চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ইতিবাচক কাজের এমন শো আপ চলবে: রাব্বানী

সম্প্রতি দেশজুড়ে যখন ধানের ন্যায্য মূল্য নিয়ে চলছে আলোচনা। পাকা ধান ঘরে তুলতে না পেরে আগুন জ্বালিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন কৃষকরা। এরই মাঝে নতুন করে আরেক আলোচনার জন্ম দিয়েছেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী।

বিজ্ঞাপন

লুঙ্গি পরে, কাস্তে হাতে কৃষকের ধান কেটে এসেছেন আলোচনায়। অনেকে বিষয়টাকে ইতিবাচক হিসেবে নিলেও কেউ কেউ এটাকে শুধুমাত্র লোক দেখানো হিসেবেই উল্লেখ করছেন। তবে মানুষের এ সমালোচনায় কোনো আপত্তি নেই ছাত্রলীগের এই সাধারণ সম্পাদকের।

চ্যানেল আই অনলাইনের সাথে একান্ত আলাপচারিতায় তিনি খোলােমেলা কথা বলেছেন সেসব বিষয় নিয়ে।

গত মঙ্গলবার ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মো. রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কৃষকদের ধান কাটাসহ সব ধরনের সহযোগিতা করতে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের আহ্বান জানানো হয়।

এর পরদিনই বুধবার সাভারে  নিজেই ধান কাটতে নেমে যান ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। তার নেতৃত্বে স্থানীয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ধান কাটেন।

এরপর বৃহস্পতিবার মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার নিমতলীতে কৃষক আবুল কাশেমের ডাকে সাড়া দিয়ে তার ক্ষেতের ধান কাটতে যান ছাত্রলীগের দুই শীর্ষ নেতা ও তাদের অনুসারীরা।

বিজ্ঞাপন

গোলাম রাব্বানী বলেন: আমি সেখানে গিয়েছি আমার সারাদেশের নেতা-কর্মীরা যাতে আমাকে দেখে উৎসাহিত হয়। বিন্দু থেকেই সিন্ধু হয়। আর তাই আমি ধান কাটতে নামলে আমার সারা দেশের নেতা-কর্মীরা আমাকে অনুসরণ করবে। সারাদেশে ছাত্রলীগের যে বিপুল সংখ্যক নেতা কর্মী রয়েছে। সেখান থেকে ১ অংশ নেতা-কর্মীরাও যদি আমাকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে ধান কাটতে নামে তাহলে কৃষকদের আর আলাদা করে ধান কাটার জন্য মজুর নিতে হবে না। তখন কৃষকরা যে মূল্যে ধান বিক্রি করতে পারবে তাতে করে তাদের সমস্যা হবে না।

তবে এতো গেলো স্বল্পমেয়াদী সমাধান দীর্ঘমেয়াদী কৃষকদের এ সমস্যার সমাধানের জন্য আপনারা কী করছেন? এ প্রশ্নের উত্তরে গোলাম রাব্বানী বলেন: কৃষকরা যাতে ধানের ন্যায্য মূল্য পায় সেজন্য আমরা সরাসরি কৃষকদের সাথে সরকারের সেতুবন্ধন করে দেবো। এ লক্ষ্যে আমরা কৃষি, খাদ্য ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বরাবর স্মারকলিপি দেবো। আমাদের প্রস্তাব থাকবে সরকার সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কিনবে। ডিসি ইউএনও’রা সরকারের পক্ষ থেকে কৃষকের কাছ থেকে ধান কিনে নেবে। তাহলে মধ্যস্বত্তভোগীরা সুবিধা ভোগ করতে পারবে না। কৃষকও ধানের ন্যায্য মূল্যটা পাবে। খাদ্য মন্ত্রণালয়কে আমরা সুপারিশ করবো ধানের মূল্য যাতে নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়। আর সরকার যাতে নির্দিষ্ট মূল্যে ৭০ শতাংশ ধান কিনে নেয়। তাহলে মজুতদাররা আর সিন্ডিকেট করতে পারবে না। প্রান্তিক কৃষক, ডিসি ইউএনও আর ন্যায্যমূল্যে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কিনতে প্রশাসন ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে সেতুবন্ধন গড়ে দিতে সর্বাত্মক চেষ্টা করবে ছাত্রলীগ।

সাদা ধবধবে লুঙ্গি, হাতে ঘড়ি, ধোপ দুরস্ত পোশাক নিয়ে বিস্তর সমালোচনা চলছে। অনেকে এটাকে কৃষকের সাথে প্রহসন বলে মন্তব্য করেছেন। বিষয়টাকে আপনি কীভাবে দেখছেন? অনেকে এ প্রশ্নও করেছেন এই ছবি তোলার পর কতক্ষণ ধান কেটেছেন আপনি?

গোলাম রাব্বানী: আমি কৃষক না। আমি সেখানে গেছি প্রতীকি হিসেবে। আমাকে দেখে সবাই যেনো ধান কাটতে উৎসাহিত হয়। আমি কৃষকদের সহায়তা করতে গেছি। পাছে লোকে কিছু বলে এ কথায় আমি বিশ্বাস করি না। আমি বিশ্বাস করি প্রচারেই প্রসার। আমার ধান কাটার ছবি ভাইরাল হলো, আলোচনা হলো। মিডিয়ায় প্রচার হলো। আমার দেখাদেখি আমার সারাদেশের নেতা-কর্মীরাও উৎসাহিত হলো। আমার আপা (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) আমার এ কাজে খুব খুশি হয়েছেন। উনি আমার কাজকে সমর্থন জানিয়েছেন। আর এটাকে যদি কেউ শো আপ বলে তাহলে আমি সেটা ইতিবাচক হিসেবেই দেখবো। তবে এ ধরনের কাজ নতুন না আমি ছোট থেকেই বিভিন্নভাবে মানুষকে সাহায্য করতে চাইতাম এবং করতাম। আমার এটা ভালো লাগে।

জাতির জনকের একটা কথা দ্বারা আমি খুব অনুপ্রাণিত হই। রাজনীতি করলে তোমাকে ফুলের মালা যেমন নিতে হবে। তেমন জুতার মালাও নিতে হবে। আর তাই আমি বিশ্বাস করি আলোচনা যেমন চলবে সমালোচনাও তেমন চলবে। আর এর মধ্য দিয়েই ভালো কাজ হবে।

এ বছর বোরো ধান আবাদ করে উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় সারা দেশে চলছে কৃষকদের বিক্ষোভ। নিজের ক্ষেতের ধান পুড়িয়ে বিক্ষোভ করেছেন অনেকে।

কৃষকদের এ বিক্ষোভের মুখে অর্থমন্ত্রী চাল আমদানি নীতি সীমিত করার কথা বলেছেন।

অন্যদিকে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ধান উৎপাদন হওয়ায় চাল আমদানি পুরোপুরি বন্ধ রাখতে সুপারিশ করেছে খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।