চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

আইএস আছে, আইএস নেই

পুলিশের ওপর ককটেল: আইএস সংশ্লিষ্টতার খোঁজে গোয়েন্দারা

রাজধানীর গুলিস্তানে ককটেল হামলায় ৩ পুলিশ সদস্য আহতের ঘটনায় জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) দায় স্বীকারের পর বিষয়টি নিয়ে মাঠে নেমেছে গোয়েন্দারা। প্রকৃতই এতে আইএস জড়িত কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

এই প্রথম কোনো হামলায় আইএস সংশ্লিষ্টতা সরাসরি নাকচ না করে, তা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর আগে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জঙ্গি হামলার ঘটনায় দায় স্বীকার করে বিবৃতি দিয়েছিল মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক এ জঙ্গি সংগঠনটি। কিন্তু বরাবরই সরকার তা তাৎক্ষণিক নাকচ করে দিয়েছে।

হামলার পরের দিন মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া বলেছেন, ‘গুলিস্তানের হামলায় আইএস ক্লেইম করেছে। সেটা আসলেই তাদের, নাকি অন্য কেউ এ পোস্ট দিয়েছে; তা কাউন্টার টেররিজম ও ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের বিশেষজ্ঞরা যাচাই করে দেখছেন।’

‘‘সাইবার ক্রাইমের মাধ্যমেও আমরা তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখছি। আদৌ এটা আইএসের বৈধ ক্লেইম না কেউ স্টান্টবাজি করছে।’’

মঙ্গলবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই হামলায় আহত তিন পুলিশ সদস্যকে দেখতে আসেন ডিএমপি কমিশনার।

বিজ্ঞাপন

সোমবার রাত পৌনে ৮টায় গুলিস্তানের বঙ্গবন্ধু স্কয়ারের দক্ষিণ পাশে একটি শপিং কমপ্লেক্সের সামনে ককটেল বিস্ফোরণে ট্রাফিক পুলিশের দুই সদস্য ও কমিউনিটি পুলিশের এক সদস্য আহত হন।

এই বিস্ফোরণের পাঁচ ঘণ্টা পর এক টুইট বার্তায় সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ জানায়, গুলিস্তানে পুলিশের তিন সদস্যের ওপর আইএস সদস্যরা ককটেল নিক্ষেপ করেছে।

শ্রীলঙ্কার একাধিক গীর্জা ও হোটেলে ভয়াবহ হামলায় আড়াই শতাধিক নিরপরাধ মানুষকে হত্যার দায় স্বীকারের কয়েকদিন পর বাংলাদেশে অথবা ভারতের পশ্চিমবঙ্গে হামলা চালানোর ইঙ্গিত দেয় এ জঙ্গি সংগঠনটি।

গত বৃহস্পতিবার আইএস সমর্থক ‘টেলিগ্রাম’ চ্যানেলে ‘শীঘ্রই আসছি’ লেখা একটি পোস্টার প্রকাশ করা হয়। ওই পোস্টারে লেখা ছিল, ‘শীঘ্রই আসছি, ইনশাল্লাহ।’ পোস্টারে ‘আল মুরসালাত’ নামে একটি সংগঠনের লোগোও দেয়া রয়েছে।

জঙ্গিবাদ বিশ্লেষকদের ধারণা, বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি) এর সঙ্গে আইএসের সংশ্লিষ্টতা আছে।

পৌনে ৩ বছর আগে রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিজানে হামলার পর তার দায় স্বীকার করে বার্তা প্রকাশ করেছিল আইএস। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে তা নাকচ করে দেওয়া হয়।

২০১৬ সালের ১ জুলাই চালানো ওই হামলায় ২০ জন দেশি-বিদেশি নাগরিককে হত্যা করে। আর অভিযান চালাতে গিয়ে নিহত হন পুলিশের দুই কর্মকর্তা। পরেরদিন ভোরে সেনা কমান্ডোদের অভিযানে বাকি জিম্মি উদ্ধার করা হয়। তবে হামলায় জড়িত পাঁচ জঙ্গি এবং ওই রেস্তোরাঁ কর্মী সাইফুল ইসলাম চৌকিদার নিহত হয়।