চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

আমার চেয়ে বেশি সিনেমা কেউ বানাবে না: বান্নাহ্

‘ঠিক আমি যেদিন থেকে সিনেমায় আসবো, আমার চেয়ে বেশি সিনেমা কেউ বানাবে না’

নাটক নির্মাণ করে মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন মাবরুর রশিদ বান্নাহ্। পেয়েছেন জনপ্রিয়তা। নির্মাণের বাইরে তিনি নতুন নতুন শিল্পীও তৈরি করেন। ইয়ুথ জেনারেশনের কাছে বান্নাহর নাটকের গ্রহণযোগ্যতা তুলনামূলক বেশি। তার নির্মিত নাটকের আলাদা দর্শক সৃষ্টি হয়েছে। দর্শকদের কাছে, নির্মাতা হিসেবে মাবরুর রশিদ বান্নাহ্ একটি ব্র্যান্ড! ইউটিউবে উৎসব ছাড়াই বান্নাহ্’র  নির্মিত নাটকগুলো উৎসবের আমেজ এনে দেয়। সেজন্য নতুন প্রজন্মের নির্মাতা হিসেবে বান্নাহ নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করেন। গেল ভালোবাসা দিবসেও এই নির্মাতার চারটি প্রোডাকশন পেয়েছে তুমুল দর্শকপ্রিয়তা! সম্প্রতি এক আলাপে এই নির্মাতা চ্যানেল আই অনলাইনের কাছে মেলে ধরে তার নির্মাণ, প্রযোজনা, সিনেমা নির্মাণের ভাবনাগুলো…

বিজ্ঞাপন

ভালোবাসা দিবসে চারটি নাটক নির্মাণ করলেন। আপনি যেভাবে কাজ করেন এতে সংখ্যায় কম হয়ে গেল না?
ক্লোজ-আপসহ চারটি নাটক নির্মাণ করেছি। ‘ছোট্ট পাখির বাসা’, ‘ছেলেটা বেয়াদব আবারও’, ‘পুরুষের কান্না’ আরেকটা ক্লোজআপের। ক্লোজআপের কাজটির জন্য সময় বেশি দিতে হয়েছে। সেজন্য আর কাজ করা সম্ভব হয়না। এগুলোর মধ্যে ছোট্ট পাখির বাসা কাজটি নিয়ে আমি সবচেয়ে বেশি খুশি। এটার তুলনামূলক ভিউ কম হলেও রেসপন্স পেয়েছি খুব ভালো। ভিউ হিসেব করছি না, তবে অনেক মানুষ বলেছে এই কাজটা বেস্ট। ‘ছেলেটা বেয়াদব আবারও’ নাটকে হয়তো ভিউ আরো বাড়বে কিন্তু আমি যেভাবে রেসপন্স চেয়েছিলাম সেভাবে পাইনি। ‘পুরুষের কান্না’ কাজটি নিয়ে কোনো চাওয়াই ছিল না। এটা বরং ভালো হয়েছে। আর ক্লোজআপ কাছে আসার গল্প আগেও কাজ করেছি। এবার একযোগে ১২ চ্যানেলে প্রচার হয়েছে। দুর্দান্ত লেভেলে সাড়া পেয়েছি। আমার ধারণা কয়েক কোটি মানুষ টেলিভিশনে একসাথে দেখেছে কাজটি। অপরিচিত মানুষ এত ফোন করছিলেন কাজটি নিয়ে আমাকে ফোন বন্ধ রাখতে হয়েছে।

আপনার নাটকগুলোর গল্প নির্বাচন করেন কীভাবে?
জীবন ঘনিষ্ঠ জায়গা থেকে যেখানেই মেলে ওই গল্প নিয়েই কাজ করি। যাপিত জীবন থেকেই আমি গল্প নির্বাচন করি। তাই গল্পের সংকট আমার কোনোদিনও হবে না। আমি শিখে ফেলেছি কীভাবে গল্প পিক করতে হয়। একটু বসে ভাবলেই গল্প মাথায় চলে আসে। সারাদিন কি করছি, কোথায় গিয়েছি এগুলো ভাবতে ভাবতে গল্প চলে আসে। আপনি যদি হুমায়ূন আহমেদকে জিজ্ঞেস করতেন, স্যার এতো গল্প কোথা থেকে পান? আমার মনে হয়, তিনিও একই কথা বলতেন। আমার সাথে এখন আছে ড্রেসিং টেবিল। এটা বানিয়েছে একজন কাঠমিস্ত্রি। আপনার সাথে কথা বলতে বলতেই আমি গল্প ভাবা শুরু করেছি। এই কাঠমিস্ত্রি দিয়েই একটা নাটক বানাবো। এটা আমি করবোই। এভাবেই আমার গল্পগুলো চলে আসে।

