চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ইশতেহার আলোচনা

দিন দিন বাংলাদেশ রাজনীতিতে নির্বাচনী ইশতেহার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের ‘দিন বদলের সনদ’ শিরোনামের ইশতেহারটি জনগণের মনোযোগ আকর্ষণ করে।

এই সনদের দুটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার হচ্ছে ‘একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার’ এবং  ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’। বলা হয়ে থাকে যে এ দুটি অঙ্গীকারের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে ভোটারেরা এতটাই উৎসাহিত হয়েছিল যে আওয়ামী লীগ ভূমিধ্বস বিজয় অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিল।

‘দিন বদলের সনদ’ ইশতেহারের পর থেকে প্রতিটি রাজনৈতিক দল ইশতেহারের প্রতি বিশেষ মনোযোগী হয়। অনেকগুলো দল বিশেষ করে বিএনপি দশম জাতীয় নির্বাচন বর্জন করে তা প্রতিহত করতে সন্ত্রাস, নৈরাজ্য চালালে সে নির্বাচন জনমনে নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পায়; নির্বাচনী ইশতেহার ‘শান্তি, গণতন্ত্র, উন্নয়ন এবং সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ’ – সাধারণ আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায়নি।

‘দিন বদলের সনদ’-  ইশতেহারটি এতটাই জনপ্রিয় হয়েছিল যে একাদশ জাতীয় নির্বাচনে অনেকগুলো রাজনৈতিক দল নির্বাচনী ইশতেহার গুরুত্বের সঙ্গে তৈরি করেছে এবং তা জাতির সামনে উপস্থাপন করেছে।

পেপার-পত্রিকা-টেলিভিশনগুলোতে বেশ কিছুদিন আগে থেকেই কোন দলের/জোটের ইশতেহারে কী কী বিষয় আসছে, কে কে ইশতেহার তৈরির দ্বায়িত্ব পেয়েছেন, ইত্যাদি বিষয় নিয়ে প্রতিবেদন করেছে। এবারে সিপিবি দিয়েছে ‘ভিশন মুক্তিযুদ্ধ ৭১’।

আওয়ামী লীগের ইশতেহার ছাড়াও আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের শরিকদের মধ্যে জাতীয় পার্টি এবং ওয়ার্কার্স পার্টি আলাদা করে ইশতেহার দিয়েছে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্ট এবং বিএনপি একদিনের ব্যবধানে দুটি আলাদা ইশতেহার দিয়েছে।

ইশতেহার দুটির মধ্যে বেশির ভাগ অঙ্গীকার একই থাকলেও দুটি ক্ষেত্রে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছেঃ ১) ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহারে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলমান রাখার অঙ্গীকার করা হয়েছে। বিএনপি ইশতেহারে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিষয়ে কোন বক্তব্য নেই। ২) ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহারে সরকারি চাকরির কোন বয়সসীমা থাকবে না বলা হলে গণমাধ্যম এবং সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা এবং হাস্যরস করা হলে পরের দিন প্রকাশিত বিএনপি’র ইশতেহারে এ বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি।

ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহার ঘোষণার সময় বিএনপির নেতৃবৃন্দ সেখানে উপস্থিত ছিলেন, মঞ্চে ছিলেন বিএনপি মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহার কী বিএনপি’র নয়? ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহার মানে হচ্ছে তার অন্তর্ভুক্ত সকল দলের ইশতেহার।

বিএনপি যেহেতু ঐক্যফ্রন্টের অন্তর্গত সেহেতু ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহার অবশ্যই বিএনপি’র ইশতেহার। বিএনপি’র আরেকটা ইশতেহার দেবার দরকার কী ছিল? এ প্রশ্নের উত্তর দেয়নি বিএনপি।

জামায়াত যেহেতু ঐক্যফ্রন্টের মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচন করছে সেহেতু ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহার এবার জামায়াতের ইশতেহার হিসেবে গণ্য হবে।

