চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

অ্যাভেঞ্জার্সের সঙ্গে আমার ‘পাসওয়ার্ড’-এর তুলনা করবেন না: শাকিব খান

ঈদের ছবি নিয়ে মুখোমুখি শাকিব খান:

চলচ্চিত্রের ক্যারিয়ারে সম্প্রতি ২০ বছর পূর্ণ করলেন দেশের তারকা অভিনেতা শাকিব খান। একযুগের বেশি সময় ধরে একাই শাসন করছেন ঢাকাই ইন্ডাস্ট্রি। মাঝখানে কাজ করেছেন টলিউডেও। অল্প সময়ে সেখানেও নিজের ক্যারিশমা দেখিয়েছেন তিনি। দেশের বড় বড় উৎসবগুলোতে তার ছবি মুক্তি পাবে, এটা অবধারিত। আসছে ঈদেও হচ্ছে না তার ব্যতিক্রম। এবার ঈদে শাকিব অভিনীত দুটি ছবি মুক্তি পাচ্ছে। একটি বহুল আলোচিত ছবি ‘নোলক’ এবং অন্যটি ‘পাসওয়ার্ড’। এরমধ্যে মালেক আফসারী পরিচালিত ‘পাসওয়ার্ড’ ছবিটির প্রযোজকও শাকিব। 

ঈদের ছবি, বর্তমান ইন্ডাস্ট্রি এবং ভবিষ্যতের কর্ম পরিকল্পনা নিয়ে চ্যানেল আই অনলাইনের মুখোমুখি শাকিব খান:

‘পাসওয়ার্ড’ আপনার অভিনীত ও প্রযোজিত ছবি। ঈদের ছবি নিয়ে প্রত্যাশার কথা বলুন…?
সবসময় এটাই মানি, কাজ ভালো হলে সেটা সফল হবেই। কেউ আটকাতে পারবে না। ফিল্ম লাভার যারা আছে প্রত্যেকের মনের মধ্যে ‘পাসওয়ার্ড’ নাড়া দেবে। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি যেখানে নিভুনিভু অবস্থা সেই ইন্ডাস্ট্রিতে দাঁড়িয়ে বিশ্বমানের ছবি উপহার পেতে যাচ্ছে দর্শক। সেন্সর বোর্ডের শুধু সদস্যরা নন, পিয়ন থেকে শুরু করে প্রত্যেকেই পাসওয়ার্ডের প্রশংসা করেছেন। তারা বলছে, এতোদিন পর একটা সিনেমা দেখলাম ভাই! ইয়েস, এটাই হচ্ছে সিনেমা। যে ইন্ডাস্ট্রি ডুবে গেছে সেখানে আমি শাকিব খান ‘পাসওয়ার্ড’-এর মতো একটা ছবি দিতে যাচ্ছি। আর হবে না, আর পারবো না, এমন হতাশা নিয়ে বসে থাকলে হবেনা। যে পারে সে মন্দ অবস্থাতেও পারে। আমি এটাই দেখাতে চেয়েছি। শুধু বলবো, ঈদের সময় ‘পাসওয়ার্ড’ দেখেন। তারপর নিজের কাছে নিজেই প্রশ্ন করেন এই অচল অবস্থায় এমন করতে পারাটা কতটা সাহসী উদ্যোগ। তাই বলে আবার ‘অ্যাভেঞ্জার্স’-এর সঙ্গে আমার ছবির তুলনা করবেন না। কারণ ওই বাজেটের পরিমাণে ‘পাসওয়ার্ড’ তৈরি হয়নি। আমারটা আমার মতো করে দেখেই আলোচনা-সমালোচনা করুন।