অভিযোগ আছে, আপনার বেশীরভাগ নাটকের গল্প একই ধাঁচের..
এটা আমিও জানি। কোরবানির ঈদের ঠিক পরে অক্টোবর, নভেম্বর, ডিসেম্বর, জানুয়ারি এই চারমাসে কয়েকটি নাটক বানিয়েছি। যেগুলো কাছাকাছি হয়ে গেছে। দুই নাটকের (গল্প ছাড়বো না তোমাকে, অস্থির ছেলেটা) একটু বেশি কাছাকাছি হয়ে গেছে। যারা এই অভিযোগ করছে তারা আমার এই চার নাটকের গল্পকে বিচার করে এই অভিযোগ করছে। রোজা ও কোরবানির ঈদে কি করেছি আমার কাজগুলো দেখলে বোঝা যাবে। আমাকে রিসেন্ট কাজ দিয়ে বিচার করা হচ্ছে। ‘ছোট্ট পাখির বাসা’ বানালাম এটা দেখে অভিযোগ করুক। আমি ১৬৭ টা নাটক বানিয়েছি। এগুলো দিয়ে আমাকে মাপতে হবে। যখনই বুঝেছি ওই কাজগুলোর গল্প কাছাকাছি হয়েছে সেখান থেকে বেরিয়ে এসেছি। কখনই আর ওই চ্যাপ্টারে যাবো না। নিশোকে নিয়ে ‘ব্রা দার’, ‘চোর’ এগুলো নির্মাণ করলাম। এগুলো নিয়ে তো কেউ কথা বলে না। যারা অভিযোগ করছে, তারা আমার কয়েক বছরের ক্যারিয়ারে একটাই খুঁত পেয়েছে। কাজ ভালো হলে ক্রেডিট অপূর্ব, নিশো ভাই আমার টিমের। আর খারাপ হলেই যত দোষ নন্দঘোষ মানে পরিচালকের। এটা যে কোনো পরিচালকের ক্ষেত্রে হয়।

আরও একটা বিষয় দেখা যায়, আফরান নিশো, অপূর্ব, মেহজাবীন, তানজিন তিশার বাইরে আপনি খুব বেশী শিল্পী নিয়ে কাজ করেন না। শিল্পী নির্বাচনে ভ্যারিয়েশন আনেন না কেন?
নতুন ছেলে মেয়েদের নিয়ে আমি যে পরিমাণ এক্সপেরিমেন্ট করছি এতটা অন্য কেউ করেছে কিনা জানা নেই। নাইন অ্যান্ড হাফ, ব্যাক বেঞ্চারস এগুলো যারা দেখেছে বুঝবে। সিয়াম, সাবিলা, সালমান, তৌসিফ, জোভান, ফারিয়া, সৌভিকদের নিয়ে কাজ করছি, তখন তো এদের কেউ চিনতো না। এখন তারা দাঁড়িয়ে গেছে। আমার তো আগানোর একটা ব্যাপার আছে। এখন সিনিয়রদের নিয়ে কাজ করলে মানুষের এতো লাগছে কেন? নতুন শিল্পী আর তৈরি করতে পারছি না। আমি ক্লান্ত। শাওন আমার ছোট ভাইয়ের সঙ্গে ক্রিকেট খেলছিল। ক্লিন বোল্ড হয়েছিল সেটা সে এমন অভিনয় করে না করলো এটা দেখে ভালো লাগায় তাকে আমি অভিনয় নিয়েছি। সে এখন খুব ভালো কাজ করছে। সাড়ে পাঁচ বছর অপূর্ব ও নিশো ভাইয়ের কাজই করিনি। এখন তাদের সঙ্গে নিয়মিত কাজ করছি। আমি যতদিন বোরিং ফিল না করবো তাদের নিয়ে কাজ করবো।

