চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘আমি চেয়েছিলাম আমার মাদকাসক্ত সন্তান যেন মারা যায়’

৫৫ বছর বয়সী লক্ষ্মী দেবী হাহাকার করে বলছিলেন, সে আমার একমাত্র ছেলে ছিল। কিন্তু আমি প্রার্থনা করছিলাম যেন সে মারা যায়। তাই হলো, এখন আমি তার ছবি ধরে সারারাত বসে বসে কাঁদি।

বিজ্ঞাপন

তার ছেলে ২৫ বছর বয়সী রিকি লোহারিয়া অতিরিক্ত মাদক গ্রহণের কারণে মারা যায়। ভারতের পাঞ্জাবে এ বছর মাদকাসক্তির কারণে মৃত্যুর পরিমাণ প্রবলভাবে বেড়েছে।

পাঞ্জাবে অতিরিক্ত মাদকের কারণে ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে প্রাণ হারানো ৬০ জনের মধ্যে রিকি একজন। এর আগে ২০১৭ সালে সেখানে সারাবছরে মাত্র ৩০ জন মাদকাসক্তির কারণে প্রাণ হারায়।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, ২০১৮ সালের বাকি দ্বিতীয়ার্ধের তালিকা প্রকাশের সময় দেখা যাবে সেটি আরো বেড়ে গেছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাঞ্জাবে মাদকের ছোবল খুবই তীব্র আকার ধারণ করেছে। একসময়ে মাদক লেনদেনের পথ হিসেবে ব্যবহৃত পাঞ্জাবে এখন মাদক গ্রহণকারীর সংখ্যাই বেশি।

পাঞ্জাবের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ব্রাহম মাহিন্দ্র বিবিসিকে বলেন, সরকার এই রাজ্যে মাদকের প্রবেশ সীমিত করেছে। কিন্তু তারপরও কেন আগের বছরের থেকে ২০১৮ সালে বেশি বেশি প্রাণ ঝরে গেলো নেই ব্যাপারে কোনো ব্যাখ্যা তিনি দিতে পারেননি।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, কেন মৃত্যু ঘটছে সেই অভিসন্ধিটা এখনো পরিষ্কার নয়। কিন্তু অনেক প্রাণ ঝরেছে। এটা গুরুত্বপূর্ণ এবং দু:খজনক ঘটনা।

২০১৫ সালে পাঞ্জাবে মাদকাসক্তির বিশালতা পরিমাপের জন্য এক গবেষণা পরিচালনা করে দিল্লীর অল ইন্ডিয়া ইন্সটিটিউট অব মেডিকেল সাইন্স। সেই রিপোর্টে উঠে আসে এই রাজ্যে অন্তত ২ লাখ মানুষ মাদকাসক্ত।

সরকারি বিভিন্ন বিভাগের তথ্য বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে এই সমস্যা আরো তীব্র হয়ে উঠেছে আগের বছরগুলোর থেকে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী ২০১৮ সালের শুরু থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ৩০৩ কেজি হিরোইন উদ্ধার করা হয়েছে। যেখানে ২০১৭ সালের পুরো বছরে উদ্ধার হয়েছিলো ১৯১ কেজি।

মূলত তিনভাবে এসব মাদক গ্রহণ করা হয়ে থাকে, আফিম, পপি আর হিরোইন। তবে হিরোইন একটু ব্যয়বহুল মাদক। এই মাদকের টাকা যোগাড় করতে নানান অপকর্মেও জড়াচ্ছে মাদকসেবীরা।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, সেখানে আরো বেশি বেশি রিহ্যাব সেন্টার তৈরি করা উচিত। সেখানে ৯০টি ব্যক্তিমালিকানাধীন রিহ্যাব সেন্টার রয়েছে আর সরকার পরিচালিত রয়েছে ৫০টি।

স্কুল ও কলেজে আরো বেশি বেশি সচেতনতা প্রচারণা চালানো হচ্ছে। কিন্তু প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষগুলো বেশিরভাগই রিহ্যাব সেন্টার সম্পর্কে কিছু জানে না। তারা জানে না কিভাবে আবার জীবনে ফিরে আসতে হবে। এছাড়া মাদকের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত কিছু ট্যাবুও তাদের সাহায্য নেওয়ার পথে বাঁধা দেয়।

কেন পাঞ্জাবের যুবকরা মাদকে আসক্ত হচ্ছে তা বোঝারও চেষ্টা করা হচ্ছে। এভাবেই মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে পাঞ্জাব।