আপনি বলছেন ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা নিভুনিভু, তাহলে কোন সাহসে বিগ বাজেট দিয়ে ‘পাসওয়ার্ড’ নির্মাণ করলেন?
আমার প্রযোজিত প্রথম ছবি ‘হিরো দ্য সুপারস্টার’-এর সময় ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা ভয়ঙ্কর খারাপ ছিল। অ্যানালগ থেকে ডিজিটালে ট্রান্সফর্ম হচ্ছিল। ট্রানজেকশন পিরিয়ডে সিনেমাহল ছিল, মেশিন ছিল না। সিনেমার বাজেট নেমে আসছিল ৬০ লাখে। আমার ছবির বাজেট নেমে আসছিল ১ কোটি টাকায়। এই টাকায় বড় সিনেমা হয় না। তখন ছবি ব্যবসাও করছিল না। সে সময় আমার ‘হিরো দ্য সুপারস্টার’ বাম্পার ব্যবসা করেছিল। ওখান থেকেই সাহস পেয়েছি। মনে হয়েছে ইয়েস, আবারও ‘পাসওয়ার্ড’ ইন্ডাস্ট্রিকে গতি এনে দিবে। আর শাকিব খানের জন্ম হয়েছে তো ইন্ডাস্ট্রি থেকেই। আল্লাহ আমার প্রাপ্তি অনেক দিয়েছে। আমি যত রিস্ক নেব, চেষ্টা করবো সবকিছুই আমার ইন্ডাস্ট্রির জন্য করতে। এছাড়া দায়িত্ববোধ তো রয়েছে।

এটা না থাকলে অনায়াসে কলকাতার ছবিতে কাজ করতে যেতাম। সেখান থেকে আমাকে ডেকেছে, মিটিংও করেছি। আমি তখন ভেবেছি ওখানে কাজ করলে আমার ইন্ডাস্ট্রিতে ঈদের ছবির কী হবে? সিনেমা হলগুলো সারা বছর পর ঈদে আমার ছবির জন্য অপেক্ষা করে। আর ‘পাসওয়ার্ড’ হচ্ছে পরিপূর্ণ ঈদের ছবি। তৈরি হয়েছে ঈদ ধরে, ঈদের ছবির মতো বাজেট রেখে। হতাশার মধ্যে ডুবে থাকলে ইন্ডাস্ট্রি হারিয়ে যাবে। আমার তো কোনো হতাশা নেই। আমি চাইলেই তিনটা যৌথ প্রযোজনার ছবি করতে পারি। বিনিময়ের মাধ্যমে কাজ করতে পারি। আমার কোনো অসুবিধা নেই। কিন্তু এই ইন্ডাস্ট্রির কী হবে? সবার মধ্যে আবার কাজের গতি ফিরিয়ে দেয়ার জন্য ‘পাসওয়ার্ড’ দিয়ে বোঝাতে চেয়েছি। ভালো কাজের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করার প্রেরণা দিতে চেয়েছি।

আপনি একা কাজ করে ইন্ডাস্ট্রি বা অন্যদের হতাশা দূর করতে পারবেন?
প্রত্যেকটা ভালো কাজ, বড় কাজ শুরু হয় একার মাধ্যমে। তারপর যুক্ত হয় সবাই। আরও অনেক প্রতিষ্ঠান যারা করবে আমি চেষ্টা করবো তারা আমার সঙ্গে যুক্ত হয়ে কাজ করুক। অবশ্যই আমি তাদের সহযোগিতা করবো। নইলে এতে কোয়ালিটি নষ্ট হয়ে যাবে। মানুষ নিতে পারে না। অনেকেই পাঁচ টাকার ছবি পঞ্চাশ টাকা বলে বেড়ায়। কিন্তু দর্শক স্ক্রিনে সেটা ধরে ফেলেন। এতে মার্কেটে বাজে গুজব ছড়ায়! অনেকেই এসে বলে, ভাই আমি বিরাট একটা ছবি বানাবো! দেখায় আগরতলা, পরে চলে যায় চৌকির তলা! কিন্তু মানুষের উদ্ভট আচরণে ইন্ডাস্ট্রি ধাক্কা খেয়ে যায়। এজন্য ওয়ার্ল্ডওয়াইড সব স্টাররা বড় প্রডাকশনের সঙ্গে থাকে। থাকলে সব চুক্তি করে নেয়। অথবা স্টারের নিজের প্রোডাকশনের সঙ্গে যুক্ত করে নেয়।

