চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

সকালে আবার অবস্থানের ঘোষণা দিয়ে দিনের কর্মসূচির সমাপ্তি

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বুধবার সকাল ১০টা থেকে অবস্থানের কর্মসূচি ঘোষণা দিয়ে আজ মঙ্গলবারের কর্মসূচির সমাপ্তি টেনেছে। বুধবার ঢাবির রাজু ভাস্কর্য এলাকায় অবস্থান নেয়াসহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে ক্লাস বর্জন কর্মসূচি পালন করবে তারা।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার রাত ৮টার পরে বাংলাদেশ সাধারণ শিক্ষার্থী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান এই ঘোষণা দেন।

এর আগে সরকারের সঙ্গে বৈঠকের পর চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলন এক মাসের জন্য স্থগিত করা হলেও তা প্রত্যাহার করে ফের রাস্তায় থেকে আন্দোলন চালিয়ে যাবার ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা।

যে কারণে ফের আন্দোলনের ঘোষণা

আন্দোলনকারীদের একটি অংশ স্থগিতের সিদ্ধান্ত না মেনে আলাদা বিক্ষোভ করা, সংসদে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ হিসেবে আখ্যায়িত করা এবং বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আন্দোলনকারীরা আল্টিমেটাম দিলেও তাতে সাড়া না দেওয়া, ‘বাজেটের পর কোটা সংস্কারে হাত’ অর্থমন্ত্রীর এমন ঘোষণা, আটক সকল আন্দোলনকারীদের মুক্তি না দেওয়া এবং পুলিশের হামলায় আহতদের চিকিৎসার দায় না নেওয়া।

রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাপক সহিংস বিক্ষোভ এবং দেশব্যাপী সড়ক অবরোধের পর সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হয় আন্দোলনকারীদের। এ আহ্বানে সাড়া দিয়ে সোমবার বিকালে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং আওয়ামী লীগের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে বৈঠক করেন আন্দোলনকারীদের প্লাটফর্ম সাধারণ শিক্ষার্থী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’র ২০ জন প্রতিনিধি।

বৈঠক থেকে বেরিয়ে পরিষদের সমন্বয়ক হাসান আল মামুন বলেন, আগামী ৭ মে’র মধ্যে কোটা সংস্কারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিয়েছে সরকার। তাই আমরা আগামী ৭ মে পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন স্থগিত করলাম।

এ ঘোষণা দিয়ে ওই প্রতিনিধি দল টিএসসিতে আসলে তাদের মতের বিরোধিতা করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয় একটি অংশ। মঙ্গলবার সারাদিন তারা টিএসসি অবরোধ করে বিক্ষোভও করে।

বিজ্ঞাপন

সোমবার সংসদের কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী আন্দোলকারীদের ওপর উষ্মা প্রকাশ করে বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানেরা সুযোগ পাবে না, রাজাকারের বাচ্চারা সুযোগ পাবে? তাদের জন্য মুক্তিযোদ্ধা কোটা সংকুচিত হবে?’ তিনি বলেন, ‘রাজধানীকেন্দ্রীক একটি এলিট শ্রেণী তৈরির চক্রান্ত চলছে। তারই মহড়া গতকাল (রোববার) আমরা দেখলাম।’

কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘পরিষ্কার বলতে চাই। মুক্তিযুদ্ধ চলছে, চলবে। রাজাকারের বাচ্চাদের আমরা দেখে নেব। তবে ছাত্রদের প্রতি আমাদের কোনো রাগ নেই। মতলববাজ, জামায়াত-শিবির, তাদের এজেন্টদের বিরুদ্ধে সামান্য শৈথিল্য দেখানো হবে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলব এদের ক্ষমা নেই, ক্ষমা করা যাবে না। হয় তারা থাকবে, নতুবা আমরা থাকব।’

কৃষিমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হলে মঙ্গলবার সকালে সংবাদ সম্মেলন করে তার বক্তব্য বিকেলের মধ্যে প্রত্যাহারের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়। কিন্তু কৃষিমন্ত্রী আন্দোলনকারীদের এ আহ্বানে সাড়া দিয়ে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করেননি।

মঙ্গলবার দুপুরে আবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, বাজেটের পরে কোটা সংস্কারে হাত দেওয়া হবে।

আন্দোলনকারীদের নির্ধারিত সময় বিকাল ৫টার মধ্যে কৃষিমন্ত্রী সাড়া না দেওয়া এবং অর্থমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পর বৈঠকে বসেন অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতারা। বৈঠকের পর তারা বিকাল পৌনে ছয়টার দিকে সংবাদ সম্মেলনে আসেন।

পরিষদের অন্যতম যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নূর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এক সংবাদ সম্মলেনে বলেন, গতকাল সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের অনুরোধে আমরা কর্মসূচি ৭ মে পর্যন্ত স্থগিত করার ঘোষণা করেছিলাম। কিন্তু কাল সংসদে দাঁড়িয়ে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী ৮০ শতাংশ আন্দোলনকারী ছাত্র-ছাত্রীদের রাজাকারের বাচ্চা বলে গালিগালাজ করেন। এরপর আজ বিকালে আমাদের অর্থমন্ত্রী বলেছেন, বাজেটের আগ পর্যন্ত কোটা সংস্কার সম্ভব নয়। এই দীর্ঘ মেয়াদী প্রক্রিয়া আমরা মানি না।

‘‘তাছাড়া পুলিশ আমাদের যাদের আটক করেছিল তাদের ছেড়ে দেওয়ার কথা থাকলেও ছাড়া হয়নি এবং আহতদের চিকিৎসার দায়িত্ব সরকারের নেওয়ার কথা থাকলেও আমাদের সঙ্গে এখনও যোগাযোগ করা হয়নি’’ বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পরিষদের আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান বলেন, সচিবালয়ে নেওয়া সিদ্ধান্ত সারাদেশের ছাত্রসমাজ মেনে নেয়নি। আজ থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাংলাদেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকবে। অনির্দিষ্টকালের জন্য সারা বাংলাদেশের রাস্তা অবরোধ করা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সুস্পষ্ট কোনো নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে এমন ঘোষণার পরপরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল থেকে বেরিয়ে আসে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী। পরিষদের স্থগিতের সিদ্ধান্ত না মেনে যারা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছিল তারাও যোগ দেয় এই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে। কয়েক হাজার শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়কে মিছিল করে টিএসসিতে জড়ো হয়ে আন্দোলন করে।