চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

আবাহনীর শিরোপা ছাপিয়ে সৌম্যর অপরাজিত ২০৮

সৌম্যর ব্যাটে ইতিহাস গড়া ডাবল সেঞ্চুরি

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে আবাহনীর শিরোপা জয়ের পথে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন সৌম্য সরকার। এ বাঁহাতি ওপেনারের ১৫৩ বলে ২০৮ রানের অপরাজিত ইনিংসে শেখ জামালের দেয়া রানের পাহাড় সহজেই টপকে যায় আবাহনী। তাতে আকাশী-নীলরা টানা দ্বিতীয় শিরোপা ঘরে তুলেছে।

বিজ্ঞাপন

সংক্ষিপ্ত স্কোর: শেখ জামাল-৩১৯/৯ (৫০ ওভার), আবাহনী-৩১৯/১ (৪৭.১ ওভার)

প্রিমিয়ার লিগের এক ম্যাচে সর্বোচ্চ রানের মালিক ছিলেন রকিবুল হাসান। ২০১৭ সালের ৮মে বিকেএসপিতে মোহামেডানের হয়ে ১৩৮ বলে ১৯০ রানের ইনিংস খেলেন এ মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যান। মঙ্গলবার একই মাঠে আবাহনীর জার্সিতে সৌম্য ভাঙেন সেই রেকর্ড। ১৩৭ বল খেলে পৌঁছান ১৯০-এ। ইমতিয়াজ হোসেনকে চার মেরে ১৪৭ বলে পৌঁছান স্বপ্নের ডাবলে। ৩১৮ রান তাড়ায় সৌম্য শেষপর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ২০৮ রানে। খেলেন ১৫৩ বল। মারেন ১৬টি ছক্কা ও ১৪টি চার।

বিজ্ঞাপন

প্রিমিয়ার লিগের শেষ দুটি ম্যাচেই বিধ্বংসীরূপে দেখা গেল সৌম্যকে। আগের ম্যাচে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের বিপক্ষে ৭৯ বলে ১০৬ রানের ইনিংস খেলেছেন এ বাঁহাতি। সেঞ্চুরিতে পৌঁছান ৭১ বলে। অথচ লিগে তার আগের ১১ ম্যাচে মোটে ১৯৭ রান করায় সমালোচনার তীর ছিল তার দিকে। স্বস্তির বাতাস বইয়ে দিয়ে বিশ্বকাপ মিশনে যাওয়ার আগে প্রত্যাশা ছাপিয়ে নতুনরূপে আর্বিভূত হলেন টাইগার ওপেনার। আগুনে ব্যাটিংয়ে ফর্মে ফিরলেন।

মঙ্গলবার শেখ জামালের বিপক্ষে বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ের দিনে ৫২ বলে ফিফটি পূর্ণ করা সৌম্য সেঞ্চুরিতে পৌঁছাতে খেলেন আর মাত্র ২৬ বল। পরের ২৫ বলে পৌঁছান দেড়শতে।

তানবীর হায়দারের সেঞ্চুরিতে (১৩২*) আবাহনীকে ৩১৮ রানের টার্গেট দেয় শেখ জামাল। জবাব দিতে নেমে সৌম্য ও জহুরুল ইসলাম অমির ওপেনিং জুটিতেই আসে ৩১২ রান। যা লিস্ট এ ক্রিকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের জুটি। দলকে জয়ের খুব কাছে রেখে সেঞ্চুরি ছুঁয়ে আউট হন জহুরুল। ১২৮ বলে ১০০ রানের পথে এ উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান মারেন সাতটি চার ও তিনটি ছক্কা। তিনে নেমে সাব্বির রহমান ৭ বল খেলে কোনো রান না করে থাকেন অপরাজিত।

৯ উইকেটের দাপুটে জয়ে আবারও শিরোপায় নাম লেখাল মাশরাফী-মোসাদ্দেকদের আবাহনী। জাতীয় দলের একঝাঁক তারকা থাকায় আকাশী-নীলদের শিরোপা প্রত্যাশিতই ছিল। মিরপুরে প্রাইম ব্যাংককে হারিয়ে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ আবাহনীর সমান পয়েন্ট (২৬) নিয়ে লিগ শেষ করলেও রানরেটে অনেক এগিয়ে থাকায় আবাহনীই চ্যাম্পিয়ন। আর রানার্সআপ রূপগঞ্জ।