ট্রেলারে আপনার আগের ছবির চেয়ে ‘পাসওয়ার্ড’-এর ট্রেলার দেখে কিছুটা ভিন্ন মনে হচ্ছে। ছবির গল্প কেমন হবে? আপনার সাথে যারা কাজ করেছেন তাদের গুরুত্ব কেমন থাকবে পর্দায়?
এটা একটা থ্রিলিং স্টোরি। আমি চেষ্টা করেছি ছবিতে যারা অভিনয় করেছেন প্রত্যেককে ফোকাস করতে। ভিলেনদের ফোকাস করেছি। মিশা ভাইকে আগে দেখলে মনে হতো বিরক্তিকর ভিলেন! একই সংলাপ, একই ডেলিভারি। কিন্তু ‘পাসওয়ার্ড’ দেখে মনে হবে, ভিলেনের প্রেজেন্টেশন এমনই হওয়া উচিত। আরেকটা চরিত্র হিরো ইমন, তাকে ফোকাস করার চেষ্টা করেছি। এই ছবির পর ইমনকে নিয়ে অভিনয় প্রধান ছবির জন্য অনেকেই চিন্তা করবে। হিরোইন বুবলী তথাকথিত হিরোইনের মতো কাজ করেনি। দর্শকই বলবে, মাই গড এই বুবলীকে তো আগে দেখিনি ভাই। ভয়ঙ্কর অভিনেত্রী! এক ড্রেসেই পুরো ছবি শেষ! হিরোইন মনে হবে না। গ্লামারর্স থেকে বেরিয়ে এসে এমন অভিনয় করা সম্ভব! ইমনকে দেখে সবাই বলছে, ইউ আর অ্যা গ্রেট অ্যাকটর। সেন্সর থেকে বেরিয়ে ওখানকার সদস্যরা ঠিক এই কথাগুলোই বলেছে। সবাইকে ফোকাস হয়েছে। এমন না যে, শুধু আমি ফোকাস হয়েছি। আমি চেয়েছি, আমার পাশাপাশি আরো স্টারডম বাড়ুক।

গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হলে ট্রেলার প্রকাশের পর ইমনকে সেভাবে খুঁজে পাওয়া যায়নি কেন?
ইমন ট্রেলারের বহু জায়গায় আছে কিন্তু তাকে সেভাবে কেউ চিনতে পারেনি। কারণ, ইমনের মাস্ক পরা। তাকে দেখবে কীভাবে? আর কিছু জিনিস তো সাসপেন্স রাখতে হয়! আমি চেয়েছি, হলে গিয়ে ছবিটা মানুষ দেখুক, তারপর মানুষ ইমনের প্রশংসা করুক। ইমন যে ভালো কাজটা করেছে আমি চাইছি ডিটেইল কাজটা হলে গিয়ে ওকে ভালো বলুক। ইমনের চরিত্রটা খুব ভালো। নায়ক নয়, পুরোপুরি অভিনেতা মনে হবে তাকে। সে খুব মন দিয়ে কাজ করেছে।

ট্রেলার দেখে কেউ কেউ সমালোচনা করছেন, কেউ আবার অখুশি হয়েছেন। খেয়াল করেছেন?

যিনি সৃষ্টিকর্তা তিনি সবাইকে খুশি করতে পেরেছেন? বিশ্বের বড় বড় বিজ্ঞানী, রাজনীতিবিদ, মনীষী তারা কি সবাইকে খুশি করতে পেরেছেন? আমি তো মানুষ। সাধারণ মানুষ হয়ে সবাইকে কীভাবে খুশি রাখবো? কিছু আগাছা পরগাছা তো থাকবেই। খারাপ মানুষ সমাজে থাকবেই। যারা ভালোর মধ্যেও খুঁত ধরবে। আর ভালো মানুষ খারাপের মধ্যেও ভালোটা করার চেষ্টা করে। এটাই পার্থক্য। যারা পাসওয়ার্ডের সমালোচনা করছেন, তাদের বলছি, নিজের পকেটের টাকা দিয়ে এই খারাপ সময়ে ঠিক একই বাজেট ও স্ট্যান্ডার্ডের একটা সিনেমা বানিয়ে দেখান।

