চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘আর্চারকে দলে নিতে যে কাউকে ছেঁটে ফেলুন’

ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জফরা আর্চারের নাম না থাকার পর থেকেই আলোচনা। তাকে দলে না রাখায় মুখ খুলছেন দেশটির একের পর এক সাবেক তারকা। এবার সেই তালিকায় যোগ হয়েছেন অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফ।

ইংলিশদের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম ‘সেরা’ এ অলরাউন্ডারের দাবি, আর্চারকে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে যোগ করতে বর্তমান স্কোয়াডের যে কাউকে ছেঁটে ফেলুক বোর্ড।

গত সপ্তাহেই ইংল্যান্ড জার্সিতে ওয়ানডে ও টি-টুয়েন্টি অভিষেক হয়েছে আর্চারের। দুই ম্যাচেই নজর কেড়েছেন বার্বাডোজে জন্ম নেয়া ক্যারিবীয় বংশোদ্ভূত এ অলরাউন্ডার।

ঘণ্টায় ৯০ মাইল (১৪৫কি.মি) গতিতে বল করতে পারেন আর্চার। সেইসঙ্গে বিভ্রান্তিকর ও কার্যকর স্লোয়ারেও ওস্তাদ তিনি। ব্যাটটা মন্দ করেন না। উজ্জ্বল অভিষেকের পর এখনো অবশ্য বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাওয়ার সুযোগ আছে তার। বুধবার থেকে পাকিস্তানের বিপক্ষে শুরু হতে যাওয়া পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ভালো করলেই মিলে যেতে পারে বিশ্বকাপের টিকিট।

‘বিস্ময়কর’ আর্চারের একজন ফ্যান ফ্লিনটফ বলেন, ‘আমি তাকে আগে বোলিং করতে দেখেছিলাম, তখন এত অবাক হয়েছিলাম এই কারণে যে, এত অল্প চেষ্টা করেও কীভাবে এতটা গতিতে বল করা যায়।’

২০১৫’র অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপে গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায় নেয় ইংল্যান্ড। কিন্তু হৃদয়বিদারক সেই বিদায়ের পর চেহারাই পাল্টে গেছে ইংলিশ দলের। আইসিসি র‌্যাঙ্কিংয়ের একনম্বর দল হিসেবে ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ খেলতে নামছে তারা।

এক নম্বর দলকে বিশ্বকাপে ভালো করতে হলে আর্চারের মতো খেলোয়াড় স্কোয়াডে থাকা দরকার বলে মনে করেন ফ্লিনটফ। বর্তমান খেলোয়াড়দের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই তিনি বলছেন, ১৫ সদস্যের দলে আর্চারকে উপেক্ষা করার কোনো কারণ ছিল না।

তার ভাষায়, ‘আপনি আমাকে জিজ্ঞেস করতে পারেন, কাকে বাদ দেবেন? আমার উত্তর, যে কাউকে। আমি মনে করি, সে খুবই মেধাবী।’

অনেকে আর্চারের পাশে দাঁড়ালেও কেউ কেউ বিপক্ষেও ছিলেন। তবে অন্য দেশ এসে ইংল্যান্ডের হয়ে খেলেছেন এমন ঘটনা ইংল্যান্ড দলে আগেও ঘটেছে।

সেই প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ফ্লিনটফের মন্তব্য, ‘আমি তার যোগ্যতা সম্পর্কে জানি, কিন্তু আমরা বহু বছর ধরে এমনটা করেছিও। আমি যখন ছোট ছিলাম, তখন রবিন স্মিথ (সাউথ আফ্রিকা বংশোদ্ভূত) এবং গ্রাহাম হিককে (জিম্বাবুয়ে বংশোদ্ভূত) ইংল্যান্ডের হয়ে খেলতে দেখেছি। কেভিন পিটারসেন (সাউথ আফ্রিকা বংশোদ্ভূত) তো খেলেছেন বেশিদিন হয়নি।’

তিনবার ফাইনালে গেলেও ক্রিকেট বিশ্বকাপ জেতা হয়নি ইংল্যান্ডের। সবশেষ ১৯৯২ ফাইনালে তারা হারে পাকিস্তানের কাছে। দেশের হয়ে তিনটি বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছেন ফ্লিনটফও। কিন্তু প্রতি আসরেই সেমিফাইনালের আগে বিদায় নিতে হয় তাকে।