চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘আমি খুব খুশি, হাইকোর্ট আমার স্কুল খুলে দিয়েছে’

বন্ধ থাকা লেকহেড গ্রামার স্কুল খুলে দিতে হাইকোর্ট নির্দেশসহ যে রায় দিয়েছেন তাতে খুবই খুশি এই স্কুলের নার্সারির ছাত্র আরহাম মোহাম্মেদ তৈমূর হোসাইন।

মঙ্গলবার রায়ের সময় কোর্টে উপস্থিত আরহাম রায়ের পর চ্যানেল আই অনলাইনকে জানায়: হাইকোর্ট আমার স্কুল খুলে দিয়েছে। আমি খুবই খুশি। আগামীকাল আমি স্কুলে যাবো।

এসময় আরহামের মা ব্যারিস্টার মরিয়ম খানম জানান: স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকেই আরহামের মন খারাপ ছিল।

মঙ্গলবার সকালে লেকহেড গ্রামার স্কুল ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খুলে দেয়ার নির্দেশ দিয়ে রায় দেন হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত রুল নিষ্পত্তি করে বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেনের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ রায় ঘোষণা করেন।

আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার আখতার ইমাম ও রাশনা ইমাম। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি আ্যটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার।

তার আগে লেকহেড গ্রামার স্কুল বন্ধ করা কেন আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত হবে না এবং কেন বন্ধ স্কুল খুলে দেয়ার নির্দেশ কেন দেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে চেয়ে গত বৃহস্পতিবার রুল জারি করেন হাইকোর্ট।

এরপর গত রোববার ও সোমবার এই রুলের উপর শুনানি নিয়ে আদালত মঙ্গলবার রায়ের দিন ধার্য করেন।

রাজধানীর ধানমন্ডি ও গুলশানের দুটি শাখাসহ লেকহেড গ্রামার স্কুলের সকল কার্যক্রম বন্ধের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে তিনটি রিট করা হয়। স্কুলের নতুন মালিক ও ১২ জন অভিভাবক এ রিটগুলো করেন।

গত ৬ নভেম্বর ধানমন্ডি ও গুলশানের দুটি শাখাসহ লেকহেড স্কুলের সকল শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ করার নির্দেশ দেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত শনিবার স্কুল সিলগালা করে দেয়া হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব সালমা জাহান সাক্ষরিত চিঠিতে ঢাকা জেলা প্রশাসককে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।

চিঠিতে বলা হয়, এই প্রতিষ্ঠানটি সরকারের অনুমোদন নেয়নি। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি ধর্মীয় উগ্রবাদ, উগ্রবাদী সংগঠন সৃষ্টি, জঙ্গি কার্যক্রমের পৃষ্ঠপোষকতাসহ স্বাধীনতার চেতনাবিরোধী কর্মকাণ্ডে যুক্ত বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

২০০৬ সালে ধানমন্ডি ৬/এ সড়কে প্রতিষ্ঠিত হয় লেকহেড গ্রামার স্কুল। গুলশানে এই স্কুলের আরও দু’টি শাখা রয়েছে।