চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ইউএস বাংলা ট্র্যাজেডির এক বছর, তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে এখনো প্রশ্ন

নেপালে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজ দুর্ঘটনার এক বছর আজ। ২০১৮ সালের ১২ মার্চ কাঠমান্ডুর ত্রিভূবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মর্মান্তিক ওই দুর্ঘটনায় পাইলটসহ নিহত হন ৪৯ জন।

দুর্ঘটনায় চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হলেও তা নিয়ে রয়ে গেছে নানামুখী প্রশ্ন।

বিজ্ঞাপন

২০১৮’র ১২ মার্চ দুপুরে ৭১ জন যাত্রী নিয়ে কাঠমান্ডুর উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ার সময় ইউএস বাংলা ফ্লাইটটিতে ঠিকঠাক ছিল সবকিছু। বিপত্তি বাঁধে যাত্রার ৭৫ মিনিট পর।

পাহাড় ঘেরা ত্রিভূবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে বিধ্বস্ত হয় বোমবার্ডিয়ার ড্যাশ ৮কিউ৪০০ উড়োজাহাজটি। এ ঘটনায় ক্রুসহ ৪৯ আরোহী মারা যান। নিহতদের মধ্যে ২৬ জনই বাংলাদেশি। আরও ২০ জন প্রাণে বেঁচে গেলেও গুরুতর আহত হন।

দুর্ঘটনার পর থেকে এর কারণ নিয়ে নানা ধরনের কথাবার্তা এসেছে আলোচনায়। এ নিয়ে একাধিক তদন্ত কমিটি হয়েছে। এর মধ্যেই জানা যায়, পাইলট এবং ত্রিভূবন বিমানবন্দরের এয়ারট্রাফিক কন্ট্রোলের কথোপকথন।

বিজ্ঞাপন

চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় নেপাল সিভিল এভিয়েশন। সেখানে দুর্ঘটনাটির বিভিন্ন কারণের মধ্যে ককপিটে পাইলটের ধুমপান এবং ককপিট-এয়ারট্রাফিক কন্ট্রোলের ভুল বোঝাবুঝিকে দায়ী করা হয়।

তবে ওইদিনই ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করে নেপালের তদন্ত প্রতিবেদনকে একপেশে দাবি করে বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশন অথরিটি।

অবশ্য দুর্ঘটনার জন্য উড়োজাহাজের কোনো ত্রুটির কথা বলেনি কোনো পক্ষই। তবে বাংলাদেশ বিমানের অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র পাইলট ক্যাপ্টেন সাইদ মাহবুব হেলালসহ অন্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাইলট এবং নেপালের এয়ারট্রাফিক কন্ট্রোল আরও দায়িত্বশীল আচরণ করলে হয়তো বাংলাদেশের ইতিহাসে এই সবচেয়ে বড় উড়োজাহাজ দুর্ঘটনা এড়ানো যেত।

নেপাল ট্র্যাজেডির পর বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশন ফ্লাইট সেফটির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে বলেও জানান ক্যাপ্টেন সাইদ মাহবুব হেলাল।

সাম্প্রতিক সময়ে ফ্লাইট সেফটির পাশাপাশি চট্টগ্রামের ঘটনায় বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আলোচিত হচ্ছে জোরেশোরে।