চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ইসির শুনানিতে যাদের মনোনয়ন অবৈধ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীদের আপিল আবেদনের শুনানি শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রথমদিনে নির্বাচন কমিশন (ইসি) শুনানি শেষে বেশ কয়েকজনের প্রার্থিতা অবৈধ ঘোষণা করেছে।

বিজ্ঞাপন

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু: সিরাজগঞ্জে ২ আসনে বিএনপির পার্থী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু:  নাটোর ২ আসনে বিএনপি পার্থী রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করেছে ইসি।

আশরাফুল হোসেন আলম ওরফে হিরো আলম: বগুড়া ৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল হোসেন আলম ওরফে হিরো আলমের মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে মনোনয়ন নিলে তাকে তার নির্বাচনী এলাকার মোট ভোটারের এক শতাংশের স্বাক্ষর লাগে। তবে আশরাফুল হোসেন আলম ভোটারদের স্বাক্ষরের যে তালিকা জমা দিয়েছেন, তা যাচাই-বাছাই করে দেখা গেছে তিনি ভুয়া ভোটারদের তালিকা জমা দিয়েছেন। ভোটারদের স্বাক্ষরে গড়মিল থাকায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

পারভেজ হোসেন: দিনাজপুর-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে পারভেজ হোসেনের মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।

জহিরুল মিন্টু: মাদারীপুর-১ আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী জহিরুল মিন্টুর মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

মিজানুর রহমান: ফেনী-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মিজানুর রহমানের মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।

ডক্টর মিজানুল হক: কিশোরগঞ্জ-৩ আসনেরর স্বতন্ত্র প্রার্থী ডক্টর মিজানুল হকের মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

আবু সাইদ মহিউদ্দিন: ময়নসিংহ-৪ আসনের মুসলিম লীগের আবু সাইদ মহিউদ্দিনের মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করেছে কমিশন।

অমর কুমার দে: রাঙ্গামাটির ২৯৯নং আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী অমর কুমার দের মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ক্বারী হাবিবুল্লাহ বেলালী: ময়মনসিংহ ১০ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ক্বারী হাবিবুল্লাহ বেলালীর মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করেছে কমিশন।

মহিবুল কাদির চৌধুরী: মৌলভীবাজার-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মহিবুল কাদির চৌধুরীর মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করেছে কমিশন।

হাসান আহমদ: ফেনী-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান আহমদের মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।

চাপাইনবাবগঞ্জ-১ নবাব মো. শামসুল হুদা, খাগড়াছড়ির আব্দুল ওয়াদুদ ভূইয়া, ঝিনাইদহ-১ আবদুল ওহাব, সাতক্ষীরা-২ আফসার আলি, মাদারীপুর-৩ মো. আবদুল খালেক, দিনাজপুর-২ মোকারম হোসেন, দিনাজপুর-৩ সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, দিনাজপুর-১-এর মো. পারভেজ হোসেন, ঠাকুরগাঁও-৩ এস এম খলিলুর রহমান, ফেনী-১ মিজানুর রহমান, কিশোরগঞ্জ-৩ ড. মিজানুল হক, ময়মনসিংহ-৪ আবু সাইদ মহিউদ্দিন, নেত্রকোনা-১ মো. নজরুল ইসলাম, পঞ্চগড়-১ মো: তৌহিদুল ইসলাম, ময়মনসিংহ-২ মো: এমদাদুল হক, খুলনা-২ এস এম এরশাদুজ্জামান, ঢাকা-১ মো: আইয়ুব খান, বগুড়া-৩ মো: আব্দুল মুহিত, বগুড়া-৬ এ কে এম মাহবুবুর রহমান, রাঙামাটির অমর কুমার দে, বগুড়া-৪ আশরাফুল হোসেন আলমের (হিরো আলম), ঢাকা-১৪ সাইফুদ্দিন আহমেদ, সাতক্ষীরা-১ এস এম মুজিবর রহমান, ব্রাক্ষ্মবাড়িয়া-৩ মো: বশির উল্লাহ, নওগাঁ-৪ মো: আফজাল হোসেন, মৌলভিবাজার-২ মহিবুল কাদির চৌধুরী, ফেনী-৩ হাসান আহমদ, ময়মনসিংহ-১০ মো: হাবিবুল্লাহ, জামালপুর-৪ মোহা: মামুনুর রশিদ, বগুড়া-২ আব্দুল কাশেম, নীলফামারী-৪ মো: আমজাদ হোসেন, নীলফামারী-৩ মো: ফাহমিদ ফয়সাল চৌধুরী, নীলফামারী-৪ আসনের মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্যোসাল ইসলামী ব্যংক লিমিটেড, ব্রাক্ষ্মবাড়িয়া-২ আখতার হোসেন, লক্ষ্মীপুর-২ আবুল ফয়েজ ভূইয়া, কুমিল্লা-১০ আবুল কালাম আজাদ, কুমিল্লা-২ মো: সারওয়ার হোসেন, কুমিল্লা- ৪ মাহবুবুল আলম, নোয়াখালি-৩ এইচ আর এম সাইফুল ইসলাম, ফেনী-১ মো: নূর আহমদ মজুমদার। মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

এছাড়াও স্থগিত করা রয়েছে ঝিনাইদহ-৩ আসনে মো: কামরুজ্জামান স্বাধীন, চট্টগ্রাম-৫ আসনের মির মোহাম্মদ নাছির এবং অনুপস্থিত ছিলেন, নেত্রকোনা-১ আসনের শাহ কুতুব উদ্দিন তালুকদার।

আজ বৃস্পতিবারসহ আগামী তিন দিন (৬, ৭ ও ৮ ডিসেম্বর) ইসিতে আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

প্রথমদিন ডিসেম্বর সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া আপিল আবেদনের শুনানিতে ১ থেকে ১৬০টি আপিল আবেদনের নিষ্পত্তি হবে।

দ্বিতীয় দিন ৭ তারিখে ১৬১ থেকে ৩১০ নম্বর পর্যন্ত। শেষ দিন ৮ তারিখে ৩১১ থেকে অবশিষ্ট ৫৪৩ ক্রমিক পর্যন্ত আপিল আবেদনের নিষ্পত্তি করা হবে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে ৩ হাজার ৬৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। বিভিন্ন অভিযোগে ৭৮৬ জন প্রার্থীর মনোননয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন রিটার্নিং অফিসাররা।

আওয়মী লীগের মোট প্রার্থী ছিল ২৮১ জন। এর মধ্যে বাছাইয়ে বাদ পড়েছেন ৩ জন। বিএনপি ৩শ’ আসনের বিপরীতে মনোননয়নপত্র জমা দিয়েছিলো ৬৯৬ জনের। এর মধ্যে ১৪১ জনের প্রার্থিতা বাতিল হয়। আর জাতীয় পার্টির মনোনয়ন বাতিল হয়েছে ৩৮ জনের।

মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রাথীদের মধ্যে বিএনপি চেয়ারপার্সনসহ ৫৪৩ জন নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন।

বাকি ২৪৩ জন রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল আবেদন করেননি।