অনেকেই বলছেন পাসওয়ার্ড মাল্টিকাস্টিং ছবি। ‘এসকে ফিল্মস’ থেকে এ ধরণের ছবি নির্মাণ আগামীতে অব্যাহত থাকবে?
সামনে মাল্টিকাস্টের (তারকা বহুল) ছবি আরও করবো। অনেক রকম ছবির প্ল্যানিং রেখেছি। শাকিব খান ফিল্মস এখন থেকে বছরে প্রতিটি উৎসবে ছবি রাখার চেষ্টা করবো। আমার হাউজ থেকে ৫-৬ ছবি রাখতে চাই। কিছু না হলেও বছর ৪ টি ছবি দেয়ার চেষ্টা করবো। প্রফেশনালি আগাচ্ছি। গল্পের কাজ চলছে। ফুল সেটআপ নিয়েছি।

এ ধরনের থ্রিলিং গল্পের ছবি বেঁছে নিলেন কেন? আপনি কি মনে করেন এটা সময়ের দাবি?
দুইটা ছবি নিয়ে আমি অনেকদিন ধরে কিন্তু ঢাকায়। সবার মধ্যে একটা সুর শুনতে পাই। প্রযোজক বলছে, ভাই এতো টাকা দিয়ে সিনেমা বানাইলে প্রফিট হবে না! এটা হচ্ছে না। ওটা হচ্ছে না। পরিবেশনা থেকে করুণ সুর। সবদিক থেকে হতাশার সুর আসছে। আমি সবসময় এটাই মানি, ”মুভি মেক ইন্ডাস্ট্রি। ইন্ডাস্ট্রি ডাস নট মেক অ্যা গুড ফিল্ম।” তাই সিনেমাই ইন্ডাস্ট্রি তৈরি করে। তাই আমি চিন্তা করি, নতুন উদ্যোমে কাজ শুরু করেছি। চেয়েছি পাসওয়ার্ডের মাধ্যমে একটা থ্রিলিং গল্পের মাধ্যমে কাজ করতে। চাইলে থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, দুবাই যেতে পারতাম। কিন্তু গিয়েছি তুর্কিতে। যেখানে প্রথম বাংলাদেশের ছবির কাজ হলো। মানুষ যেন মনে করে, এতদিন বলিউডে যা দেখেছে সেটা আমাদের দেশের ছবির শাকিব খান সেটা করে দেখালেন। এভাবেই আমি চেষ্টা করেছি এবং এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।

ট্রেলার মুক্তির পর অনেকেই বলছেন তামিল, তেলেগু থেকে ‘পাসওয়ার্ড’ কপি করা হয়েছে?
তুমি আজকে জিন্সের সঙ্গে ব্লাক কালারের টিশার্ট পরেছো দেখতে ভালো লাগছে। তোমরাটা দেখে আরেকজন পরতেই পারে! একই রঙের পোশাকে তোমাকে তোমার মতো লাগবে, যে তোমাকে দেখে পরবে তাতে তার মতো লাগবে। বিষয়টা এভাবেই বুঝতে হবে। যারা পাসওয়ার্ড ছবিকে কপি বলছে, তারা সারাজীবন চেষ্টা করলেও কপি করা মিলাইতে পারবে না। ছবি দেখার পর মনে করবে, এ কি হইলো? আমার ‘ভাইজান এলো রে’ ঈদের সময় কলকাতায় ব্যাপক চলছে। সেখানকার পত্রপত্রিকায় এই খবর এসেছে। ওই ছবি আর ‘জড়ুয়া ২’ প্রায় একই ধরণের গল্প। দেখে কেউ মনে করেছেন কপি ছবি? ভাইজানের উজান ক্যারেকটার তো জড়ুয়াতে ছিলোই না। কিছু বোদ্ধা আছেন তাদের জ্ঞান ভাণ্ডার সাগরের মতো বিশাল, তাদের কাছে কেমন লাগবে আমি জানিনা। কিছু বোদ্ধা থাকেই, যারা ভালোর মধ্যে খুঁত ধরতে যায়। আমি ওসব বোদ্ধাদের ধার ধারিনা। সালমান খানের ‘ওয়ানটেড’, ‘কিক’, ‘ডাবাং’ তো বোদ্ধাদের ছবি না। কিন্তু এগুলো সর্বমহলে প্রশংসা পেয়েছিল। পাসওয়ার্ডও তেমন হবে, দেখে নিও।

