চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

অনন্ত স্মরণ: ‘প্রিয় স্বদেশ পাল্টে দেবো’

অনন্ত বিজয় দাশ কবিতা লিখতেন কিনা জানা ছিল না, কিংবা বলা যায় কবিতা লিখলেও সেটা চোখে পড়েনি কখনও। মূলত বিজ্ঞানভিত্তিক লেখালেখিকে প্রাধান্য দিতেন তিনি এবং বিজ্ঞানভিত্তিক লেখালেখিই কাল হয়েছিল তাঁর। নিজ বাড়ির সামনেই ধর্মীয় সন্ত্রাসীদের আক্রোশের শিকার হয়েছিলেন তিনি। এক সম্ভাবনাময় তরুণ লেখকের সম্ভাবনার ইতি ঘটে চাপাতির কোপে!

বিজ্ঞাপন

কবিতা না লিখলেও কিংবা কবি পরিচয় অপ্রকাশ্য থাকলেও মৃত্যুর অব্যবহিত পর তাঁর নামে দুই লাইন অনেকেরই চোখে পড়েছে। জানি না এটা তাঁর লিখিত কিনা! ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও হৃদ্যতা থাকার পরেও তাঁর কবিতা নিয়ে কখনও আলাপ হয় নি। আমার লেখালেখি ও কবিতা নিয়ে আলাপ-আলোচনা হয়েছে, এবং তখনই টের পেয়েছি চিন্তার গভীরতা ও বিশ্লেষণী ক্ষমতা। বিজ্ঞান লেখক ও ব্লগার এ পরিচয়ে পরিচিত ছিলেন বলে কখনও জিজ্ঞেস করা হয় নি তাঁর লেখালেখিতে কবিতা ছিল কিনা তা। ফলে তাঁর লেখালেখি নিয়ে আলোচনা কেবল সীমাবদ্ধ ছিল বিজ্ঞান বিষয়ে। ধর্ম সেখানেও স্থান পেতো। ধর্মান্ধদের নিয়ে তাঁর আর আমার ক্ষোভ একই ছিল, ধর্মান্ধদের আস্ফালনে আমাদের উদ্বেগ একই ধরনের ছিল; একই সঙ্গে ছিল রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা।

অনন্ত বিজয় দাশ ও আমি একই শহরের মানুষ হলেও তাঁর সাথে সরাসরি সাক্ষাৎ ব্লগার আসিফ মহিউদ্দিনের ওপর ধর্মীয় সন্ত্রাসীদের হামলা পরবর্তী সময়ে সিলেটে প্রতিবাদী মানববন্ধন কর্মসূচিকে ঘিরে। অবশ্য এর আগে থেকে ফেসবুকে যোগাযোগ ছিল। সে কর্মসূচির আগে আমরা একটা বৈঠক করেছিলাম সিলেটের জিন্দাবাজারে। উপস্থিত অনেকেই নানামুখী মতামত দিলেও তখন সেখানে তাঁকে দেখেছি পরিস্থিতি সামলে নিয়ে সুন্দর এ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করতে। আমি মুগ্ধ হয়েছিলাম তাঁর সে ভূমিকায়। এরপর সিলেটে সে হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছিল, ঢাকার বাইরের এমন এক আয়োজন ব্যাপক আলোচিতও হয়েছিল।

আগে থেকে সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে সিলেটে আমরা সক্রিয় থাকার কারণে প্রগতিশীলদের একটা বিরাট অংশ আমাদের প্রতি তাদের সমর্থন অব্যাহত রেখেছিল। আমাদের সে গ্রুপটির সকলেই একই চিন্তাচেতনার মানুষ হওয়ার কারণে যেকোনো পরিস্থিতিতে স্রেফ কয়েক ঘণ্টার নোটিশে আমরা রাস্তায় নেমে আসতে পারতাম। অনেকেই হয়ত দূর থেকে ধারণা করে বসে থাকেন প্রবল মৌলবাদী অধ্যুষিত অঞ্চল সিলেট এবং সেখানে প্রগতিশীলেরা রীতিমত কোণঠাসা, কিন্তু কেবল সে সব কর্মসূচিই নয়, বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে সমালোচকদের সে সব পূর্ব ধারণা আমরা ভুল প্রমাণ করে গিয়েছিলাম। ফলে অনেকবারই প্রমাণ হয়েছে মৌলবাদ নিয়ে সিলেটকে আলাদা করে দেখার উপায় নাই, বিষয়টি যেহেতু পুরো দেশের একটা ইস্যু। এবং সারাদেশের মত সিলেটেও এর বিস্তার রয়েছে, উল্লম্ফন রয়েছে।  

