চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ইশতেহার: বাস্তব-অবাস্তব

৩০ ডিসেম্বর ভোট। এরইমধ্যে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। জোট হিসেবে ঐক্যফ্রন্টও ইশতেহার দিয়েছে। মূলত: ৫ বছরের জন্য দেশ পরিচালনার একটি ছবি ভোটারদের সামনে তুলে ধরা হয় ইশতেহারে। থাকে নানা প্রতিশ্রুতিও। তুলে ধরা হয় দীর্ঘমেয়াদী কিছু পরিকল্পনাও। সে হিসেবে কোন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নযোগ্য আর কোনটি বাস্তবায়নযোগ্য নয় তা সহজেই বোঝা যায়।

বিজ্ঞাপন

আওয়ামী লীগ ১০ বছর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়। বিগত বছরগুলোতে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে এটা সরকারের কট্টর সমালোচকরাও অস্বীকার করতে হয়ত লজ্জা পাবেন। আওয়ামী লীগের ইশতেহারে মূলত চলমান উন্নয়ন কাজগুলো শেষ করে অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বপ্ন দেখানো হয়েছে।

ইশতেহার ঘোষণার শুরুতেই আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ইশতেহার ঘোষণার শুরুতেই বাঙালি জাতির আন্দোলন সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরে বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্রের ওপর আঘাতের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। আওয়ামী লীগের ইশতেহারের শুরুতেই গুরুত্ব দেয়া হয়েছে সুশাসনে। স্বাধীনতার নেতৃত্বদানকারী দলটি তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় গেলে একটি দক্ষ, সেবামুখী ও জবাবদিহিতামূলক প্রশাসনই গড়ে তুলতে চায়। বলা হয়েছে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স দেখানো হবে। আরো শক্তিশালী করা হবে দুর্নীতি দমন কমিশনকে। আর দুর্নীতির পরিধি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি চালুর প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে।

জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে সরকার সফল বলা চলে। তবে জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত থাকবে বলেই বলা হয়েছে ইশতেহারে।

৫ বছরে জিডিপি ১০ শতাংশে উন্নীত করার কথা বলা হয়েছে। আর এটি সম্ভব কারণ বিগত ৫ বছরে জিডিপির আকার ৫ গুণ বৃদ্ধি পায়। স্বাভাবিকভাবেই দেশের মানুষকে এই স্বপ্ন দেখাতেই পারে আওয়ামী লীগ। ২০৩০ সালের মধ্যে মাথাপিছু আয় ৫ হাজার ৪৭৯ ডলার ধরা হয়েছে।

এবার পদ্মাসেতুসহ বেশ কিছু মেগা প্রকল্পের কাজ চলছে। আর পদ্মাসেতুই শেখ হাসিনাকে সাহস দিয়েছে বড় প্রকল্প হাতে নেয়ার। তাই বুলেট ট্রেন চালু, আরো একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণ, উত্তরাঞ্চলের সাথে যোগাযোগে যমুনা নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে আওয়ামী লীগ।

প্রতিটি গ্রামে শহরের সুবিধা দেয়ার প্রতিশ্রুতিটি বেশ চমক জাগিয়েছে। প্রতি জেলা ও উপজেলায় উন্নত পরিবেশে লেখা পড়া, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ, উন্নত পয়ঃনিষ্কাশন, কল-কারখানা স্থাপন করতে চায় আওয়ামী লীগ। কাজটি করতে পারলে গ্রামের মানুষকে শহরমুখী করা থেকে বিরত রাখা যাবে।

বিজ্ঞাপন

মূলত: সরকারের ১০ বছরের অভিজ্ঞতা সেইসাথে সফলভাবে বড় বড় প্রকল্প শেষ করাই আওয়ামী লীগকে সাহসী করেছে। তাই দলটির ঘোষণা করা ইশতেহারটি বাস্তবায়ন করা অনেকটাই সহজ। আর সে কারণেই শেখ হাসিনা ইশতেহার ঘোষণা করে জানান, এবার আওয়ামী লীগের অঙ্গীকার টেকসই বিনিয়োগ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করা।

বিএনপি ঐক্যফ্রন্টে থাকলেও আলাদা করে ইশতেহার দিয়েছে। তাদের ইশতেহার মূলত একই ধরনের। একইরকম বাক্য ব্যবহার করা হয়েছে।

বিএনপির ইশতেহারের ভূমিকায় বিএনপি দণ্ডিত খালেদা জিয়া-তারেক রহমানের মুক্তির জন্য ভোট চেয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, আপনাদের একটি ভোট আমাদের নেত্রীর জীবনকে পুনরায় আলোয় উদ্ভাসিত করবে।

বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট জনগণের সামনে দেশ পরিচালনার যে ছবি তুলে ধরেছে তার একটা বড় অংশ তামিল সিনেমার মারপিটের দৃশ্যের মতো অবাস্তব। রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য আনা, সংসদে উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠা, দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী না থাকা, ন্যায়পাল নিয়োগ, ৭০ অনুচ্ছেদের পরিবর্তন। এ বিষয়গুলো কি তারা করতে পারবেন? অন্তত যারা রাজনীতির খোঁজখবর একটু হলেও রাখেন তারা কোনোভাবেই বিশ্বাস করবেন না।

ঐক্যফ্রন্টের একটি প্রতিশ্রুতি নিয়ে রীতিমতো তামাশা চলছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। বলা হয়েছে পুলিশ এবং সামরিক বাহিনী ছাড়া সরকারি চাকরিতে প্রবেশের কোনো বয়সসীমা থাকবে না। এটা কি বাস্তবায়ন করতে পারবে বিএনপি-ঐক্যফ্রন্ট? যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চালিয়ে যাওয়ার কথা ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহারে থাকলেও বিএনপির ইশতেহারে বিষয়টি নেই। তাহলে ক্ষমতায় আসলে বিএনপি-ঐক্যফ্রন্ট যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চালিয়ে যাবে এটা পাগলেও বিশ্বাস করবে না।

তাদের ইশতেহারে জঙ্গিবাদ দমনের কোনো অঙ্গীকারই নেই। বিষয়টি অবশ্যই ভোটারদের ভাবাবে।

বিদ্যুৎ উৎপাদন নিয়েও কোনো প্রতিশ্রুতি নেই তাদের ইশতেহারে। বড় কোনো প্রকল্পের স্বপ্নও দেখাতে পারেনি তারা। বিএনপি ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহারে গালভরা বড় বড় কথার ফুলঝুরি থাকলেও তা কতটা বাস্তবায়নযোগ্য? ইশতেহার যারা প্রনয়ণ করেছেন তারাও এ প্রশ্নের উত্তর জানেন বলে মনে হয় না। এখন ভোটারদের লোভ দেখিয়ে ভোট টানা যায় না।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)