চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

ইংল্যান্ড: হতাশার গল্প নাকি নতুন ইতিহাস

চার বছর আগে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে বাংলাদেশের কাছে হেরে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয় ইংল্যান্ড। তারপর থেকেই আমূল বদলে যায় মরগান-রুটদের দল। ধারাবাহিক নৈপুণ্য উপহার দেয়া স্বাগতিকরা এবারের আসরের অন্যতম হট-ফেভারিট হিসেবেই শুরু করবে। শেন ওয়ার্ন, গ্লেন ম্যাকগ্রা থেকে শুরু করে কিংবদন্তি তারকারা ইতোমধ্যে ইংল্যান্ডকে বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় দাবিদার হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন। রাত পোহালেই শুরু হতে যাওয়া টুর্নামেন্টে এবার নিজেদের সেরাটা দেখানোর পালা রয়-মঈনদের।

বিধ্বংসী ব্যাটিং লাইন, অসাধারণ বোলিং ইউনিট ও দুর্দান্ত সব অলরাউন্ডার রয়েছে ইংল্যান্ডের স্কোয়াডে। সেইসঙ্গে হোম গ্রাউন্ডের সুবিধা তো পাবেই তারা। ফলে ইংল্যান্ডকে হট-ফেভারিট বললে সেটি বাড়াবাড়ি হওয়ার কথা নয়!

বিজ্ঞাপন

শক্তিমত্তা
ইংল্যান্ডের মূল শক্তি তাদের বিধ্বংসী ব্যাটিং লাইনআপ। ২০১৭ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৪৪৪ রানের অতিমানবীয় দলীয় সংগ্রহ গড়ে ইতিহাস লেখে ইংল্যান্ড। কিছুদিন পর অস্ট্রেলিয়ান বোলারদের পাড়ার বোলার বানিয়ে করে ৪৮১ রান। ফলে আসন্ন বিশ্বকাপে ইংলিশ ব্যাটিং লাইন নিয়ে অতিরিক্ত হোমওয়ার্ক করেই নামতে হবে প্রতিপক্ষ দলগুলোকে।

বোলিং লাইনআপে কিছুটা ঘাটতি থাকলেও শেষ মুহূর্তে জফরা আর্চারের অর্ন্তভুক্তি সেটি পুষিয়ে দিয়েছে। ক্রিস ওকস, মার্ক উড ও বেন স্টোকসের সঙ্গে আর্চারের মেলবন্ধন- প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের ছেড়ে কথা বলবে না টিম ইংল্যান্ড। স্পিনের মায়াবী ঘূর্ণিতে ব্যাটসম্যানদের পরীক্ষা নিতে প্রস্তুত মঈন আলি ও আদিল রশিদ।

দুর্বলতা
তবে ইংল্যান্ডের বড় দুশ্চিন্তা হল গত কয়েকবছরে তাদের বোলারদের এখনো পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়নি। কোনো ম্যাচে দলের ব্যাটসম্যানরা ব্যর্থ হলে সেই ক্ষতি বোলাররা পুষিয়ে দিতে পারেন কি-না সেটিই বড় প্রশ্ন। অন্যদিকে হোম কন্ডিশনের কারণে প্রত্যাশার বিরাট চাপ থাকবে মরগান-মঈনদের উপর।

বিজ্ঞাপন

চোখ থাকবে যার উপর: জস বাটলার
জনি বেয়ারস্টো, জেসন রয় ও ইয়ন মরগানদের মতো তারকা খেলোয়াড়ে ঠাসা ইংল্যান্ড দল। তবে দ্বাদশ বিশ্বকাপে বিশেষ চোখ থাকবে জস বাটলারের প্রতি। বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে মুহূর্তেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারঙ্গম এই স্টাইলিশ ব্যাটসম্যান। মিডল ও টেলএন্ডারদের নিয়ে জুটি গড়ে বেশ কয়েকবার দলকে বিপদ থেকে উদ্ধার করেছেন তিনি। ডেথ ওভারগুলোতে ঝড় তুলে মুহূর্তেই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিতে পারেন বাটলার। তবে বিশ্বমঞ্চে নিজেকে তিনি কতটা মেলে ধরতে পারেন সেটিই দেখার বিষয়।

এক্স ফ্যাক্টর: আদিল রশিদ
আদিল রশিদকে নিয়ে প্রতিপক্ষের টিম মিটিংয়ে আলোচনা তুলনামূলক কম হবে বলেই মনে হচ্ছে। তবে ২০১৫ বিশ্বকাপের পর ইংল্যান্ডের হয়ে ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ উইকেট নেয়া এই স্পিনার হোম কন্ডিশনে প্রতিপক্ষের জন্য ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারেন।

বিশ্বকাপে ইতিহাস
১৯৭৫ সালে বিশ্বকাপের প্রথম আসর আয়োজন করা ইংল্যান্ড সেবার সেমিফাইনাল খেলে। এরপর ১৯৭৯, ১৯৮৭ এবং ১৯৯২ সালের আসরে ফাইনাল খেললেও শিরোপায় চুমু আঁকা হয়নি ক্রিকেটের আদিভূমি দেশটির। এরপর থেকেই বিশ্বকাপ মানেই ইংল্যান্ডের হতাশার গল্প। গত আসরে বাংলাদেশের কাছে হেরে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেয় ইংল্যান্ড। সর্বশেষ ছয় আসরেই সেমিফাইনালে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়।

৩০মে বিশ্বকাপের দ্বাদশ আসরের উদ্বোধনী ম্যাচে শক্তিশালী সাউথ আফ্রিকার মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড। ঘরের মাঠে ইংলিশরা কতদূর যেতে পারবে উদ্বোধনী ম্যাচেই তার বড় একটা পরীক্ষা হয়ে যাবে।

ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ দল
ইয়ন মরগান (অধি.) মঈন আলি, জনি বেয়ারস্টো, জস বাটলার, টম কারেন, লিয়াম ডসন, জেমস ভিন্স, লিয়াম প্লাঙ্কেট, আদিল রশিদ, জো রুট, জেসন রয়, বেন স্টোকস, জফরা আর্চার, ক্রিস ওকস ও মার্ক উড।