চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

অবশেষে হংকংয়ের বন্দী প্রত্যর্পণ বিল স্থগিত

আন্দোলনের মুখে অবশেষে চীনের সঙ্গে বিতর্কিত বন্দী প্রত্যর্পণ বিল স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে হংকং সরকার। শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে হংকংয়ের প্রধান নির্বাহী ক্যারি ল্যাম এ ঘোষণা দেন।

বিজ্ঞাপন

এর আগে গত সপ্তাহে ব্যাপক বিক্ষোভের পরও ল্যাম বিলটি বাতিলের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে এ নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে ল্যাম জানান, বিলটি সমাজে ব্যাপক বিভক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এজন্য ‘থেমে একবার ভাবার’ জন্য সরকারের প্রতি বিভিন্ন যে আহ্বান জানাচ্ছিল সেটা শুনেই বিলটি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

‘আমাকে স্বীকার করতেই হচ্ছে, ব্যাখ্যা ও যোগাযোগের দিক থেকে বিলটিতে নানা অপ্রতুলতা রয়েছে। সবার আগে আমাদেরকে হংকংয়ের বৃহত্তম স্বার্থ- শান্তি ও শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠার বিষয়টিকে মাথায় রাখতে হবে,’ বলেন তিনি।

হংকংয়ের পার্লামেন্টে চীনপন্থী হিসেবে পরিচিত ল্যাম ও তার দলীয় আইনপ্রণেতারা বন্দী প্রত্যর্পণ আইন পাসের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। প্রস্তাবিত বিলটিতে পলাতক অপরাধীদের বিচারের জন্য চীনে প্রত্যাবাসনের বিধান রাখা হয়েছিল।

সরকারের দাবি ছিল, প্রস্তাবিত বিলটি বর্তমান আইন ও বিচার ব্যবস্থায় থাকা ‘ফাঁকফোকর’গুলো বন্ধ করে দেবে। ফলে হংকং অপরাধীদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হবে না।চীন-বন্দী প্রত্যর্পণ বিল

বিজ্ঞাপন

প্রস্তাবিত এই বিল নিয়ে আলোচনা শুরুর পর থেকেই শহরের অর্থনৈতিক কেন্দ্রস্থলটি অচল হয়ে পড়ে। পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ব্যাপক সংঘর্ষও হয়

বিলটি পাস হলে চীন রাজনৈতিক বিরোধীদের দমনে একে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছিল। কিন্তু টানা প্রতিবাদ আন্দোলনের মুখেও হংকং সরকার বিলটি পাস করাতে ছিল বদ্ধপরিকর।

এমনকি আগামী ২০ জুন হংকংয়ের আইন পরিষদ, লেগকো’তে চূড়ান্ত একটি ভোটাভুটির মাধ্যমে বন্দী প্রত্যর্পণ বিলটি পাস হওয়ার তারিখও ঠিক হয়ে গিয়েছিল।

তাইওয়ানে গত বছরের এক ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রস্তাবিত এই বিলটি তৈরি করা হয়৷

তাইওয়ানে ছুটি কাটানোর সময় অন্তঃসত্ত্বা বান্ধবীকে হত্যার অভিযোগ ওঠে হংকংয়ের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে৷ কিন্তু তাইওয়ানের সঙ্গে হংকংয়ের বন্দী বিনিময়ের কোন চুক্তি না থাকায় সেই ব্যক্তিকে এখন তাইপেতে বিচারের জন্য পাঠানো যাচ্ছে না৷চীন-বন্দী প্রত্যর্পণ বিল

প্রস্তাবিত বিলে এরকম পরিস্থিতিতে সন্দেহভাজন অপরাধীকে ফেরত পাঠানোর পথ সুগম করা হয়৷ কিন্তু চীন এই আইনের সুবিধা নিয়ে হংকংয়ের বাসিন্দাদের উপর খবরদারি বাড়াতে পারে বলে সন্দেহ থাকায় বিষয়টি সেখানে এক রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে বলে দাবি সাধারণ মানুষের৷

হংকং চীনের বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত হলেও ২০৪৭ সালের মধ্যে অঞ্চলটির স্বায়ত্তশাসনের নিশ্চয়তা দিয়েছে চীন প্রশাসন৷

১৯৯৭ সালে হংকংকে চীনের কাছে ফেরত দেয়া হয়েছিল৷