অনন্ত বিজয় দাশের সঙ্গে সে সাক্ষাৎ পরবর্তী সময়ে আমাদের হৃদ্যতা বেড়েছে। আলোচনার পরিধি বেড়েছে। মিথস্ক্রিয়ার কারণে আমাদের ভাবনাচিন্তার দূরত্ব যে খুব বেশি নাই, তা প্রমাণ হয়েছে। গণজাগরণ আন্দোলন আমাদেরকে আরও কাছাকাছি আসার সুযোগ করে দিয়েছিল। ফলে বিজ্ঞান লেখক অভিজিৎ রায়ের ওপর হামলার পর তাকেই আমি প্রথম সে খবরটা জানিয়ে দেওয়ার প্রথম ব্যক্তি হিসেবেই ভেবেছিলাম। ঢাকা মেডিকেলে অভিজিৎ দা’র লাশের ওপাশের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে অসহায় কণ্ঠে তাঁকেই প্রথম জানিয়েছিলাম সে দুঃসংবাদটা। এরপর ফেব্রুয়ারির শেষ দিন তাঁকে বইমেলায় উপস্থিত থাকতে দেখে উৎকণ্ঠিত স্বরে কেন ঢাকায় জিজ্ঞেস করেছিলাম, এবং তখনই জানিয়েছিলেন তিনি, বলেছিলেন,”এখনই ফিরে যাচ্ছি কবির ভাই, প্রাণের বইমেলায় অন্তত একবার না আসলে হয় না!”

বইমেলা থেকে সেদিন দিনে-দিনে সিলেটের বাসে উঠেছিলেন অনন্ত বিজয় দাশ, কিন্তু এর আড়াই মাসের মধ্যেই অভিজিৎ রায়ের মতোই ধর্মীয় সন্ত্রাসীদের চাপাতির কোপে নিহত হয়েছিলেন তিনি। তাঁর সে মৃত্যু দেশে মুক্তমনা লেখকদের হত্যার ধারাবাহিকতা সন্দেহ নেই। তাঁর আগে-পরে দেশে একই গোষ্ঠীর সন্ত্রাসীরা এরকম মুক্তচিন্তার মানুষদের হত্যা করেছে, হত্যার দায় স্বীকার করেছে। এবং লজ্জাজনকভাবে সরকার-প্রশাসন বরাবরের মত এর কোন বিহিত করে নি। ফলে খুনীরা ফের খুনে নিজেদের মনোনিবেশ করেছে। অভিজিৎ-অনন্তদের খুনের বিচার হয় নি, বিচারের মন্থর গতি অন্য অনেক খুনের পথ প্রশস্ত করছে।    

২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ধর্মীয় সন্ত্রাসীদের চাপাতির কোপে নিহত হন অভিজিৎ রায়। এরপর ওয়াশিকুর বাবুকেও একইভাবে খুন করা হয়। ১২ মে অনন্ত বিজয় দাশ নিজ বাসার সামনে একই ধরনের সন্ত্রাসীদের হাতে একইভাবে খুন হন। এরপর নিলয় নীল (নিলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় নিলয়), প্রকাশক ফায়সাল আরেফিন দীপন, সিলেটের নাজিমুদ্দিন সামাদ খুন হন। এরই মধ্যে প্রকাশক আহমেদুর রশীদ টুটুলের ওপর হামলা হয়। টুটুলের সঙ্গে আহত হন রণদীপম বসু ও তারেক রহিম। হত্যাকাণ্ডের শিকার হন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রেজাউল করিম সিদ্দিকী, সমকামীদের অধিকার বিষয়ক পত্রিকা ‘রূপবান’-এর সম্পাদক জুলহাজ মান্নান, নাট্যকর্মী তনয়। ওয়াশিকুর বাবুর ঘটনা ছাড়া আর কোন হত্যাকাণ্ডের চার্জশিট পুলিশ দিতে পারে নি, খুনীদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি, অথবা বলা উচিত পুলিশ গ্রেপ্তার করে নি।

