চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

আলাউদ্দিনের চেরাগ পাওয়া অন্য ফারুকরা কোথায়?

এ যেন ঠিক রূপকথার গল্প। এ গল্পের নায়ক গোলাম ফারুকও সেই রূপকথার নায়কদের মতোই। আলাউদ্দিন যেমন, জাদুর চেরাগ পেয়ে রাতারাতি ধনী ব্যক্তিতে পরিণত হন। তেমনি গোলাম ফারুকও শূন্য হাতে ঢাকার অদূরে গাজীপুরে এসে কয়েক বছরের ব্যবধানে বনে যান শতকোটি টাকার মালিক। অবশ্য আলাউদ্দিনের সাথে তার বড় রকমের পার্থক্য আছে। তা হলো সততার।

বিজ্ঞাপন

পুলিশের কাছে মাদক এবং অস্ত্র ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত ফারুকের এমন উত্থানের গল্প জানিয়েছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি। তাদের ভাষ্যে চ্যানেল আই অনলাইনও এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। মূলত ৯ বছর আগে হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান ফারুক চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে স্ত্রী আফরোজা আক্তারকে নিয়ে কাজের সন্ধানে গাজীপুরে এসেছিল।

বিজ্ঞাপন

কাজ সে পেয়েছিল, তবে তা ছিল অবৈধ। একটি অপরাধী চক্রের সঙ্গে জড়িয়ে মাদক আর অস্ত্র ব্যবসা করে হঠাৎ ফুলেফেঁপে উঠে। গত ৯ বছরে তার অর্থ-সম্পদ বাড়তে বাড়তে সব রকম সীমা অতিক্রম করেছে। শেষ পর্যন্ত অন্তত ৮ মামলার আসামি হিসেবে সিআইডির জালে ধরা পড়তে হয়েছে গোলাম ফারুককে।

পৃথিবীর খুব কম দেশই আছে, যেখানে অবৈধভাবে হঠাৎ শতকোটি টাকার মালিক হওয়া যায়।এটা যে শুধুমাত্র ফারুকের বেলায় হয়েছে – তা নয়, এমন অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে বাংলাদেশে। অনেকেই আছে যারা দুর্নীতি বা অসৎ উপায়ে টাকা কামিয়ে নিজেকে সমাজের বড় বড় জায়গার প্রতিষ্ঠিত করেছে। যাদের দুর্নীতি বা অবৈধ কাজের বিচারও হয়নি। হলেও তা সংখ্যায় খুবই অল্প।

আমরা জানি, এদেশে অবৈধ পথে অর্থ অর্জন করা ব্যক্তিরা নানাভাবে সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তার করে। সেই অবৈধ অর্থের শক্তির কাছে প্রতিনিয়ত পরাজিত হতে থাকে সততা। এক কথায় বলা যায়, পুরো সমাজটাকেই কলুষিত করে ফেলে তারা। আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে দিনের আলোতেই চলে তাদের অপকর্ম।

আমরা মনে করি, একজন গোলাম ফারুক এমন বহু মানুষের প্রতিচ্ছবি। যাদের বেশির ভাগই থেকে যায় পর্দার আড়ালে। যতদিন না পর্দার আড়ালে থাকা সেইসব খারাপ মানুষকে বের করে না আনা হবে, ততদিন সমাজ কলুষমুক্ত হবে না। ফারুকের মতো অন্যদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হোক। এটাই অামাদের চাওয়া।