ঐক্যফ্রন্ট এবং বিএনপি’র উভয় ইশতেহারে যেসব বিষয়ের উল্লেখ করা হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতি’র ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য আনা; সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে শুধু অনাস্থা ও অর্থবিল ছাড়া অন্য যেকোন ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে ভোট দানের অধিকার দেয়া হবে; সংসদের উচ্চ কক্ষ সৃষ্টি করা; এবং পর পর দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হবার পথ বন্ধ করা। প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতি’র ক্ষমতার মধ্যে কীভাবে ভারসাম্য আনা হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত কোন আলোচনা ইশতেহারে না থাকায় এ বিষয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে; ভোটারেরা বুঝতে পারছে না, কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না।

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করা কতটুকু বাস্তব সম্মত সে বিষয়ে ব্যাপক দ্বিধা-বিভক্তি আছে বুদ্ধিজীবীদের মধ্যেই। বেশির ভাগ অগ্রসর মানুষ মনে করে ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করার মত রাজনৈতিক পরিপক্কতা আসতে আমাদের আরও কয়েক দশক সময় লাগবে। উপযুক্ত পরিবেশের অনুপস্থিতিতে ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করে সংসদ সদস্যদের ভোটাধিকার উম্মুক্ত করে দেয়া হলে সংসদে রাজনৈতিক দলগুলোর নিয়ন্ত্রণ থাকবে না; সদস্যরা লবি গ্রুপের প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে পরিণত হবে। যে দেশে এক দল থেকে মনোনয়ন না পেয়ে পরের দিন অন্য দল থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচন করার মনোনয়ন চাওয়া এবং পাওয়া যায় সে দেশে ঐক্যফ্রন্টের মত করে ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন করা খুবই অনুচিত কাজ হবে।

সংসদে উচ্চ কক্ষ সৃষ্টি করার অঙ্গীকার করেছে বিএনপি এবং ঐক্যফ্রন্ট। বলা হয়েছে সকল অংশীজনের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে উচ্চকক্ষের গঠন প্রক্রিয়া নির্ধারণ করা হবে। কিন্তু উচ্চ কক্ষ কেন দরকার সে বিষয়ে কোন বক্তব্য আগেও পাওয়া যায়নি, ইশতেহার দুটিতেও নেই। নিম্নকক্ষ থেকে আসা বিলগুলো রিভিউ করে রাণীর কাছে পাঠানো ছাড়া যুক্তরাজ্যের উচ্চ কক্ষের আসলে তেমন কোন কাজ নেই। এই উচ্চ কক্ষের সদস্যদের (যাদের লর্ড বলা হয়) নিয়োগ দানের দ্বায়িত্ব রাণীর। রাণী সাধারণত অভিজাতদের মধ্য থেকে উচ্চ কক্ষে নিয়োগ দিয়ে থাকেন। এরা রাণীর আজ্ঞাবহ একটি পরামর্শকমন্ডলী বৈ কিছুই নয়।

ভারতের উচ্চকক্ষ যুক্তরাজ্যের আদলে তৈরি করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চকক্ষের সদস্যরা সরাসরি নির্বাচনে নির্বাচিত হয়ে আসেন। সেখানে আইন হওয়ার আগে একই বিল দুই কক্ষে পাশ হতে হয়। এতে কথার জটিলতা বাড়িয়ে আইন প্রণয়ণ দীর্ঘায়িত করা ছাড়া আর কিছু হয় বলে মনে করি না। সকল উচ্চকক্ষেরই কিছু রাষ্ট্রীয় পদে নিয়োগ দানের দ্বায়িত্ব আছে। রাষ্ট্রপতি বা রাণীর হয়ে তারা সরকার মনোনীত ব্যক্তিকে যাচাই-বাছাই করে শুনানি করে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখেন।

বাংলাদেশে উচ্চকক্ষ দিয়ে কী করা হবে তা কেউ জানে না। তবে ধারণা করা হয় যে মার্কিন আদর্শপুষ্ট তথাকথিত সুশীল সমাজ যারা যুদ্ধাপরাধের বিচারে বাঁধা সৃষ্টি থেকে শুরু করে সকল বিষয়ে আওয়ামী লীগের বিরোধিতা করে স্বাধীনতা বিরোধীদের পক্ষে রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টি করে তাদের পুরস্কৃত করার জন্য উচ্চকক্ষ বানানোর পাঁয়তারা করছে ঐক্যজোট।