খুনীদের পুলিশ ধরে নি এমন বলাটাই সঙ্গত কারণ কয়েক দিন আগে অভিজিৎ রায়ের পিতা শিক্ষাবিদ অজয় রায় অভিযোগ করে বলেছেন, তাঁকে চুপ করানো হয়েছে। তিনি বলেছেন, প্রথমে পুলিশ বলেছিল খুনীরা পুলিশের নজরদারির মধ্যে আছে, আবার সে পুলিশই এখন বলছে অভিজিতের খুনিরা বিদেশ পালিয়ে গেছে। এটা কেমন নজরদারি যে পুলিশের নাকের ডগা দিয়ে খুনীরা পালিয়ে যায়? পুলিশে এ পরস্পরবিরোধী বক্তব্য স্বভাবত তাদের উদ্দেশ্য নিয়েই প্রশ্নের জন্ম দেয়।

বিজ্ঞাপন

তার ওপর আছে সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশের সাংঘর্ষিক বক্তব্য। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল দাবি করে বলেছেন, ব্লগার খুনের ঘটনায় সবাই গ্রেপ্তার হয়েছে। আর ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার আসাদুজ্জামান মিঞা বলেছেন অভিজিতের খুনীরা পালিয়ে গেছে। ফলে সরকার ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে কেবল প্রশ্নের উদ্রেক করে না, একই সঙ্গে তাদের আন্তরিকতাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়। তার ওপর আছে ব্লগার, অনলাইন এক্টিভিস্ট খুনের ঘটনার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর লেখালেখি যাচাই করে দেখার মত অবিবেচক মন্তব্য। এমন পরিস্থিতিতে মুক্তচিন্তার মানুষ, মুক্তমনা লেখকদের হত্যার বিচার চাওয়া ও পাওয়ার আশা দুরাশায় পরিণত হয়।

অনন্ত বিজয় দাশ হত্যাকাণ্ডের এক বছরের মাথায় তাঁর মা পীযুষ রানি দাশ ‘বিচারের দাবি জানিয়ে কি করব’ এমনটাই বলছেন। হতাশ এক মা তখন বলে ওঠেন, ‘আরও বড় বড় মানুষের ছেলেদেরও মারল, কিছুই হল না। আমি তো নিতান্ত সাধারণ একজন। আমার ছেলে হত্যার বিচার হবে এমনটা আর আশাও করিনা’। কথাগুলো মোটেও বাস্তবতাবিবর্জিত নয়। হত্যা ও বিচার না পাওয়া যেখানে স্বাভাবিক ব্যাপার হয়ে গেছে সেখানে একজন মা এমনই তো বলবে। কারণ একজন মা’ই কেবল জানেন তিনি কী হারিয়েছেন! তিনি জানেন, এই দেশে অনেক ‘বড় বড় লোকের ছেলেরা’ একইভাবে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে, কিন্তু বিচার হয় নি।

অভিজিৎ রায়ের বাবা সারাদেশের পরিচিত এক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষাবিদ; ফায়সাল আরেফিন দীপনের বাবা একইভাবে পরিচিত। কিন্তু তাদের সে পরিচিতিও তাদের পুত্রের বিচারের গতিকে ত্বরান্বিত করতে পারে নি। তারাও বিচার হবে না বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন যেখানে সেখানে অনন্ত বিজয় দাশের মা তো নিতান্ত সাধারণ এক গৃহিণী! এত বড় বড় লোকেরা যদি পুত্র হত্যার বিচারের দাবি জানাতে জানাতে ব্যর্থ হয়ে বিচারের দাবি থেকে সরে আসতে হয় তখন পীযুষ রানি দাশ কীভাবে আশা করতে পারেন?

অজয় রায়, আবুল কাশেম ফজলুল হক, পীযুষ রানি দাশ- এদের সকলেই বিচার পাবেন না বলেই ধরে নিয়েছেন। এটাকে কি রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতা বলা যায় না? এর দায় কি সরকার কোনোভাবে এড়াতে পারে? এটা নিঃসন্দেহে রাষ্ট্রের ব্যর্থতা, সরকার-প্রশাসন এজন্যে দায়ি, কিন্তু তাদের কর্ণকুহরে এটা পৌঁছাবে না। কারণ বর্তমানে সরকার-প্রশাসন ধরেই নিয়েছে মুক্তমনা লেখক-প্রকাশকদের হত্যাই স্বাভাবিক বিষয়, তাই কোন ধরনের অনুশোচনা ছাড়াই মন্ত্রী ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ আখ্যা দিয়ে খুনিদের ধরার চাইতে খুনের শিকার ব্যক্তিদের চরিত্র হননে, দোষ খুঁজতে মরিয়া হয়ে ওঠেন। সরকারের ভূমিকা যখন এমন তখন প্রশাসন কীভাবে তাদের দায়িত্ব পালনে সৎ ও আন্তরিক হবে?

