চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

অপারেশনের টেবিলে অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান

পর্দায় চরিত্রের প্রয়োজনে বহুবার অপারেশনের টেবিলে কাটাছেঁড়ার শিকার হয়েছেন, কিন্তু বাস্তবে খুব একটা অসুস্থ হতেই দেখা যায়নি দেশের তুমুল জনপ্রিয় অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামানকে। বাংলা চলচ্চিত্রের শক্তিমান এই অভিনেতা শনিবার দুপুর থেকে দীর্ঘক্ষণ ধরে রয়েছেন অপারেশন টেবিলে।

বিজ্ঞাপন

খবরটি চ্যানেল আই অনলাইনকে নিশ্চিত করেছেন এটিএম শামসুজ্জামানের ছোট ভাই সালেহ জামান সেলিম।

সেলিম জানান, শুক্রবার রাতে হঠাৎ অসুস্থ বোধ করেন এটিএম শামসুজ্জামান। মল-মূত্র বন্ধ হয়ে যায়। শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। রাত এগারোটার দিকে তাকে ভর্তি করা হয় রাজধানীর গেন্ডারিয়ার আজগর আলী হাসপাতালে।

শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে চ্যানেল আই অনলাইনকে সেলিম জানান, ডাক্তাররা আরো আগেই এটিএম ভাইয়ের অপারেশন শুরু করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তার অবস্থা এতোই নাজুক ছিলো যে সেলাইন দিয়ে তাকে অপারেশন করার যোগ্য করতে কিছুটা সময় চলে যায়। দুপুর দেড়টা থেকে শুরু হয়েছে তার অপারেশন।

বার্ধক্যজনিত সমস্যার পাশাপাশি শ্বাসকষ্ট, খাদ্য হজম না হওয়ার কথা বললেন সেলিম। এটিএম শামসুজ্জামানের পেটে খাবার জমা হয়ে শক্ত হয়ে গেছে। এগুলো অস্ত্রোপচার করে বের করা হচ্ছে।

সেলিম দেশবাসী ও এটিএম শামসুজ্জামানের ভক্তদের উদ্দেশ্যে বলেন, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। তার সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া চাইছি।

ষাটের দশকের শুরুতে পরিচালক উদয়ন চৌধুরীর ‘বিষকন্যা’ চলচ্চিত্রে সহকারী পরিচালক হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেন এটিএম শামসুজ্জামান। প্রথম কাহিনি ও চিত্রনাট্যকার হিসেবে কাজ করেছেন ‘জলছবি’ ছবিতে। এ পর্যন্ত শতাধিক চিত্রনাট্য ও কাহিনি লিখেছেন। প্রথম দিকে কৌতুক অভিনেতা হিসেবে চলচ্চিত্র জীবন শুরু করলেও খল অভিনেতা হিসেবেই জনপ্রিয়তা পান এটিএম।

দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত কারণে অভিনয় থেকে দূরে থাকলেও মাঝেমধ্যেই শখের বশে ছোট ছোট চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা গেছে তাকে। তার অভিনীত মুক্তিপ্রাপ্ত সর্বশেষ ছবি নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চুর ‘আলফা’। ২৬ এপ্রিল ছবিটি দেশের চারটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়।