বাংলাদেশ দীর্ঘ দিনের সামরিক শাসন এবং সাম্রাজ্যবাদীদের আগ্রাসন কাটিয়ে সবে মাত্র ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে; দেশ গঠনের কাজ, অর্থনৈতিক মুক্তির কাজ একটা দীর্ঘ মেয়াদী ভিশন নিয়ে চলছে। যেসব দেশ উন্নত হয়েছে তাদের প্রতিটি দেশের পেছনের দিকে তাকালে দেখা যায় যে উন্নতির পেছনে রয়েছে দীর্ঘ দিনের একক নেতৃত্ব।

উদাহরণ হিসেবে মালয়েশিয়ার মাহাথির মোহাম্মদ এবং সিঙ্গাপুরের লী কুয়ান এর নাম উল্লেখ করা যায়। এই নেতারা দীর্ঘ সময় না পেলে তাদের দেশের আমূল পরিবর্তন ঘটানোর সুযোগ পেতেন না। বর্তমান বাংলাদেশে চলছে শেখ হাসিনার উন্নয়ন যাত্রা। পর পর দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকা যাবে না – এমন বিধান আমাদের সংবিধানে যুক্ত থাকলে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা এখানেই থেমে যেত; আগামী মেয়াদে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে আরও বেশি পরিপক্কতা নিয়ে দেশকে উন্নত দেশে পরিণত করার আশা পর্যন্ত করা যেত না।

বিএনপি এবং ঐক্যফ্রন্টের এই অঙ্গীকার উন্নত গণতন্ত্রের দেশের ক্ষেত্রে উপযুক্ত হলেও বাংলাদেশে বাস্তবতা বিবর্জিত।

আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার ২০১৮ এর শিরোনাম দিয়েছে ‘সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’। এ ইশতেহারে রাজনৈতিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক ৩৩টি বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে; প্রতিটি বিষয়ে গত দশ বছরের সাফল্য ও অর্জন এবং একাধীক অঙ্গীকার করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগ ইশতেহারের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়েছেঃ দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, আমার গ্রাম – আমার শহর, তারুণ্যের শক্তি – বাংলাদেশের সমৃদ্ধি, নারীর ক্ষমতায়ন, দারিদ্র বিমোচন ও বৈষম্য হ্রাস, এবং সামষ্টিক অর্থনীতিঃ উচ্চ আয়, টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন।

এটি শুধু আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে তৈরি করা হয়নি বরং এটাকে ৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার দিকদর্শন হিসেবে গ্রহণ করা যায়।

ইশতেহারের ৩৩টি বিষয়ের প্রতিটি একটির সঙ্গে অপরটি এমনভাবে জড়িত যে সবগুলো বিষয়ে সমন্বিতভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে বলে ইশতেহারটি পূর্ণতা পেয়েছে।

ইশতেহারটি জাতিসংঘের এমডিজি এবং এসডিজি লক্ষ্যগুলো অর্জনের সঙ্গে এবং ‘ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০’ এর সঙ্গে সমন্বিত করা হয়েছে। এই ইশতেহারটিকে একটি সম্পুর্ণ বাংলাদেশ ভিশন বলে মনে হয়েছে।

২০০১-০৬ সালের জামায়াত-বিএনপি জোট সরকারের আমলে বাংলাদেশ পর পর পাঁচ বার দুর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। ১/১১ সরকারের সময়ে এ তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থানের পরিবর্তন হতে শুরু করে। বিগত দশ বছরে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল এর দুর্নীতির তালিকায় বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে উন্নতি করছে। বাংলাদেশে দুর্নীতি কমে এসেছে তবে তা এখনো যথেষ্ট হওয়া থেকে অনেক দূরে।

এসময়ে রাজনৈতিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন যা হয়েছে তা আরও কম সময়ে, কম খরচে হতে পারত যদি দুর্নীতি সহনীয় মাত্রায় রাখা যেত। এ উপলব্ধি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের হয়েছে। নির্বাচনী ইশতেহারে তারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছে।