অনুমিতভাবে অনন্ত বিজয় দাশ হত্যাকাণ্ডের বিচার হয় নি, পুলিশ তদন্ত শেষ করতে পারে নি। হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে স্থানীয় পত্রিকার এক ফটো সাংবাদিক জামিনে মুক্তি পেয়েছেন, অপর দুই অভিযুক্ত জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর আবার জেলগেট থেকে গ্রেপ্তার হয়েছে, যদিও তাদেরকে বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলনকালিন নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এর বাইরে আর কোন গ্রেপ্তার নেই, চার্জশিটের খবর নেই। মূল মামলা থেকে জামিনের পর অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো নিশ্চয়ই সে পরিবারের প্রতি সুবিচার হতে পারে না! পারে কি?

অনন্ত বিজয় দাশের হত্যাকাণ্ডের এক বছরপূর্তির দিন এলাকাবাসীর উদ্যোগে সেখানে এক স্মৃতিস্তম্ভের উন্মোচন হয়েছে। এটা সারাদেশের মধ্যে এক ব্যতিক্রমী উদাহরণ, বিশেষ করে মুক্তমনা লেখকদের হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি যখন সরকার-প্রশাসন ইসলাম ধর্মের অবমাননার নামে ‘জাস্টিফাই’ করতে মরিয়া তখন সাধারণ জনগণের এ ধরনের এগিয়ে আসা উৎসাহব্যঞ্জক। এটাকে শিক্ষণীয় ব্যাপার বলে সরকার-প্রশাসনের দেখা উচিত।

অনন্ত বিজয় দাশ হত্যাকাণ্ডের এবছরে অন্য অনেক হত্যাকাণ্ডের মত সে ঘটনায় আড়ালে পড়ে গেছে। তবে অনন্ত বিজয় দাশ আমাদের মাঝে আছেন, আছেন সিলেটের বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী কাউন্সিলের সদস্যদের মাঝে, অতি অবশ্যইভাবে তাঁর বন্ধুদের মাঝে। তাঁর নামে প্রচার হওয়া দুই লাইন এখন ফিরছে সকলের মাঝে বাস্তবতা হয়ে। “ওইখানে আমিও আছি যেখানে সূর্য উদয়/ প্রিয় স্বদেশ পাল্টে দেব তুমি আর আমি বোধহয়”- এখন এটা সার্বজনীন এক পঙক্তি হয়ে টিকে আছে। কে জানে এ লাইনগুলো অনন্ত বাস্তবতা হয়ে দেখা দিবে কিনা!

“প্রিয় স্বদেশ পাল্টে দেব তুমি আর আমি বোধহয়”। এই মুহূর্তে স্বদেশে যখন মুক্তচিন্তা, মানবাধিকার ও মত প্রকাশের অধিকার চরম হুমকিতে তখন আসলেই দরকার ‘পাল্টে দেওয়ার’ এবং সেটা তুমি-আমি, আমরা মিলেই! অনন্ত বিজয় দাশ জীবদ্দশায় স্বদেশ পাল্টে যাওয়ার কিছু হয়ত দেখে যান নি, কিন্তু একজন মুক্তমনা লেখকের এলাকার লোকজন এক স্মৃতিস্তম্ভ বানিয়ে পরিবর্তনের এক বিন্দুরেখা দেখিয়ে দিয়েছেন। এই সাধারণ মানুষজনের মধ্যে ধার্মিক-নিধার্মিক অনেকেই আছে, কিন্তু তারা অনন্তের লেখালেখির বিষয় যাচাই করে দেখার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন নি। তারা জানেন, অনন্ত বিজয় দাশ একজন ব্লগার, বিজ্ঞানলেখক; সর্বোপরি একজন মানুষ। অনন্তের স্মৃতিকে অমর করে রাখতে চাওয়া এ মানুষদের মধ্যে শিক্ষিত-অর্ধশিক্ষিত-অশিক্ষিত সকলেই আছে। অনেক শিক্ষিতজনকে লজ্জায় ফেলে তারা একজন মানুষকে মানুষ হিসেবেই দেখেছেন। মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে তারা কোনো ধরনের শর্তের বেড়াজালে না ফেলে অধিকারের বিষয় হিসেবেই দেখেছেন। তাদের এ উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার, অভিবাদনের যোগ্য; একই সঙ্গে অনুসরণযোগ্যও!

প্রিয় অনন্ত, প্রিয় অনন্ত বিজয় দাশ। আমরা স্বদেশকে পাল্টাবো; এ দেশ আমাদের দিকেই তাকিয়ে আছে!

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল
আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)