জায়গা থেকে পড়তে আসা শিক্ষার্থী। তারা মাদকাসক্ত বন্ধু বান্ধবের সঙ্গ পেয়ে মাদকের দিকে কেবল কৌতুহল মেটাতে ঢুকলেও আর বের হতে পারে না। ডিএনসি’র প্রকাশিত সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, উদ্ধার করা ইয়াবার মধ্যে ২৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ রাজধানী থেকে উদ্ধার করা হয়। সবচেয়ে বেশি ইয়াবা উদ্ধার হয় চট্টগ্রাম থেকে, ৬৯ দশমিক ২২ শতাংশ। কারণ ইয়াবা আসে চট্টগ্রাম দিয়ে। তাই উদ্ধারের পরিমাণের দিক দিয়ে ঢাকা পিছিয়ে থাকলেও ইয়াবা আসক্ত এবং বিক্রির পরিমাণ ঢাকাতেই সর্বোচ্চ। ২০১৬ সালে ঢাকা থেকে ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৭৯৮ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে ডিএনসি।

হেরোইনের বেলাতেও চিত্রটা প্রায় একই রকম। ২০১৬ সালে সবচেয়ে বেশি হেরোইন আটক করা হয় রাজশাহী থেকে, ৭৩ দশমিক ২১ শতাংশ। হেরোইনের প্রাদুর্ভাব এবং মামলা সংখ্যায় রাজশাহী এগিয়ে। কিন্তু ঢাকা মহানগরীতে হেরোইনের সর্বোচ্চ প্রাদুর্ভাব লক্ষ্য করা গেছে। ২০১৬ সালে ঢাকা থেকে আটক করা হেরোইনের পরিমাণ ১ দশমকি ৩৩৭ কেজি।

ডিএনসি প্রতিবেদন বলছে, ফেন্সিডিলের প্রকোপ ঢাকা এবং আশেপাশের এলাকায় কিছুটা কমে আসলেও রাজশাহী, খুলনা এবং চট্টগ্রামের পরেই আছে ঢাকা। ২০১৬ সালে ঢাকা থেকে ১ হাজার ৭শ’ ৭ বোতল ফেন্সিডিল আটক করা হয়।

২০১৬ সালে উদ্ধার করা গাঁজার মধ্যে ঢাকা অঞ্চল থেকে ২৯ দশমিক ১৭ শতাংশ, চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে ৩২ শতাংশ, রাজশাহী অঞ্চল থেকে ২৬ দশমিক ১৬ শতাংশ।

কিন্তু ডিএনসি প্রতিবেদনে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে, দেশের পূর্ব সীমান্তবর্তী কুমিলা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া দিয়ে ঢোকা গাঁজার প্রধান বাজার ঢাকা। ২০১৬ সালে ঢাকা থেকে ৯শ’ ৭৭ কেজিরও বেশি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

ইঞ্জেক্টিং মাদক অ্যাম্পুল বাংলাদেশে ঢোকে রাজশাহী অঞ্চল দিয়ে। কিন্তু এই মাদকের টার্গেটও ঢাকার বাজার। ২০১৬ সালে ঢাকায় ৮ হাজার ৫১৮ অ্যাম্পুল আটক করা হয়।