চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘আমার বিশ্বাস, পরীমনি চাইলে একদিন শাবানা হতে পারবে’

দেশের অন্যতম জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পরীমনি। আবেদনময়ী এই নায়িকার মধ্যে বাংলা চলচ্চিত্রের জীবন্ত কিংবদন্তি শাবানাকে খুঁজে পান মনপুরা খ্যাত নির্মাতা গিয়াস উদ্দিন সেলিম।

বিজ্ঞাপন

মুক্তির অপেক্ষায় থাকা ‘স্বপ্নজাল’ ছবিতে কাজ করার পর পরীমনি সম্পর্কে এমনটাই মন্তব্য করেছেন নির্মাতা সেলিম। পরীমনিকে নিয়ে নির্মাতা সেলিম বলেন, কোনো একটি বিষয় বুঝিয়ে দিলে পরী চট করে আয়ত্ত করে ফেলে, ওকে আমি বলি কুইক লার্নার। এটি খুব কম শিল্পীর মধ্যে দেখা যায়।

একজন শিল্পী যখন কুইক লার্নার হয়, তখন সে অনেককিছু করতে পারে। পরীমনিও তেমন। তার অভিনয়ের তুলনা হয় না। আমার বিশ্বাস পরীমনি চাইলে একদিন শাবানা হতে পারবে। আমি ওর মধ্যে আগামীর শাবানাকে খুঁজে পাই। পরীমনি নাকি সিডিউল ফাঁসিয়ে দেয়। এমন একটা কথা শোনা যায়। কিন্তু আমি প্রায় দুই বছর ধরে এই ছবির সাথে ওকে রেখেছি। কখনও সে এমনটা করেনি। সকাল ৮ টায়ই সে সেটে আসতো। রাত ৯ টা পর্যন্ত শুটিং করতো।

গিয়াস উদ্দিন সেলিম যখন পরীমনিকে নিয়ে এমন মন্তব্য করেন, তখন নায়িকা পরী পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন। সেলিমের মতো গুণী নির্মাতার কাছ থেকে এমন প্রশংসা শুনে রীতিমত আকাশ থেকে পড়েন পরীমনি! সঙ্গে সঙ্গে তিনি হাঁটু গেড়ে বসে পড়েন, নির্মাতা সেলিমকে শ্রদ্ধা জানান। এসময় পরীমনির চোখ আনন্দের বানে ছলছল করছিল।

২০০৯ সালে গিয়াস উদ্দিন উদ্দিন সেলিম পরিচালিত ‘মনপুরা’ মুক্তি পেয়েছিল। নয় বছর পর এই নির্মাতার দ্বিতীয় ছবি ‘স্বপ্নজাল’ মুক্তি পেতে যাচ্ছে আগামী ৬ এপ্রিল। সেজন্য ছবির মুক্তির আগে সংবাদ কর্মী ও স্বপ্নজালের পুরো ইউনিটকে একত্রে করে বৃহস্পতিবার (২২ মার্চ) ঘরোয়া আড্ডার আয়োজন করেন গিয়াস উদ্দিন সেলিম। সেখানে উপস্থিত ছিলেন পরীমনি, নবাগত নায়ক ইয়াশ রোহান (সানাই), ফজলুর রহমান বাবু, কৃষ্ণকলি, নূরুল আলম আতিক ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ছবির কলাকুশলীরা।

ওই আড্ডায় সংবাদ কর্মীদের সঙ্গে আলাপে নির্মাতা গিয়াস উদ্দিন সেলিম বলেন, স্বপ্নজাল যৌথ প্রযোজনার ছবি। ৬ এপ্রিল বাংলাদেশে এটি মুক্তি পাচ্ছে, তার দুই সপ্তাহ পরে পশ্চিমবঙ্গে মুক্তি পাবে। এরই মধ্যে ছবিটি সেখানকার সেন্সর বোর্ডে দেয়া হয়েছে। মুক্তির আগে বাংলাদেশ থেকে ‘স্বপ্নজাল’ ছবির টিম যাবে কলকাতায়, প্রচারণার উদ্দেশ্যে। সেলিম বলেন, আমাদের টার্গেট প্রথম ২০ থেকে ২৫ টি সিনেমা হলে মুক্তি দেব। এর পর ছবি চললে এমনিতেই হল বাড়তে থাকবে। যোগ করে বলেন, স্বপ্নজাল আমাদের গল্পের ছবি। এই ছবির শিল্পী, ক্যামেরাম্যান সবকিছুই বাংলাদেশের।

যৌথ প্রযোজনায় ছবি নির্মাণের প্রসঙ্গ টেনে গিয়াস উদ্দিন সেলিম বলেন, যৌথ নিয়মে দুদেশ থেকে নায়ক-নায়িকা থাকে। শিল্পীদের সুষম বণ্টন থাকে। কিন্তু ‘স্বপ্নজাল’ ছবিতে সবকাজ আমরাই করেছি। গল্পে ঠিক যেখানে ওপারের চরিত্র লাগবে সেখানে কলকাতার শিল্পী নিয়েছি, আগরতলার চরিত্রটি ওখান থেকে নিয়েছি কিন্তু নায়ক-নায়িকা, সম্পাদনা সব বাংলাদেশের। এছাড়া মিউজিশিয়ান নিয়ে অর্ধেক অর্ধেক।

‘স্বপ্নজাল’ ছবিতে অভিনয়ের প্রসঙ্গে পরীমনি বলেন, ছবিটির শুটিংয়ের প্রথম কয়েকদিন ‘শুভ্রা’ চরিত্রটিতে ঢুকতে পারছিলাম না। খুব বিরক্ত হচ্ছিলাম। ভেবেছিলাম শুটিং ছেড়ে চাঁদপুর থেকে ঢাকা ফিরে আসবো । তখন সেলিম ভাই আমাকে আরেকটা দিন অপেক্ষা করতে বললেন। এরপর দেখি সেটের সবাই আমাকে পরী বাদ দিয়ে আমাকে শুভ্রা বলে ডাকতে শুরু করে। আমিও আস্তে আস্তে নিজেকে শুভ্রা ভাবা শুরু করি, চরিত্রটি ভালোবেসে ফেলি। সেই থেকে আমি এখনও শুভ্রা চরিত্রের মধ্যেই আছি। স্বপ্নজাল মুক্তি পাওয়ার পর চরিত্রটি থেকে বের হবো।

ছবিটির মধ্য দিয়ে পরীর বিপরীতে ইয়াশ রোহানের বড় পর্দায় অভিষেক হতে যাচ্ছে। ইয়াশ একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। ছবিতে কাজ করতে যেয়ে তার তিনটি সেমিস্টার বাদ দিতে হয়েছে বলেও জানান তিনি। সেমিস্টার ফাইনালের সময় ছবির শুটিং পড়ে যায়। তখন পরীক্ষা বাদ দিয়ে আমি শুটিংয়ে অংশ নেই। হয়তো আমার পড়াশোনার কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। তবে ছবিটিতে কাজ করতে পেরে সে ক্ষতিটি আমার কাছে বড় কিছু মনে হচ্ছে না।’

ছবি: নাহিয়ান ইমন