চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘আমি ভাইরাল হয়ে চয়নিকা চৌধুরী হইনি’

নাটক বানিয়ে তারকাখ্যাতি পেয়েছেন চয়নিকা চৌধুরী। ২০০১ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ‘শেষ বেলায়’ নাটকের মধ্য দিয়ে পরিচালনায় আসেন তিনি। এই নির্মাতার প্রায় ১৭ বছরের বর্ণিল ক্যারিয়ারে সাফল্যের পাল্লাই ভারি। টিভি নাটকে তিনি তৈরি করেছেন নতুন ধারা। শুধু নির্মাণ নয়, অসংখ্য দর্শকনন্দিত নাটকের চিত্রনাট্যকারও তিনি।

বিজ্ঞাপন

প্রতিবারের মতো এবার ঈদেও চয়নিকা চৌধুরী পরিচালিত একেবারে নতুন নয়টি নাটক-টেলিফিল্ম প্রচার হয়েছে। এরমধ্যে একটি প্রচার হয়েছে চ্যানেল আইয়ে। নাম ‘গল্পটি হতেও পারতো ভালোবাসার’। চয়নিকা চৌধুরীর পরিচালনায় এই টেলিফিল্মটি লিখেছিলেন ফারিয়া হোসেন। ঈদের দ্বিতীয় দিন দুপুর ২ টা ৩০ মিনিটে প্রচার হয়েছিল এটি। এরপর গেল ৩১ আগস্ট আবার পুনঃপ্রচার হয়।

চ্যানেল আইয়ের অনুষ্ঠান বিভাগ জানায়, যেসব নাটক বা অনুষ্ঠান প্রচারের পরে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যায়, সেগুলো দর্শকদের কথা মাথায় রেখে পুনর্বার প্রচার হয়। ‘গল্পটি হতেও পারতো ভালোবাসার’ টেলিফিল্মটি নিয়ে নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরীও একটু বেশি আশাবাদী ছিলেন। প্রচারের আগেই তিনি বিশ্বাস করেছিলেন, এটি দর্শক গ্রহণ করবেই, তাই হয়েছে।

চ্যানেল আই অনলাইনকে চয়নিকা চৌধুরী বলেন, এই টেলিফিল্মটি যখন আমি পাই, তখন ভেবেছিলাম এই গল্পে সিনেমা বানাবো। পরে মনে হয়েছে সিনেমা কবে বানাবো তার ঠিক নেই! ঈদে এটা দিয়ে চ্যানেল আইয়ের টেলিফিল্মই বানাই। এর প্রযোজকও সম্মতি দিয়েছিলেন। তখন চারদিন ধরে শুটিং করে ‘গল্পটি হতেও পারতো ভালোবাসার’ বানাই।

তিনি বলেন, এই টেলিফিল্মটির জন্য অনেক খেটেছি। সিনেমার মতো করে পরিবেশ তৈরি করে বানাই।  চ্যানেল আই কর্তৃপক্ষ তাদের নাটক-টেলিফিল্ম খুব বেশি রিপিট টেলিকাস্ট করে না। যে‘কটা কাজ এবার ঈদে করেছে তার মধ্যে আমার ‘গল্পটি হতেও পারতো ভালোবাসার’ ছিল। এজন্য আমি চ্যানেল কর্তৃপক্ষের কাছে কৃতজ্ঞ।

চয়নিকা চৌধুরী বলেন, আমাদের সময়ে কোনো ছেলে কোনো মেয়েকে দেখে ভালো লাগলে, সেটা চোখে লেগে থাকতো। খাওয়া, ঘুম বন্ধ হয়ে যেত চিন্তায়। আর যদি পাশে এসে বসে হাত ধরতো তাহলে কতো কিছুই না ভেবে বসতাম! ভালোবাসার ফিলিংসগুলো এমনই হওয়া উচিত। কিন্তু এখন এসব দেখাই যায় না। আই লাভ ইউ, আমি মিস ইউ এরপর ব্রেকআপ! এখন প্রেম জানি কতো সহজ!

‘গল্পটি হতে পারতো ভালোবাসার’ নাটকের প্রসঙ্গ টেনে চয়নিকা চৌধুরী বলেন, এখানে ছেলেটা মেয়েটার পা দেখে, হাত চেনে, কিন্তু চেহারা কখনও দেখেনি। সেটা নিয়ে ছেলেটা পড়ে থাকে। যখন ছেলেটা আশায় বুক বেঁধে মেয়েটাকে দেখতে যায় তখন সে মারা যায়। সেই ব্যাকডেটেট কনজারভেটিব ভালোবাসার গল্প নিয়ে বানানো এই টেলিফিল্মটি। আরও দেখানো হয়েছে মেয়েটা পুরান ঢাকার। নূপুর পরে, ছাদে যায়, কবুতর পোষে, হিজাব পরে।

চয়নিকা চৌধুরী আরও বলেন, এমন ধরনের গল্প খুব কম পাই। অনেকদিন পর এমন গল্পে কাজ করেছি। কাজটি করে খুব তৃপ্তি পেয়েছি। সবকাজ যত্ন করে করি। কিন্তু এই কাজটা আমার মমতা ছিল একটু বেশি। এই নাটকের মাধ্যমেই পুরান ঢাকায় আমি প্রথম শুটিং করেছি।

কথা প্রসঙ্গে চয়নিকা চৌধুরী বলেন, আমি যখন থেকে নাটক বানাই তখন ভাইরাল জিনিসটা ছিল না। এখন তো সবকিছুইতে ভিউ আর ভাইরাল খোঁজা হয়। আমি ভাইরাল হয়ে চয়নিকা চৌধুরী হইনি। নিজের যোগ্যতার কাজ করে এসেছি। পাশে কিছু মানুষের উৎসাহ, অনুপ্রেরণা আর ভালোবাসা পেয়েছি। আমি মেধাবী নির্মাতা নই। তবে আমি অনেক পরিশ্রমী। এটা আমি সবসময় বলি। ভালোবেসে কাজ করেছি এবং পরিশ্রম আজকে আমাকে এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে, জনপ্রিয়তা এনে দিয়েছে।

এদিকে চ্যানেল আইয়ের মার্কেটিং বিভাগ থেকে জানা গেছে, এমআরবি জরিপে ৩৪ সপ্তাহের রিপোর্টে দেশের বিনোদনমূলক চ্যানেলগুলোর মধ্যে ‘গল্পটি হতেও পারতো ভালোবাসার’ গত ২১-২৪ আগস্ট পর্যন্ত টেলিফিল্ম বিভাগে শীর্ষ অবস্থানে ছিল। একইসাথে সব বিভাগের মধ্যে টপ ৩০ অবস্থানে ছিল। লাক্স নিবেদিত ‘গল্পটি হতেও পারতো ভালোবাসার’ টেলিফিল্মের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন জোভান, মেহজাবিন, আবুল হায়াত, ফারহানা রিক্তা, জ্যাকি প্রমুখ।