চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

আল-জাজিরার প্রতিবেদন নিয়ে নতুন মিশনে আইসিসি

অনিল মুনাওয়ার নামের এক ম্যাচ ফিক্সারের ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করতে ম্যাচ গড়াপেটার এক বিশ্লেষক সংস্থাকে ভাড়া করেছে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি।

আইসিসির এই তৎপরতা কেন? সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক টেলিভিশন চ্যানেলের ‘স্টিং অপারেশনে’ দেখা যায় মুনাওয়ার দাবি করছেন, সাম্প্রতিক অতীতে কিছু টেস্ট ম্যাচের ‘সেশন’ নাকি গড়াপেটা হয়েছে। মঙ্গলবার আইসিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘সংশ্লিষ্ট টিভি চ্যানেলের মাধ্যমে যা জানা গেছে, তার উপর ভিত্তি করেই ম্যাচ গড়াপেটার বিশ্লেষক একটি সংস্থার সাহায্য নেয়া হচ্ছে। উদ্দেশ্য, যে ম্যাচগুলো নিয়ে অভিযোগ, তার যাবতীয় তথ্য খুঁটিয়ে পরীক্ষা করা।’

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি মুনাওয়ারকে আল-জাজিরা টিভিতে সম্প্রচারিত এক তথ্যচিত্রে দেখা গেছে। যেখানে দেখা যায় ভারত ও পাকিস্তানের দুই ক্রিকেটারকে। ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলা ওই ক্রিকেটারের নাম রবিন মরিস। আর পাকিস্তানের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা হাসানা রাজা। এবার সেই তথ্যচিত্রে মুনাওয়ার ম্যাচ গড়াপেটা সংক্রান্ত যেসব অভিযোগ করেছিলেন, তা খতিয়ে দেখতেই মাঠে নেমেছেন আইসিসির দুর্নীতিদমন শাখার কর্মকর্তারা।

তথ্যচিত্রে মুনাওয়ার দুটি টেস্ট ম্যাচ গড়াপেটা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন। যার একটি আবার ২০১৭ সালে রাঁচিতে ভারত ও অস্ট্রেলিয়া টেস্ট।

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি ওই তথ্যচিত্রের প্রথম পর্ব সম্প্রচারের পরে সংশ্লিষ্ট টিভি চ্যানেল জানায় শীঘ্রই দ্বিতীয় পর্ব সম্প্রচার হবে। যেখানে একটা বড় অংশ জুড়ে থাকবেন মুনাওয়ার। আর এরপরেই নড়েচড়ে বসেছেন আইসিসির দুর্নীতিদমন শাখার কর্মকর্তারা।

আইসিসির দুর্নীতিদমন শাখার জেনারেল ম্যানেজার অ্যালেক্স মার্শাল জানিয়েছেন, ‘ওই তথ্যচিত্রে দেখানো প্রতিটি ব্যক্তিকে শনাক্ত করেছি আমরা। তারপরে বেশ কয়েকজনের সঙ্গে ম্যাচ গড়াপেটা প্রসঙ্গে কথাও হয়েছে আমাদের।’

মার্শাল আরো বলেন, আইনি সংস্থাগুলোও মুনাওয়ারের গতিবিধি খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করছে।

মার্শাল যোগ করেন, ‘কে এই মুনাওয়ার, তা আমাদের কাছেও একটা রহস্য। কারণ, এখনো তার গতিবিধি আমাদের কাছে খুব একটা স্পষ্ট নয়। অথচ, সংশ্লিষ্ট তথ্যচিত্রের একটা বড় অংশ জুড়ে রয়েছেন এই ব্যক্তি। মুনাওয়ারকে দ্রুত খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা চলছে।’

জানা গেছে, মুনাওয়ারের ব্যাপারে সম্প্রচারকারী টেলিভিশন সংস্থার কাছ থেকে সাহায্য চেয়েছিল আইসিসি। কিন্তু ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থার দাবি, এক্ষেত্রে কোনো সাহায্যই নাকি তারা পায়নি।