চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারী সম্পর্কে এখন পর্যন্ত আমরা যা জানি

বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া ড. জাবেদ পাটোয়ারী বিশেষ শাখার (এসবি) অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। আইজিপি পদে পদোন্নতি লাভের আগে তিনি ২০১৩ সাল থেকে সচিব পদমর্যাদায় কর্মরত ছিলেন।

চাকরির মেয়াদ শেষে আগামী ৩১ জানুয়ারি অবসরে যাচ্ছেন বর্তমান আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক; ওইদিন থেকেই নতুন আইজিপির দায়িত্ব শুরু হবে বলে বৃহস্পতিবার এক প্রজ্ঞাপনে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ২০২০ সালের এপ্রিল পর্যন্ত চাকরির মেয়াদ থাকা জাবেদ পাটোয়ারী চলতি বছরের শেষে জাতীয় নির্বাচনের সময় পুলিশ বাহিনীর নেতৃত্বে থাকবেন।

বঙ্গবন্ধুর কারাজীবনের ওপর লেখা ‘কারাগারের রোজনামচা’র জন্য বিভিন্ন তথ্য ও নথি সংগ্রহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। এসবির রেকর্ড রুমে ১৯৪৮ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত সময়ে বঙ্গবন্ধুর বিষয়ে যেসব ক্লাসিফায়েড তথ্য রয়েছে, সেগুলো সংরক্ষণের উদ্যোগ নেন জাবেদ পাটোয়ারী।

চাঁদপুরের মান্দারী গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহন করেন তিনি। নিজ জেলায় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে সমাজ কল্যাণ বিষয়ে স্নাতক সম্মান এবং প্রথম শ্রেণীতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন।

ড. জাবেদ পাটোয়ারী ষষ্ঠ বিসিএস-এ (১৯৮৪) পুলিশ ক্যাডারে মেধা তালিকায় প্রথম হয়ে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিসে যোগদান করেন। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগ হতে পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করেন।

তার গবেষণার বিষয় ছিল ‘বাংলাদেশের সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’। এই কর্মকর্তা যুক্তরাজ্যের লিসেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অপরাধ বিচার ও পুলিশ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন।

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘অপরাধ বিচার শিক্ষা’ বিষয়ে সার্টিফিকেট অব আচিভমেন্ট অর্জন করেন। তিনি যুক্তরাজ্যের ব্রামশিলের পুলিশ স্টাফ কলেজ হতে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার এফবিআই ন্যাশনাল একাডেমি থেকে উচ্চতর পেশাগত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের হাবার্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইউএস সাউথ এশিয়া লিডার এনগেজমেন্ট প্রোগ্রাম সম্পন্ন করেছেন।

বত্রিশ বছরের গৌরবোজ্জ্বল কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশের পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে সততা, দক্ষতা, নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও সুনামের সাথে কাজ করেছেন। অতিরিক্ত আইজি (গ্রেড-১) স্পেশাল ব্রাঞ্চ, অতিরিক্ত আইজি সিআইডি, অতিরিক্ত আইজি পুলিশ হেড কোয়ার্টার্স, পুলিশ কমিশনার রাজশাহী, পুলিশ কমিশনার খুলনা, ডিআইজি সিআইডি, কমান্ড্যান্ট- পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার রংপুর, পরিচালক- পুলিশ স্টাফ কলেজ, এসএস নগর বিশেষ শাখা ঢাকা, অতিরিক্ত উপ কমিশনার (ডিএমপি), স্টাফ অফিসার-টু-আইজিপি, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সিলেট, রাষ্ট্রপতির পুলিশ লিঁয়াজো অফিসার এবং সহকারী পুলিশ সুপার নেত্রকোণা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

দেশের গণ্ডি ছেড়ে আন্তর্জাতিক কর্মক্ষেত্রে ড. পাটোয়ারী জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন সুদানে ভারপ্রাপ্ত উপ পুলিশ কমিশনার, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন কসোভোতে মিসিং পার্সন ইউনিটের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন সিয়েরালিওনে ইউএন প্রোটেকশন ফোর্স এ চিফ অব অপারেশন এবং ক্রোয়েশিয়াতে স্টেশন কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

জঙ্গিবাদ দমনে উল্লেখযোগ্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি ২০১০ ও ২০১১ সালে দুই বার বাংলাদেশ সরকারের সর্বোচ্চ পুলিশ পদক, বাংলাদেশ পুলিশ মেডেল (বিপিএম)-এ ভূষিত হন। এছাড়াও তিনি দু’বার আইজিপি’স এক্সেমপ্লারি গুড সার্ভিস ব্যাচ লাভ করেন।

ড. পাটোয়ারী বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি সারদা রাজশাহী, পুলিশ স্টাফ কলেজ ঢাকা, ডিটেকটিভ ট্রেনিং স্কুল ঢাকা, স্কুল অব ইন্টেলিজেন্স স্পেশাল ব্রাঞ্চ ঢাকা, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সচিবালয়-এর একজন রিসোর্স পার্সন হিসেবে পাঠদান করেন।

ড. পাটোয়ারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে ‘ভিক্টোমোলোজি এন্ড রেষ্টোরেটিভ জাস্টিস’ বিষয়ে এবং মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় টাঙ্গাইলের ‘ক্রিমিনোলজি এন্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগ’ এর একজন ভিজিটিং ফ্যাকাল্টি।

তিনি ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত এবং দুই পুত্র ও এক কন্যা সন্তানের জনক।