গত দুই মেয়াদে আওয়ামী লীগ যেভাবে যুদ্ধাপরাধী এবং জঙ্গিদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স দেখিয়ে সাফল্য অর্জন করেছে একইভাবে একাদশ জাতীয় নির্বাচনে জয়লাভ করে সামনের পাঁচ বছর দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যায় তবে দেশের অন্যতম একটা প্রধান সমস্যার সমাধান হবে।

রাজনৈতিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে ৪১ সাল নাগাদ উন্নত দেশ হওয়ার অন্যতম পূর্বশর্ত হচ্ছে দুর্নীতি মুক্ত বাংলাদেশ। এত বেশি দুর্নীতি নিয়ে কোন দেশ উন্নত হতে পারে নাই, পারে না।

ইশতেহারে যেসব অঙ্গীকার করা হয়ে থাকে তা রাজনৈতিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের একটা ডাইরেকশন তৈরী করে। ভোটারেরা ইশতেহার দেখে বুঝতে পারে কোন দলকে ভোট দিলে দেশ কোন দিকে যাবে। ইশতেহার বিচার, বিশ্লেষণ করার সুযোগ থাকে। এতে বর্নিত বিষয়গুলো দেশের মৌলিক নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি-না তা বিচার করা যায়।

ইশতেহারে উল্লেখ করা সংখ্যাগুলো সঠিক কি-না তা যাচাই করা যায়। তদুপরি বিভিন্ন তথ্য, উপাত্ত এবং ত্বত্ত্বের সঙ্গে তা যাচাই করে, বিশ্লেষণ করে ইশতেহার কতটা দৃঢ় হয়েছে তা বিচার করা যায়; বিচারের ভিত্তিতে ভোট দানের সিদ্ধান্ত নেয়া যায়। নির্বাচনী ইশতেহার জনগণের কাছে রাজনৈতিক দল/জোটের জবাবদিহিতা বাড়ায়। এসব কারণে উন্নত দেশগুলোতে নির্বাচনী ইশতেহার খুব গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়।

আওয়ামী লীগের ‘দিন বদলের সনদ’ থেকে আমাদের দেশেও ইশতেহারের প্রতি সামাজিক গুরুত্ব বেড়েছে। ভবিষ্যতে বিভিন্ন ইশতেহারের মধ্য তুলনামূলক বিচার-বিশ্লেষণ আরও বৃদ্ধি পাবে; ভুলত্রুটি বেড় হয়ে আসবে; জনগণের কাছে রাজনৈতিক দল/জোটগুলোর জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাবে।

সব ক’টা ইশতেহারে কী কী করা হবে তার তালিকা আছে কিন্তু তা বাস্তবায়ন করতে কত টাকা লাগবে, সে টাকা কোথা থেকে আসবে তা বলা হয়নি। ফলে ইশতেহার আসলেই বাস্তবায়নযোগ্য কিনা সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায় না।

ইশতেহার গ্রহণযোগ্য করে তুলতে হলে অঙ্গীকারগুলো বাস্তবায়ন করতে কত টাকা বাড়তি প্রয়োজন হবে, এই বাড়তি টাকা যোগার করতে নতুন কোন কর আরোপ করতে হবে কিনা? হলে, তা ভ্যাট, আমদানী শুল্ক না আয়কর থেকে আসবে? নতুন ভ্যাট, শুল্ক এবং/অথবা আয়কর বসাতে হলে তা কোন কোন পণ্য বা সেবার উপর বসাতে হবে?

আয়কর বাড়াতে হলে কর হার বাড়বে না কর জাল বাড়বে, কতটুকু বাড়বে? এসব প্রশ্নের উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত নির্বাচনী ইশতেহার সম্পূর্ণ বিশ্বাসযোগ্য হবে না। দেশে ইশতেহার ঘোষণায় গুরুত্ব বেড়েছে। ভবিষ্যতে তাকে আর্থিক মূল্যায়ণ করে উপস্থাপন করা হলে দেশে রাজনৈতিক জবাবদিহিতা, ভোটারের পছন্দ করার স্বাধীনতা বৃদ্ধি পাবে; বেড়ে যাবে গণতান্ত্রিক চর্চা।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

FacebookTwitterInstagramPinterestLinkedInGoogle+YoutubeRedditDribbbleBehanceGithubCodePenEmail