আপনার ফেসবুকে কোনো নাটক লিঙ্ক শেয়ার করলে হুলস্থুল অবস্থা বেঁধে যায়…!
হা হা হা… আমি খুব লাকী সেজন্য এ অবস্থা। আমার একটা নির্মাতা। পর্দায় আমার চেহারা দেখা যায়না। আমার চেহারা না দেখে মানুষগুলো শুধুমাত্র কাজ দেখে আমাকে ভালোবেসেছে। আমার কমেন্ট বক্সে তারা আলোচনা কিংবা সমালোচনা করছে। আমি যখন ফ্রি থাকি তখন তাদের রিপ্লাই দেই। এটা আমার দায়িত্ব। আমি রিপ্লাই দিলে সে আবার অন্যকে দেখায়। এ নিয়ে অনেক গল্প আছে। যেমন বান্দরবানের এক ছেলেকে আমি রিপ্লাই দিয়েছিলেন। সে নাকি আমার রিপ্লাই দেখিয়ে তার এলাকায় সেলিব্রেট করেছে! এ রকম অনেক অনেক মজার ঘটনা আছে।

মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ভাইয়ের পর আমার ফেসবুকে ফ্যানস বেশি। আমি যদি নির্মাতা না হতাম ১৮ কোটি মানুষের একজন হতাম। ভাব দেখানোর কিছু নেই। আমি দেখেছি অনেকেই ভাব নেয়। নির্মাতা না হলে কেউ আমাকে বেল দিত না। এদিক থেকে আল্লাহ আমার উপর অনেক নেয়ামত দান করেছেন। এজন্য আমি কারও মন্তব্য কিংবা মেসেজের অবহেলা করিনা। যতদূর চোখে পড়ে দেখি। মানুষের কথাগুলো বুকে জমা রাখি। তারা প্রত্যেকেই আমার প্রচারণার একেকটা মেশিন। যখন আমি সিনেমা বানাবো, তখন ওরাই আমার সিনেমার প্রচার করবে। প্রচার ছাড়া কোনো সিনেমায় আজ পর্যন্ত হিট করেছে কিনা আমার জানা নেই।

চলচ্চিত্র এখন সংকটকালের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন নির্মাতারা হাল না ধরলে এ সংকট দূর হবে না। নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে আপনি সিনেমা বানাবেন কবে?
গত ডিসেম্বর থেকে সিনেমার কাজ গোছানো শুরু করে দিয়েছি। আমার কাছে প্রযোজকও তৈরি আছে। আমি এখনো আত্মবিশ্বাসী নই। কিছু সমস্যা আছে। যাকে সিনেমায় নেব ভেবেছি তাকে নিয়ে নিয়েছি। আমার ২০-২১ বছর বয়সে তিনজন শিল্পী লাগবে। অনেক খুঁজেও আমি পাইনি। যা পাচ্ছি তাদের ২৩, ২৫, ২৬ বছর বয়সের। চরিত্রের সঙ্গে যায় না। ২০-২১ বছর বয়সে যে ছেলে কিংবা মেয়ে দুর্দান্ত অভিনয় করতে পারবে তাদের লাগবে। আমার সিনেমার কাজ হবে অনেক বিস্তৃত। নাটকে মানুষ আমাকে যেভাবে পেয়েছে এর ছিটেফোটাও থাকবে না। আমি নাটক ইচ্ছে করেই একটা গণ্ডিতে বন্দি করেছি। ক্লোজআপের প্রজেক্ট বাদ দিয়ে কখনো নাটককে বড় গণ্ডির মধ্যে নিয়ে যাইনি। আমি মনে করি, নাটক কখনো বড় গণ্ডিতে খেলতে নেই। এটা আমার দর্শন। অনেক নির্মাতা নাটকের ট্রিটমেন্ট সিনেমায় দেয়। এজন্য অনেকেই বলে এটা সিনেমা হয়নি, নাটক হয়েছে। কাজ গোছাচ্ছি এ বছরের শেষেই শুরু করবো। এরমধ্যে সিনেপ্লেক্সের সংখ্যা বাড়বে। আর একটা কথা বলি, এখন নাটকে আছি। আমার চেয়ে বেশী নাটক কেউ বানাতে পারছে না। ঠিক আমি যেদিন থেকে সিনেমায় আসবো, আমার চেয়ে বেশি সিনেমা কেউ বানাবে না। সিনেমা নির্মাণ শুরু করবো, নাটককে একেবারে ‘খোদা হাফেজ বাংলাদেশ’ জানাবো।