‘পাসওয়ার্ড’ কি দেশের বাইরে মুক্তি পাবে?
অনেকেই আমার সঙ্গে ইতোমধ্যেই যোগাযোগ করছেন। একসঙ্গে বিভিন্ন দেশে মুক্তির প্রসেসটা এখনও হয়ে ওঠেনি। হয়তো বাংলাদেশে মুক্তির কিছুদিন পর আরও কয়েকটি দেশে ‘পাসওয়ার্ড’ চলবে। এই ঈদে একযোগে মুক্তি দিতে না পারলেও আগামী ঈদ থেকে একসঙ্গে বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, আমেরিকায় মুক্তি দেব। সেভাবে কাজ গোছাচ্ছি।

আপনার আরেক ছবি ‘নোলক’ আসছে ঈদে। এটা নিয়ে আপনি বেশ চুপচাপ…
শোনো, ‘নোলক’ নিয়ে আমার কখনো মাথাব্যথা ছিল না। কোর্ট-কাচারি যা হচ্ছে এটা পরিচালক ও প্রযোজকের মধ্যে হচ্ছে। একজন ছবি বানিয়েছে তার থেকে ছবিটা ছিনিয়ে নিয়ে আরেকজনের নামে চালানো হচ্ছে। অধিকার নিয়ে তাদের মধ্যে ব্যক্তিগত ফাইট হচ্ছে। ‘নোলক’ তো কখনো ‘পাসওয়ার্ড’-এর প্রতিযোগী না। এক জায়গায় তিন হল থাকলে বড় হলে তো পাসওয়ার্ডই চলবে। বাকি হল খোলা থাকলে সেখানে আমারই তো ছবি। তাহলে চলে যাক। তবে যত বড় বড় হল আছে সবখানে ‘পাসওয়ার্ড’ বুকড হয়েছে বহু আগেই। রেন্টালের সমীকরণও চেঞ্জ করে দিয়েছে ‘পাসওয়ার্ড’। আর ‘নোলক’ তো ঈদের জন্য বানানো হয়নি, কিন্তু ‘পাসওয়ার্ড’ ঈদের ছবি। নোলকের নবান্নের গান রয়েছে কিন্তু পাসওয়ার্ডে রয়েছে ঈদের গান। প্রথমে আমার সঙ্গে কথা হয়েছিল ভালোবাসা দিবসে মুক্তির টার্গেট। পরে নবান্নের গান লাগালে আমি ভাবলাম ঠিক আছে চলুক তাহলে বৈশাখে। এটা নিয়ে আমি কোনো বিতর্ক চাইনি। তবে আমার দিক থেকে ‘নোলক’-এর প্রতি শুভকামনা থাকবে।

পুরাতন অনেক নির্মাতার সঙ্গে আবার আপনাকে কাজ করতে দেখা যাচ্ছে। অনেকেই মনে করেন, পুরনোরা চলতি সময়ের চাহিদা ধরে কাজ করতে পারছে না। আপনার কী মনে হয়?
মালেক আফসারীর আগের মুক্তি পাওয়া ছবিটা তো কিছু মানুষ দেখেছে। তারা এবার ‘পাসওয়ার্ড’ দেখুক। ট্রেলার দেখে মনে হয়েছে মালেক আফসারী পুরাতন নির্মাতা? পুরাতন হোক আর নতুন হোক আমার প্রডাকশনে যে কাজ করবে তার সবকিছু ঠিকঠাক থাকবে। আমার ব্যবস্থাপনায় কাজ হবে।

ছবি: রিয়াজ