চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

‘আমরা কি শিশু খুন করেছি?’

তীব্র সমালোচনায় বিদ্ধ দাতব্য সংস্থা অক্সফামের প্রধান নির্বাহী মার্ক গোল্ডরিং বলেছেন, তাদের অপরাধের চেয়েও সমালোচনা-নিন্দার মাত্রা অনেক বেশি।

হাইতিতে দাতব্য কাজের সময় সংস্থাটির কর্মীরা পতিতা ভাড়া করেছিলো বলে সমালোচনার সম্মুখিন।

গোল্ডরিং গার্ডিয়ান পত্রিকাকে বলেন, “এই হামলার (সমালোচনা) গভীরতা ও ভয়াবহতা তোমাকে বিস্মিত করবে, ভাবাবে যে, আসলে আমরা কী করেছি?  আমরা কি শিশুদের তাদের দোলনাতে হত্যা করেছি?”

সমালোচকদের নিন্দা করে তিনি বলেন, তারা আসলে দাতব্য কাজ বিরোধী এজেন্ডা দ্বারা অনুপ্রাণিত।

অক্সফামের প্রধান বলেন, “আমরা যাই বলি না কেন তা বিকৃত করা হয়.. এমনকি ক্ষমাপ্রার্থনাও বিষয়টিকে আরও খারাপ করে।”

তবে নিজেদের দোষও স্বীকার করেন তিনি। বলেন, অক্সফাম এক্ষেত্রে আরও দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারতো, কিন্তু স্পষ্টতই আমি অনুভব করছি অনেক মানুষই ব্যাখ্যা শুনতে চায় না।

চলতি মাসের শুরুর দিকে, পত্রিকার প্রতিবেদন মারফত জানা যায়, হাইতিতে ২০১১ সালে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম চালানোর সময় সংস্থাটির স্থানীয় পরিচালক একটি বাড়িতে পতিতাদের ভাড়া করে, যার অর্থ সে নেয় সংস্থাটি থেকে।

হাইতিয়ান সরকারের কাছে অভিযোগের বিষয়ে সংস্থাটি বিস্তারিত কিছু শেয়ার করে নি, এমন তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর আরও সমালোচনার মুখে পড়তে হয় তাদের।

আজকের গার্ডিয়ান পত্রিকায় পূর্ণ পাতার বিজ্ঞাপনে অক্সফাম ক্ষমাপ্রার্থনা করে। হাইতির জনগণ এবং সংস্থাটির সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চায়। বিজ্ঞাপনটির খরচ সমর্থকরাই বহন করে।

অক্সফাম কি কি পদক্ষেপের পরিকল্পনা নিয়েছে তাও বিজ্ঞাপনটিতে উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে, অক্সফামের নিরাপত্তা ব্যবস্থা তিন গুণ বৃদ্ধি করা এবং এর কাঠামোকে আরও উন্নততর করার জন্য রিভিও-য়ের কথাও বলা হয়।

অক্সফামের এমন কুকীর্তি প্রকাশ্যে আসার পর অন্য দাতব্য সংস্থাগুলোকেও প্রশ্নের সম্মুখিন হতে হচ্ছে। হাইতির প্রেসিডেন্ট জভেনেল ময়েজে তার দেশে কাজ করা দাতব্য সংস্থাগুলোর উপর তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। আর এতে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে মেডেসিন্স সানস ফ্রনটেয়ার্স (এমএসএফ)।

মেডিকেল দাতব্য সংস্থা এমএসএফ কেন তাদের ১৭ জন স্টাফকে ফিরিয়ে নিয়েছে?, বলে প্রশ্ন রেখেছেন জভেনেল ময়েজে। সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে তিনি বলেন, অক্সফামের ঘটনাটি শুধুমাত্র একটি হিমশৈলের দৃশ্যমান অংশ।

“শুধুমাত্র অক্সফাম নয়, অন্যান্য এনজিও-গুলোও একই অবস্থায় রয়েছে, কিন্তু তারা অভ্যন্তরীণভাবে তথ্য লুকিয়েছে।”

এই প্রেক্ষীতে এমএসএফ জানায়, কর্মীদের অসাদারণের কোন অভিযোগ তারা গুরুত্ব সহকারে দেখে এবং প্রেসিডেন্টের উত্থাপিত বিতর্ক নিরসনে তারা সচেষ্ট রয়েছে।

‘অনেক পথ যেতে হবে’
যুক্তরাজ্য সরকারের অর্থায়ন না চাওয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছে অক্সফাম, যতক্ষণ পর্যন্ত না তারা প্রয়োজনীয় ‘উচ্চমাণ’ পূরণ করতে পারছে। যুক্তরাজ্যের কয়েকজন মন্ত্রী বিবিসিকে এমনটি জানায়।

আন্তজার্তিক উন্নয়ন সচিব পেনি মোর্ডন্ট বলেন, জনগণের, কর্মীদের এবং সাহায্য প্রার্থীদের আস্থা অর্জন করতে সংস্থাটিকে ‘অনেক পথ যেতে হবে’।

গত বছর অক্সফামের মোট আয় ছিলো ৪০৯ মিলিয়ন পাউন্ড, ২০১৬ সালে যার ৩১.৭ মিলিয়ন পাউন্ড দেয় সরকার। তা সংস্থাটির আয়ের ৮ শতাংশ। সরকারের বার্ষিক বিদেশী সাহায্য খরচের যা এক চতুর্থাংশ।

অক্সফাম তার কর্মীদের অতীত ও বর্তমান দুষ্কর্মের অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্ত করতে একটি কমিশন গঠন করছে।

অন্যান্য পরিকল্পিত সংস্কারের মধ্যে রয়েছে নিরাপত্তার জন্য নতুন করে অর্থায়ন এবং দোষী সাবেক কমীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া।

 

FacebookTwitterInstagramPinterestLinkedInGoogle+YoutubeRedditDribbbleBehanceGithubCodePenEmail