চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

অবশেষে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি নিয়ে সমঝোতায় বিশ্বনেতারা

অবশেষে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় অনেকগুলো বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছালেন বিশ্বনেতারা। এর ফলে ২০২০ সালে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি কার্যকর করা সম্ভব হবে।

বিজ্ঞাপন

পোল্যান্ডে জলবায়ু সম্মেলনে (কনফারেন্স অব পার্টিস-কপ২৪) আলোচকরা জলবায়ু চুক্তির বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়ে শনিবার সমঝোতায় পৌঁছান। শেষ মুহূর্তে কার্বন মার্কেট নিয়ে আলোচকদের মধ্যে বিবাদ দেখা দিলে বৈঠকের সফল সমাপ্তির আশা হুমকির মুখে পড়ে যায়।

এ কারণেই বৈঠকটি আরও একদিন পিছিয়ে দেয়া হয়, যা অবশেষে শনিবার অনুষ্ঠিত হলো।

আলোচনার মধ্য দিয়ে যেসব নতুন নীতিমালা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত হয়েছে সেগুলো সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কার্বন নিঃসরণ কমানোর প্রতিশ্রুতি রক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করবে বলে বৈঠকে অংশ নেয়া প্রতিনিধিদের বিশ্বাস।

পোল্যান্ডের কাটোউইসের বৈঠকে হয়েছে বলে নতুন এই সমঝোতার নাম দেয়া হয়েছে কাটোউইস সমঝোতা, যার মধ্য দিয়ে প্যারিস জলবায়ু চুক্তিকে বাঁচিয়ে রাখার পরিকল্পনা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

কাটোউইস সমঝোতার মূল লক্ষ্য হলো, প্যারিস চুক্তি অনুসারে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি বছরে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখার শর্তটি বাস্তবায়ন করা।

কপ২৪ বৈঠকের চেয়ারম্যান মিচাল কুর্তিকা বলেন, ‘প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়ন কর্মসূচিকে গুছিয়ে নেয়াটা অনেক বড় একটা দায়িত্ব। এজন্য অনেক বড় পথ পাড়ি দিয়ে এসেছি আমরা। আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি যেন কেউ বাদ পড়ে না যায়।’

প্যারিস চুক্তিতে সাধারণভাবে তুলনামূলক দরিদ্র দেশগুলোকে কিছুটা ছাড় দেয়া হয়েছে। শুরু থেকেই উন্নয়নশীল দেশগুলোর দাবি, ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক তাপমাত্রায় তারা যথেষ্ট ভূমিকা না রাখলেও সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই ক্ষতির স্বীকৃতি ও ক্ষতিপূরণ দাবি করে দেশগুলো।

অন্যদিকে এই দায় আইনিভাবে বরাবরই অস্বীকার করে এসেছে উন্নত দেশগুলো। কারণ মেনে নিলে তাদেরকে বড় অংকের বিল শোধ করতে হতে পারে। তারপরও সবাই আশা করেছিলেন, পৃথিবীর অবস্থা বিবেচনা করে এবার একটা ভালো সিদ্ধান্তে আসবেন উন্নত বিশ্বের নেতারা।

গত সপ্তাহে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমিত করার পরামর্শ দিয়ে জাতিসংঘের প্রতিবেদনকে গ্রহণ করতে একটি বৈঠক আয়োজিত হয় কপ২৪-এর অংশ হিসেবে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পৃথিবীর এই তাপমাত্রা বৃদ্ধি এখন পুরোপুরি লাগামছাড়া হয়ে গেছে। চলতি সপ্তাহে তা ৩ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের দিকে এগোচ্ছে।

তাই তাপমাত্রা বৃদ্ধির লক্ষ্য পূরণে এখন প্রয়োজন তাৎক্ষণিক, সুদূরপ্রসারী এবং নজিরবিহীন পরিবর্তন।

কিন্তু সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানী ও প্রতিনিধিদের হতবাক করে দিয়ে বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব, রাশিয়া এবং কুয়েত ওই প্রতিবেদন মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানালো। এজন্যই বৈঠক আরও একদিন পিছিয়ে আলোচনা সাপেক্ষে অবশেষে এ নিয়ে মোটামুটি সমঝোতায় এসেছে সব পক্ষ।