চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ধর্মঘট কেন?

চার ইন্টার্ন চিকিৎসকের শাস্তির প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন জেলায় ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি চলছে। কর্মবিরতিতে থাকা ডাক্তারদের দাবি, শাস্তি হলে জড়িত দু’পক্ষকেই শাস্তি দিতে হবে, শুধু চার ইন্টার্ন চিকিৎসককে নয়।

বিজ্ঞাপন

বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া কর্মবিরতি অন্য জায়গাতেও ছড়িয়ে পড়ায় ভোগান্তি পোহাচ্ছেন রোগীরা।

গত ১৯ ফেব্রুয়ারি বগুড়ার ওই হাসপাতালে রোগীকে মারধর ও কানধরে উঠবস করার ঘটনা নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ২৫ ফেব্রুয়ারি বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি পাঠানো হয়। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের পর বগুড়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চার ইন্টার্ন চিকিৎসকের ইর্ন্টানশিপ ছ’মাসের জন্য স্থগিত করা হয়। শাস্তি পাওয়া চার ইন্টার্ন চিকিৎসকের ন’মাসের ইন্টার্ন মেয়াদের মধ্যে ছ’মাসই শেষ হয়ে গেছে।  দ্বিতীয় শাস্তি হিসেবে ছ’মাসের স্থগিতাদেশ শেষে বাকি তিন মাস অন্য কোন মেডিক্যাল কলেজে ইন্টার্নি শেষ করতে হবে।

এর প্রতিবাদ হিসেবেই বগুড়ার ইন্টার্ন চিকিৎসকরা ৭২ ঘণ্টার কর্মবিরতি ঘোষণা করেন। পরে বিভিন্ন জেলা-উপজেলার অন্যান্য মেডিক্যাল কলেজের ইন্টার্ন চিকিৎসকরাও তাদের প্রতিবাদে সংহতি প্রকাশ করেন।

বিজ্ঞাপন

ইন্টার্ন ডাক্তারদের একজন কুতুব উদ্দিন বলেন, ‘শাস্তি যদি নৈতিক কারণে হয়, তবে যাদের কারণে এ ঘটনা তাদেরকেও শাস্তি দেয়া হোক। ওরা কেন বিশেষ এলাকার বাসিন্দা হওয়ার কারণে ছাড় পেয়ে যাবে? শাস্তি অবশ্যই বাতিল করতে হবে এবং আমাদের নিরাপদ কর্মস্থলের ব্যবস্থাও করতে হবে।’

আরও কয়েক ইন্টার্নের অভিযোগ, ডাক্তারদের নিবন্ধন থেকে শুরু করে ডাক্তারি প্র্যাকটিসের অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি)। সেই হিসেবে এ ঘটনার তদন্ত করতে হলে প্রথমে বিএমডিসি’রই তা করার কথা। শাস্তি দিলেও এই প্রতিষ্ঠানটিই দেবে। তাহলে বিএমডিসি’র সম্পৃক্ততা ছাড়াই মন্ত্রণালয় কেন আগে তদন্ত করবে, কেনই বা তারা শাস্তি দেবে?

বগুড়ায় ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতির সঙ্গে একাত্মতা জানিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় কর্মবিরতির ডাক দেয় ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদ। শাস্তি প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন ধর্মঘটে থাকা চিকিৎসকরা।

বেশ কিছু জেলায় ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদ মানববন্ধনে চিকিৎসকদের কর্মস্থল নিরাপদ করার দাবি জানানো হয়।

তবে, ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বড় অংশই তাদের দায়িত্ব পালন করছেন।