চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

অন্যসব আবাসিক এলাকা থেকেও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সরিয়ে নেয়া হোক

বিজ্ঞাপন

রাজধানী ঢাকার অভিজাত আবাসিক এলাকা হিসেবে পরিচিত গুলশান, বনানী, বারিধারা ও ধানমন্ডি থেকে সব ধরনের অবৈধ স্থাপনা এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান আগামী ১০ মাসের মধ্যে সরিয়ে নিতে বলেছেন হাইকোর্ট। ওইসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে গত বছর রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-রাজউকের অভিযান বন্ধে ২৩৭টি রিট আবেদন হয়েছিল। বুধবার সবগুলো রিটের নিষ্পত্তি করে বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের হাইকোর্টে বেঞ্চ রায় দেন। মূলত গত বছর গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় ভয়াবহ জঙ্গি হামলার পর কূটনৈতিক জোনসহ এসব এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে গিয়ে অবৈধ স্থাপনা ও অননুমোদিত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের বিষয়টি সামনে চলে আসে। হামলার ১০ দিনের মাথায় আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির জরুরি বৈঠকে ওইসব স্থাপনা সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এরপর রাজউক রাজধানীর বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় অননুমোদিত হোটেল, হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ ৫৫২টি প্রতিষ্ঠানের তালিকা করে। এসব প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদের কার্যক্রমও শুরু করে রাজউক। কিন্তু ওই উচ্ছেদ অভিযানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান হাইকোর্টে রিট আবেদন করলে তা গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়। আমরা জেনেছি এর আগেও বিভিন্ন সময় একাধিকবার এসব এলাকার অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। ২০১৫ সালেও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিয়েছিল। এজন্য তারা ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এবং জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষকেও সহায়তা করতে অনুরোধ করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এ বিষয়ে দেশের গণমাধ্যমগুলো শত শত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তাদের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে; এসব এলাকার ৯০ ভাগ স্থাপনাই অননুমোদিত, অবৈধ। আর অবৈধ এসব স্থাপনা মূলত দেশের প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ, সাবেক আমলা আর ব্যবসায়ীদের মালিকানায় প্রতিষ্ঠিত। তাই শক্তিশালী চক্রের সাথে না পেরে বারবার পিছু হটতে হয়েছে রাজউককে। তবে শেষ পর্যন্ত উচ্চ আদালতের রায়ে বিষয়টির সুরাহা হতে যাচ্ছে। আমরা এই রায়কে সাধুবাদ জানিয়ে বলতে চাই, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই যেন ওইসব অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেয়া হয়। পাশাপাশি রাজধানীর অন্যসব আবাসিক এলাকায় এমন যত অবৈধ ও অননুমোদিত স্থাপনা রয়েছে; সেগুলোও সরিয়ে ফেলার কার্যকর উদ্যোগ নিতে রাজউকের প্রতি আহ্বান জানাই।